ঈদুল আযহা : কোরবানির প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

২৩ মে ২০২৬, ০২:২৯ PM
কোরবানির গরু

কোরবানির গরু © সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি ত্যাগ, সামর্থ্য ও মানবিকতারও শিক্ষা দেয়। কোরবানি সঠিকভাবে আদায় করতে হলে আগে থেকেই প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রস্তুতি। পশু কেনা থেকে শুরু করে মাংস সংরক্ষণ, সবকিছু ঠিকভাবে করতে পারলে ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও স্বস্তি থাকে অনেকটাই।

কোরবানির জন্য বাজেট ঠিক করুন—প্রথমেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করুন। শুধু পশু কেনার খরচ নয়, এর সঙ্গে যোগ হবে পরিবহন খরচ, পশুর খাবার, কসাইয়ের পারিশ্রমিক, মাংস কাটাকাটি ও সংরক্ষণের খরচ। অযথা প্রতিযোগিতায় না গিয়ে সামর্থ্যের মধ্যে কোরবানি করাই উত্তম।

সুস্থ ও উপযুক্ত পশু নির্বাচন করুন—কোরবানির পশু কেনার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। পশু যেন সুস্থ ও সক্রিয় হয়, চোখ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল থাকে, শরীরে বড় কোনো ক্ষত না থাকে, হাঁটাচলায় সমস্যা না থাকে, খুব বেশি দুর্বল বা অসুস্থ না হয়। এছাড়া,ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

পশুর যত্ন নিন—কোরবানির আগে পশুকে পরিষ্কার ও আরামদায়ক পরিবেশে রাখুন। পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি দিন। অতিরিক্ত গরমে পশুকে দীর্ঘ সময় রোদে না রাখাই ভালো।অনেক সময় বাজার থেকে আনার পর পশু ভয় বা ক্লান্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই কয়েকদিন যত্নে রাখলে পশু স্বাভাবিক হয়ে যায়।

প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন—ঈদের দিন হঠাৎ ঝামেলা এড়াতে আগে থেকেই কিছু জিনিস প্রস্তুত রাখুন। যেমন- ধারালো ছুরি ও দা, কাটিং বোর্ড বা পলিথিন, দড়ি, বড় পাত্র বা বালতি, গ্লাভস ও মাস্ক, পরিষ্কার পানি ও জীবাণুনাশক। এছাড়া ছুরি অবশ্যই আগেই ভালোভাবে ধার করা উচিত, যাতে পশুর কম কষ্ট হয়।

জবাইয়ের প্রস্তুতি—নিজে জবাই করা উত্তম। তবে নিজে জবাই করার জন্য সক্ষম না হলে, জবাইয়ের জন্য সঠিক বিশ্বাসের মুসলমান নির্বাচিত করুন। জবাই করানোর ও গোশত বানানোর পারিশ্রমিক আগে থেকেই ফয়সালা করে নিন।

পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন থাকুন—কোরবানির সময় পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করা উচিত। রক্ত ও বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলতে হবে, যাতে দুর্গন্ধ বা জীবাণুর বিস্তার না ঘটে। তাই মাংস কাটার জায়গা আগেই পরিষ্কার করে রাখুন এবং ব্যবহারের পর জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে ফেলা ভালো অভ্যাস।

মাংস সংরক্ষণে সতর্ক থাকুন—আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, গরিব-মিসকিনদের ভাগের মাংস দেয়ার পর নিজের ভাগের মাংস দীর্ঘ সময় বাইরে ফেলে রাখবেন না। ভাগ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। সংরক্ষণের সময় ছোট ছোট ভাগে আলাদা করুন, বাতাসরোধী প্যাকেট ব্যবহার করুন। ফ্রিজারে রাখার আগে অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে নিন, এতে মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

কোরবানি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দায়িত্ব ও সচেতনতারও বিষয়। পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিলে কোরবানির পুরো আয়োজন হয়ে উঠতে পারে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক।

ত্রিশালে ধরার খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্…
  • ২৩ মে ২০২৬
বাংলাদেশে প্রতিবছর গরু কোরবানি কমছে কেন?
  • ২৩ মে ২০২৬
এবারও কি গরু-ছাগলের চামড়ার দাম ৫০-১০০?
  • ২৩ মে ২০২৬
নেত্রকোনায় ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক
  • ২৩ মে ২০২৬
দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় ইউনিসেফের উ…
  • ২৩ মে ২০২৬
শিক্ষার আলো ছড়ানোয় স্বীকৃতি: ভোলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মো…
  • ২৩ মে ২০২৬