নাহিদ হাসান © টিডিসি সম্পাদিত
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে প্রতি বছর অসংখ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাড়ি জমাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ইউনেসকোর ‘গ্লোবাল ফ্লো অব টারশিয়ারি লেভেল স্টুডেন্টস’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য গেছে ৫৫টি দেশে। তাদের অনেকেই এবারও পরিবার-পরিজন ছাড়াই পালন করবেন মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব, ঈদুল ফিতর।
রমজানের দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পরও তাদের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হবে দূরদেশের মাটিতে। তেমনই একজন যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান। তিনি বিদেশের মাটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন পরিবার ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া। সেখান থেকে ছোট ঈদ স্মৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন।
নাহিদ হাসান, যুক্তরাজ্যর এডিনবার্গ ন্যাপিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ইন্টারন্যাশনাল ট্যাুরিজম ও এয়ারলাইন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়ালেখা করছেন। পরিবার ছাড়া দেশের বাইরে নিজের ঈদের অনুভূতি জানিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, প্রথমবার দেশের বাইরে, পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন—এ এক মিশ্র অনুভূতির নাম। একদিকে নতুন পরিবেশ, নতুন অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে চিরচেনা মুহূর্তগুলোর অভাব।
তিনি বলেন, ঈদের দিন সকালে ঘুম ভাঙতেই মায়ের ডাক শোনা হবে না, বাবার সঙ্গে ঈদের নামাজে যাওয়ার সেই উৎসাহ থাকবে না, কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর সেই প্রাণোচ্ছল আনন্দটাও এবার দূরে থেকে অনুভব করতে হবে। ঈদের আগের রাতেই মনে পড়ে যাবে, কীভাবে ছোটবেলায় ঈদের চাঁদ দেখলেই দৌড়াতাম—ছাদে, উঠোনে কিংবা বাড়ির গলিতে।
‘উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে সবাইকে ডাক দিতাম, চাঁদ উঠেছে! ঈদ কাল! সেই ছোট্ট মুহূর্তেই ঈদের আনন্দ শুরু হয়ে যেত। আর এবার হয়তো সেই চাঁদ দেখার মুহূর্তটাই মিস হবে’, যোগ করেন তিনি।
নাহিদ হাসান বলেন, শৈশবে ঈদ ছিল এক অন্যরকম আনন্দের উৎস—নতুন জামা পরার সেই বিশেষ মুহূর্ত। মনে পড়ে, ঈদের আগে নতুন জামা কাউকে না দেখানোর অদ্ভুত বিশ্বাস ছিল আমাদের মধ্যে। ‘নতুন জামা কাউকে দেখালে ঈদ শেষ হয়ে যাবে!’—এটাই ছিল ছোটবেলার এক চিরচেনা রীতি। আমরা সবাই জানতাম, যদি কেউ আমাদের নতুন জামা আগে দেখে ফেলে, তাহলে ঈদের আনন্দ যেন মুছে যাবে বা চলে যাবে!
আরও পড়ুন: ঈদের দিন সকালেই শুরু বৃষ্টি, কালবৈশাখীসহ ঝড়-বৃৃষ্টির পূর্বাভাস
তিনি আরও বলেন, ঈদ মানেই তো আনন্দ! ঈদ মানে শুধু কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো নয়, বরং ঈদ মানে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া, নতুনকে গ্রহণ করা, মনে খোলা হাসি ফুটিয়ে তোলা। হয়তো এবার মা ফোনে বলবেন, ‘বাবা, কী খেয়েছো? আজ যদি থাকতে…’—তখন মনটা ভারী হয়ে আসবে।
নাহিদ হাসান বলেন, আত্মীয়-স্বজনের হাসির শব্দ ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসবে, কিন্তু মনে হবে, আমি যেন দূর থেকে একটি সিনেমা দেখছি—যার চরিত্ররা খুব কাছের, অথচ আমি সেখানে নেই।
তিনি বলেন, তবে এই দূরত্ব অনুভবের মাঝেও আনন্দ খুঁজে নিতে হবে। বিদেশের নতুন পরিবেশে ঈদের দিনটা অন্যরকমভাবে উদযাপন করতে হবে। প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়া, নতুন খাবারের স্বাদ নেওয়া, কাছের মানুষদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি আনন্দ ভাগ করে নেওয়া—এসব ছোট ছোট মুহূর্তই হয়তো এবারের ঈদকে বিশেষ করে তুলবে।
হয়তো ছোটবেলার সেই নিষ্পাপ ঈদের অনুভূতি আর ফিরবে না, কিন্তু প্রতিটি ঈদই নতুন করে আনন্দ খোঁজার সুযোগ এনে দেয়। পরিবারের শূন্যতা পূরণ হবে না, কিন্তু তাদের দোয়া আর ভালোবাসা তো আছেই। তাই এই ঈদ হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা, এক নতুন উপলব্ধি—যেখানে দূরত্ব থাকলেও ভালোবাসা থাকবে ঠিক আগের মতোই। ঈদ মোবারক।