ডাকসু নেতাদের ওপর ছাত্রদল কর্মীদের হামলা, দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ায় লিগ্যাল নোটিশ

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৭ PM
লিগ্যাল নোটিশ

লিগ্যাল নোটিশ © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদসহ হল সংসদের একাধিক নেতাকর্মীর ওপর শাহবাগ থানার ভেতরে হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর নেওয়ার জন্য জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক মো. যুবায়ের বিন নেছারী (এবি জুবায়ের) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে এ লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে তিনি শাহবাগ থানায় গেলে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদলের ১০০-১২০ জন নেতাকর্মী তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। সংবাদ পেয়ে মাস্টারদা সূর্যসেন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সায়েদুজ্জামান নুর আলভী ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরসহ ডাকসুর বিভিন্ন সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা সন্ধ্যা ৭টার দিকে থানায় যান।

নোটিশে আরো বলা হয়, থানায় প্রবেশের পর ছাত্রদল কর্মী জুনায়েদ আবরার নোটিশদাতাকে অর্থাৎ এবি জুবায়েরকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এসময় আলামিন, শাহ মুহাম্মাদ রুবায়েত ও সৈকত মোরশেদ তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। একই সময়ে ছাত্রদল কর্মী রাতুল ও রাদিল ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জন হামলাকারী নোটিশদাতা জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে মারধর করে। হামলা থেকে বাঁচতে তারা থানার একটি কক্ষে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও তাদের ঘেরাও করে পুনরায় আঘাত করা হয়। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তারা মেডিকেল সনদ নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

নোটিশে আরও বলা হয়, চিকিৎসা শেষে ২৬ এপ্রিল নোটিশদাতা এবি জুবায়ের শাহবাগ থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ এজাহার দাখিল করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এ প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা, পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) ১৯৪৩-এর বিধি ২৪৪(ক) এবং নারীপক্ষ বনাম বাংলাদেশ মামলার রায় উল্লেখ করে বলা হয়, আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পেলে পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে এফআইআর গ্রহণ করবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এফআইআর গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নোটিশে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, থানার ভেতরে প্রকাশ্যে আমাদের ওপর হামলা চালানো হলেও পুলিশ প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং আমরা যখন আইনগতভাবে এজাহার দাখিল করতে গেছি, তখন সেটি গ্রহণ করতেও তারা গড়িমসি করেছে, যা সম্পূর্ণভাবে আইনবিরোধী। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী কোনো আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পেলে পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে এফআইআর গ্রহণ করবে, কিন্তু তারা আইন মানছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশে, বিশেষ করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর থানার ভেতরে হামলা হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং আমাদের দায়ের করা মামলাটি অবিলম্বে গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা আইনানুগ সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।’

ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‌‌‘গত ২৬ তারিখ আমরা মামলা করতে গেলে আমাদের মামলা পুলিশ গ্রহণ করেনি। উপরের নির্দেশে তারা মামলাটি গ্রহণ করেনি। যেখানে সুস্পষ্টভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী যে কোনো আমলযোগ্য অপরাধের মামলা এফআইআরভুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য। এটা সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসন আমাদের মামলা গ্রহণ করেনি। এমনকি তাদের চোখে আতঙ্ক আমি সেদিন লক্ষ্য করেছি। পুলিশ কেন মামলা নিচ্ছে না, তারা উপরের নির্দেশে তারা ভয় পাচ্ছে এ ধরনের বিষয়গুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের থানায় আক্রমণ হয়েছে, থানা ভাঙচুর চালানো হয়েছে, সেটা নিয়ে পুলিশের মধ্যে কোনো কনসার্ন নেই।

তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি বাংলাদেশ পেয়েছিলাম, যে বাংলাদেশ পাওয়ার পেছনে আমাদের অনেকেরই ত্যাগ-তিতিক্ষা রয়েছে। সেই শহীদের রক্তে এত রক্ত ঝরল, সেই রক্ত ঝরার পরেও কোনো চেইঞ্জ, কোনো পরিবর্তন নেই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। একটা ভিকটিম, শুধু ভিকটিম নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, ডাকসু প্রতিনিধিদেরকে বর্বরোচিতভাবে ক্যামেরার উপস্থিতিতে থানার অভ্যন্তরে হামলা চালানো হলো অথচ মামলাটি নেওয়া হচ্ছে না। আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত এ বিষয়গুলো নিয়ে। আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। আমরা আশা রাখব এই পুলিশ প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা মামলাগুলো গ্রহণ করবে এবং এই দোষীদেরকে বিচারের মুখোমুখি করবে। যদি তারা সেটা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের পরিণতি এবং ফ্যাসিবাদী হাসিনা আমলের পরিণতি, হাসিনা আমলের পুলিশের পরিণতির থেকে আমার মনে হয় না ভিন্ন কিছু হবে।

সম্পর্কের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতেই ছাত্রীকে মারধর …
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
হাম ও হামের উপসর্গে ঝরল আরও ৯ শিশুর প্রাণ
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
মন্ত্রণালয় থেকে এনটিআরসিএতে ১-১২তম নিবন্ধনধারীদের ফাইল 
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
উচ্চশিক্ষায় সমন্বয় ও গবেষণা জোরদারে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে …
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে হুয়াওয়ে, আবেদন শেষ ১৬ মে
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নী…
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬