জীবনে বিসিএসই সব নয়

জীবনে বিসিএসই সব নয়
ড. মোহাম্মদ সাদিক  © ফাইল ফটো

বর্তমান প্রজন্মকে ‘প্রযুক্তি নির্ভর প্রজন্ম’ বলা হয়ে থাকে। যেখানে সবাই ব্যস্ত মুঠোফোন কিংবা ল্যাপটপে। কেউ গেম খেলছেন আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করছেন। তবে এতকিছুর মধ্যেও তরুণদের বড় একটি অংশ এখনও বই-খাতা নিয়ে পড়ে থাকেন। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে লাইব্রেরিতে ঢুকতে লাইন ধরে এই তরুণেরা। বলা হচ্ছে, তরুণদের এই লাইব্রেরি-মুখী করে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় যে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে, তা হলো— সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি।

বর্তমান প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিসিএস । বিগত পাঁচ বছরের আবেদন সংখ্যা সেদিকেই ইঙ্গিত করে। ধারাবাহিক স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় বিসিএসই যেন এখন তরুণদের একমাত্র লক্ষ্য। আর দেশের সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন পিএসসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পিএসসিকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। এর একদিন আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তার একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের স্টাফ রিপোর্টার— শিহাব উদ্দিন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ২০১৪ সাল থেকে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পথ চলেছেন। কেমন অভিজ্ঞতা?
ড. মোহাম্মদ সাদিক: সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য কিংবা চেয়ারম্যান হওয়া অনেক বড় ব্যাপার। আমি ২০১৪ সালে পিএসসিতে সদস্য হিসেবে যোগদান করি। আর ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান করা হয়। পিএসসি সব সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। দেশের লাখো বেকার তরুণ রয়েছে। তারা এই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রত্যাশা করে যে, সে তার নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবে। আমাদের দেশের মূল চাকরি দাতা হচ্ছে সরকার। আর সরকারি চাকরির একটি বড় অংশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের দ্বারা সুপারিশপ্রাপ্ত হন। পিএসসি ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার দুটোই সুপারিশ করে। এদের মধ্যে যারা ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন, তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশের এমন কোনো সচিব নেই যিনি সিভিল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হননি। এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে পিএসসির মাধ্যমে অনেকে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রত্যাশার জায়গা এটি। এখানে কাজ করা সত্যিই অনেক সৌভাগ্যের; সেই সাথে চ্যালেঞ্জেরও।

চ্যালেঞ্জের বলছি— কারণ এখানে লাখ লাখ চাকরিপ্রত্যাশী রয়েছে, এটার সঙ্গে সুশীল সমাজের লোকজন জড়িত। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় গণমাধ্যম পিএসসিকে সব সময় নজরদারিতে রাখে। চাকরি প্রার্থীদের অভিভাবকরাও এর সঙ্গে জড়িত। সব মিলিয়ে বিশাল একটা স্টেক হোল্ডার আছেন। তাদের সবার প্রত্যাশাই একটা— যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ ৪ বছরে পথচলায় আপনার অর্জন অনেক। তারপরও সংক্ষিপ্তভাবে বড় সফলতাগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।
ড. মোহাম্মদ সাদিক: গত ৫ বছরে আমার কাজের মূল্যায়ন আপনারই ভালো করতে পারবেন। তবে এটুকু বলতে চাই আমি দায়িত্ব নেয়ার পর চেষ্টা করেছি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে। পিএসসির সব সদস্যকে নিয়ে একটি টিম হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি চেয়ারম্যান বলে গাল ফুলিয়ে নিজের রুমে বসে থাকিনি। আমি অন্য সদস্যদের রুমে গিয়েছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আমাদের অফিসারদের মোটিভেট করার চেষ্টা করেছি। অনেকটা সফলও হয়েছি। সবাইকে নিয়ে কাজ করার ফলে আমরা বিসিএসের প্রশ্নফাঁস রোধ করতে পেরেছি। বিগত কয়েক বছরে আমাদের কোনোও প্রশ্ন নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। আমরা ছেলে-মেয়েদের মধ্যে স্বচ্ছতার একটা বিশ্বাস তৈরি করতে পেরেছি। বিসিএস পেতে হলে আপনাকে পড়তেই হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: সম্প্রতি বিশেষ করে গত ৪-৫ বছরে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিসিএস। নেপথ্য কারণ কী বলে মনে করেন?
ড. মোহাম্মদ সাদিক: বিসিএস জনপ্রিয় হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা। প্রিলি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ভাবে সুপারিশ করার পুরো প্রক্রিয়াটিই স্বচ্ছতার সাথে হয়ে থাকে। এখানে তদবিরের কোনো সুযোগ নেই। এর পর যদি বলি তাহলে বলবো সরকারি চাকরিতে বেতন বৃদ্ধি। ২০১৬ সালের পূর্বে যখন বেতন বৃদ্ধি করা হরেও মুদ্রাস্ফীতি ছিল অনেক বেশি। তবে ২০১৬ সাল থেকে মুদ্রাস্ফীতি হয় মাত্র ৫ শতাংশ। এর ফলে সরকারি চাকরি তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সরকারি চাকরিতে সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। এছাড়া ক্যাডার পদে যোগদান করার পর অনেকেই তাদের পরবর্তী পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে। আর তরুণরা কিন্তু বেশি দেশপ্রেমিক হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছা সব সময় বিদ্যমান। বিসিএস তাদের দেশ সেবার একটা সুযোগ তৈরি করে দেয়। এছাড়া বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে অন্যান্য সব চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতিও হয়ে যায়। মূলত এগুলোর জন্যই বিসিএস এখন এতটা জনপ্রিয়।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিসিএস ক্যাডারই হতে হবে— এমন একটা ব্যাপার অনেক চাকরিপ্রার্থী মনে গেঁথে নিয়েছেন। আপনার পরামর্শ কী?
ড. মোহাম্মদ সাদিক: আমাদের যে আর্থ-সামাজিক পরিবেশ সে হিসেবে বিসিএস ক্যাডার অত্যন্ত লোভনীয় একটি চাকরি। কারণ কেউ যদি ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তাহলে তার পাশাপাশি তার পরিবারও অনেক খুশি হয়। তবে বিসিএসই সব না। তরুণদের উদ্দেশ্যে আমি একটি কথাই বরতে চাই; বিসিএসের চেয়ে জীবন অনেক বড়। জীবনে বিসিএসই সব কিছু নয়। কেউ যদি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাও হয়, তবুও তার জন্য বিশাল পৃথিবী খোলা। সে অন্য কোথাও ভালো করতে পারে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: যে তরুণদের ভাইভায় দেখছেন তাদের মধ্যে কোন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো/ গুণাবলীর অভাব/ অনুপস্থিতি আপনাকে ভাবায়?
ড. মোহাম্মদ সাদিক: ভাইভাতে আসলে আমরা শুধু প্রার্থীর দক্ষতাই দেখি না। ব্যক্তি হিসেবে সে কেমন সেটিও পর্যালোচনা করি। একজন প্রার্থী যখন মৌখিক পরীক্ষার জন্য রুমে প্রবেশ করেন, তখন আমরা তার সব কিছুই দেখি। সে যে পছন্দ দিয়েছে সেখান থেকে প্রশ্ন করার পাশাপাশি আমরা তাকে মৌলিক কিছু প্রশ্ন করে থাকি। এছাড়া তিনি কতটা মানবিক সেই বিষয়টি বের করে নিয়ে আসতেও আমরা কিছু প্রশ্ন করে থাকি। তবে যারা আগামীতে মৌখিক পরীক্ষা দেবেন তাদের জন্য আমার একটি পরামর্শ থাকবে সেটি হলো- ভাইভা বোর্ডে বেশি চালাকি করবেন না। সততার সঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এটাই আপনার জন্য ভালো হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার আমলে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতির নানা পরিবর্তন এসেছে, এ সম্পর্কে কিছু জানতে চাই।
ড. মোহাম্মদ সাদিক: পরীক্ষার আগে আমরা একটা সেমিনারের আয়োজন করি। সেখানে যারা আমাদের সঙ্গে কাজ করেন তারাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনির সদস্যদের আমন্ত্রণ জানাই। সেখানে আমরা আমাদের কর্ম পরিকল্পনা করি। এছাড়া বিগত বছরে পরীক্ষা নিতে কী সমস্যা হয়েছিল সেটিও শুনি। যেটি আমি দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে কখনো হয়নি। এরপর আমি সব বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ডিও লেটার পাঠাই। চিঠিতে কত তারিখে পরীক্ষা হবে এবং কোন কোন কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে লেখা থাকে। এর পর বিভিন্ন এজেন্সি তাদের কাজ শুরু করে দেয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ শুরু করে।

এছাড়া পরীক্ষা নিতে এখন আমরা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছি। পূর্বে আমাদের ব্যাংক থেকে বিসিএসের ফরম নিতে হত। ফরম নেয়ার সময় আমদের একটা স্লিপ দেয়া হত। সেই স্লিপ সংরক্ষণের একটা বিষয় ছিল। এছাড়া ফরম জমা দিতে প্রার্থীকে উপস্থিত থাকতে হত। তবে এখন আমাদের শিক্ষার্থীরা অনলাইনেই সব কিছু করতে পারে। ফরম পূরণ থেকে শুরু করে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করা এবং ফলাফলও পেয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষার আগে আমরা প্রার্থীদের মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়ে দেই তারা পরীক্ষার কেন্দ্র কী কী নিয়ে আসতে পারবেন। আমরা বিভিন্ন কেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টর কিনে দেই। যেন কেউ কোনো ডিভাইস নিয়ে আসর চেষ্টা করলে সেটি ধরা পরে। আমরা প্রার্থীদের একটু কমফোর্ট চেষ্টা করি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চাকরিতে যোগদানের গেজেট— পুরো এই প্রক্রিয়া আগের চেয়ে গতিশীল। তারপরও চাকরিপ্রার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। স্থায়ী সমাধান আছে কিনা?
ড. মোহাম্মদ সাদিক: আমরা সব সময় চেষ্টা করি দ্রুততার সাথে একটি বিসিএস প্রক্রিয়া শেষ করতে। তবে আমাদের ২৬টি ক্যাডার হলেও এর মধ্যে পদ থাকে অনেকগুলো। সবগুলো পদের জন্য আমাদের আলাদা প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হয়। মডারেটর ডাকতে হয়। পরীক্ষাও ভিন্নভাবে নিতে হয়। এমনকি ভাইভাও পৃথকভাবে নিতে হয়। ওএমআর মেশিন দিয়ে খাতা দেখা হয়। ওএমআর মেশিন অনেক সময় মূলখাতা দেখতে পারে না। সেগুলো আমরা আবার বের করে চেক করি। লিখিত পরীক্ষার খাতা একজন পরীক্ষক দেখেন, সেটি আবার একজন নিরীক্ষক পুনরায় চেক করে থাকেন। ভাইভার নাম্বার ডাবল চেক করা হয়। রেজাল্ট প্রস্তুত করতে একটি কমিটি কাজ করে। প্রায় ৫ লাখ প্রার্থীর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে অনেক সময় লেগে যায়। আপনি যদি কোয়ালিটি মেইনটেইন করতে চান; তাহলে আপনাকে একটু সময় বেশি দিতেই হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিসিএস পরীক্ষা এবং পিএসসিতে কোন সংস্কার দরকার আছে কিনা? পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের আপনার প্রত্যাশা কী?
ড. মোহাম্মদ সাদিক: আমার মনে হয়— বিসিএসের কারিকুলাম আরেকটু সংস্কার করা প্রয়োজন। টেকনিক্যাল ক্যাডার পরীক্ষা আরও সংক্ষেপে কীভাবে নেয়া যায়, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। পিএসসিতেও কিছু সংস্কার প্রয়োজন। পিএসসির পাশে একটি অডিটোরিয়াম করা যেতে পারে। যেখানে ১০ হাজার প্রার্থীর পরীক্ষা এক সাথে নেয়া যাবে। এছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ে নিজস্ব অফিস করার একটি প্রজেক্ট আমরা হাতে নিয়েছি। করোনার মতো অন্য কোনো মহামারি এলেও যেন আমরা ছোট ছোট পরীক্ষাগুলো নিয়ে নিতে পারি।

পিএসসির আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়টি আরও বৃদ্ধি করা দরকার। পিএসসি একজন পরীক্ষককে কত টাকা দেবে, একজন নিরীক্ষককে কত টাকা দেবে; সেটি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে আসতে হয়। এখানে অনেক সময় লেগে যায়। কমিশন যদি এই অনুমোদনটি দিতে পারত তাহলে কাজ করতে আরো সুবিধা হত। আমার পরে যিনি দায়িত্বে আসবেন তিনি পিএসসির অসম্পূর্ণ কাজগুলো নিয়ে কাজ করবেন বলেই আমার প্রত্যাশা।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ব্যক্তি হিসেবে আপনি তরুণ বিসিএস ক্যাডার তো বটেই, অনেক শিক্ষিত যুব-সমাজেরও আইডল। আপনার ফ্যানদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন।
ড. মোহাম্মদ সাদিক: আপনি ভুল বলেছেন। আমিই তরুণদের ফ্যান। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাই, যখন তরুণদের দেখি; তখন আমার আবার তরুণ হতে ইচ্ছে করে। তরুণরা যখন দল বেঁধে লাইব্রেরিতে যায়; তখন তাদের দেখে আমি মুগ্ধ হই। তারুণ্য জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। দেশের যেকোনো তরুণের সফলতা আমাকে আনন্দ দেয়। তাদের ব্যর্থতা আমাকেও বেদনাহত করে। কমিশনের চাকরি প্রত্যাশী প্রত্যেক তরুণ-তরুণীকে আমি আমার সন্তানের মতো মনে করেছি। তরুণরা যেন নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পায় সেজন্য আমি এবং আমার সহকর্মীরা সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। আজকের তরুণদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনি থাকা অবস্থায় পিএসসি কর্তৃক বিসিএসে কত প্রার্থীকে (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে?
ড. মোহাম্মদ সাদিক: চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের ২ মে থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮১৩ জনকে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ করেছি। আর নন-ক্যাডারে সুপারিশ করেছি ৫ হাজার ৪৬ জনকে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: অবসরে কী করবেন? কোন পরিকল্পনা করেছেন?
ড. মোহাম্মদ সাদিক: চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আমি অনেক রেস্ট্রিকটেড জীবন-যাপন করেছি। এখন সেটি থেকে মুক্ত। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশন কিংবা অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় যেতাম সেখানে অনেক শিক্ষার্থী আমার সাথে ছবি তুলতে চাইত। তবে বিতর্ক যেন না হয় সেজন্য তখন ছবি তুলতে পারিনি। তবে এখন আর সেই বাধা নেই। অবসর নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে নিজের মতো করে সময়টাকে উপভোগ করতে চাই। একটু লেখালেখিও করতে চাই। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে গবেষণার কাজেও নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ধন্যবাদ স্যার। মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ।
ড. মোহাম্মদ সাদিক: আপনাকে ধন্যবাদ। ডেইলি ক্যাম্পাস পরিবারের জন্য শুভ কামনা।


মন্তব্য