সাক্ষাৎকার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার ফল ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার উদ্যোগ

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের হয়। এরপর ওই বছরের ২৭ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশিষ্ট...
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন
আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ PM

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের হয়। এরপর ওই বছরের ২৭ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। দায়িত্ব নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্কারে হাত দেন। সেই হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন সিলেবাসে টেকনিক্যাল এবং ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। 

তিনি বলেন, ‘অক্সফোর্ড এ-কিউ ওদেরকে আমি গিয়েছিলাম লন্ডনে, মিলটন কেনসে। অক্সফোর্ড এ-কিউ, এরা ও-লেভেল, এ-লেভেলের রেজাল্ট পাবলিশ করে। এলেক্সল পিয়ারসন্স এদের কাজ করে। অক্টোবরের ১ তারিখে তারা আসছে। আমাদের সঙ্গে একটা এমওইউ করবে এবং আমাদের ফ্যাসিলিটিগুলো দেখবে। অক্সফোর্ড এ-কিউ-এর সঙ্গে যদি আমরা অটোমেশনের দিকে যাই, আমাদের পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে যদি অটোমেশনের দিকে আমরা যাই, তাহলে আমরা আশা করছি সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ দিনের ভিতরে আমরা যেকোনো পরীক্ষার রেজাল্ট আমরা দিতে পারব।’

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের আড়াই বছর চলছে। সম্প্রতি তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন। এতে তিনি দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি, সংস্কার-উদ্যোগ ইত্যাদি বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পাশাপাশি তুলে ধরেন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়টির ধানমন্ডি নগর কার্যালয়ে দেয়া সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের স্টাফ রিপোর্টার মো. আবদুর রহমান

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ফল প্রকাশে অনেক সময় লাগত। আপনার আমলে ৪২–৪৭ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ হচ্ছে। এই দ্রুত ফল প্রকাশের সিস্টেম কীভাবে চালু করলেন?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: এটা হলো এজেন্ডা। আমার যদি একটা বড় প্রতিষ্ঠানে আমার নিজস্ব কোনো এজেন্ডা থাকে, আর আমি শুধু সেই এজেন্ডা নিয়ে এগোতে থাকি, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ অথবা ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ অথবা শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষা করা অনেক কঠিন ব্যাপার। আমি সবসময় চেষ্টা করব তখন আমার সেই এজেন্ডা বাস্তবায়ন। কী এজেন্ডা? যে প্রচুর পরিমাণে লোক নিয়োগ দিতে হবে এটা একটা এজেন্ডা। এবং যারাই আসছেন, প্রচুর পরিমাণে লোক নিয়োগ দিয়ে গেছে। ১ হাজার ৫০০, ১ হাজার ২০০, ৮০০ লোক নিয়োগ দিয়েছে। তাহলে এটা হলো একটা এজেন্ডা। আরও বিভিন্ন ধরনের হিডেন এজেন্ডা আছে, আমি আর সে কথাগুলো বললাম না।

সেগুলো আমরা ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে যখন আমি এখানে বসি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার একটা কমিটমেন্ট ছিল। আমাদের চোখের সামনে এতগুলো বাচ্চা মারা গেছে দেখার পরে আমাদের মনের ভিতরে একটা কাজ করছিল যে, আমরা একটু চেষ্টা করে দেখি না যে আমরা কিছু করতে পারি কি না। এত বড় একটা বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়, পৃথিবীর বিখ্যাত, পৃথিবীর ভিতরে দ্বিতীয় বৃহত্তম একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী, প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটা এই অবস্থা কেন থাকবে?

তখন আমরা প্রথম যে ধাক্কাটা খেলাম, সেটা রেজাল্ট হচ্ছিল না। এবং আমি যখন জয়েন করি, তখনও অনার্স এবং মাস্টার্সের পরীক্ষা, এলএলবি পরীক্ষা রেজাল্ট সাত মাস, আট মাস পিছিয়ে ছিল। এইটা দেখার পরে এবং মোটামুটি সবগুলো কোর্সে আমরা প্রায় ৫০টার মতো সাবজেক্ট আমাদের এখানে চলে। অনার্স-মাস্টার্স ৩১টা, বাকিগুলো প্রফেশনাল কোর্স। সেখানে দেখলাম যে কোনোটাতে আড়াই বছর, কোনোটাতে তিন বছর, কোনোটাতে দুই বছর সেশন এরকম কেন হবে? এটা নিয়ে আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে একটু কথা বলা শুরু করলাম, প্রিন্সিপালদের সঙ্গে একটার পর একটা আমাদের শতবর্ষব্যাপী যে কলেজগুলো আছে, সেই কলেজগুলোর প্রিন্সিপাল সাহেবদের সঙ্গে কথা বললাম। আরও লোকজন যারা আছে, তাদের সঙ্গে কথা বললাম, এইভাবে তো একটা বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।

তখন আমরা কতগুলো অ্যাকশনে গেলাম। এবং এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম, তখন বিভিন্ন পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ছিলাম। তখন সেই বিভিন্ন পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে তাড়াতাড়ি দিতে গিয়ে আমরা যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতাম, সেই পদ্ধতিগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহার করলাম।

যেমন একটা ১০টা সাবজেক্টে হয়তো পরীক্ষা হচ্ছে। বা ধরলাম যে চারটা সাবজেক্টে পরীক্ষা হচ্ছে একটা কোর্সে, অনার্সে। আমি এক নম্বর সাবজেক্টের পরীক্ষাটা হয়ে যাওয়ার পরে, এই যে কোর্স নম্বর ওয়ান হয়ে যাওয়ার পরেই খাতাটা সঙ্গে সঙ্গে ডিস্ট্রিবিউট করে দেওয়া শুরু করলাম। তাকে বললাম, আমাকে এতদিনের ভিতরে খাতা জমা দিতে হবে। একটা গ্রুপ, একটা টিমকে আমরা সেখানে নিয়োগ বললাম, একদম প্রধান পরীক্ষক থেকে ধরে একদম শেষ পর্যন্ত আমাকে এতদিনের ভিতরে খাতাটা আনতে হবে।

দ্বিতীয় পরীক্ষা যখন হলো, দ্বিতীয় পরীক্ষার খাতাটা আসা মাত্র আমরা দ্বিতীয় পরীক্ষার খাতাটা ডিস্ট্রিবিউট করা শুরু করে দিলাম। তৃতীয় পরীক্ষা যখন হলো, তৃতীয় পরীক্ষার খাতাটা আসা মাত্র আমরা শুরু করে দিলাম। এই ডিস্ট্রিবিউট করা শুরু করে দিলাম। এইভাবে চতুর্থ পরীক্ষা যখন শেষ হলো, তখন দেখা গেল যে আমার প্রথম পরীক্ষার খাতা, যেটা আমি পাঠিয়েছিলাম, সেটা ইভালুয়েট হয়ে অনেকটা আসা শুরু করে দিয়েছে। তো এখানে আমি একটা সময় কমিয়ে ফেললাম। একটা স্ট্র্যাটেজি। আরেকটা স্ট্র্যাটেজি হলো, প্রধান পরীক্ষক যারা থাকেন, উনাদের একটা মোটিভেশনের সমস্যা ছিল। উনারা ভালো মানুষ, ট্রেইনড এবং উনারা সমাজে নামীদামি মানুষ, কলেজের প্রিন্সিপাল, একটা সাবজেক্ট হয়তো ২০-২৫ বছর ধরে পড়াচ্ছেন। কিন্তু মোটিভেশনের একটা সমস্যা ছিল। তাদেরকে আমরা উদ্বুদ্ধ করার জন্য, স্যার, আপনাকে এত তারিখের ভিতরে আমার খাতা তো দিতেই হবে। তো এটা মুখে বলেই শেষ করে দেইনি। একটা টিম ওনাদের পিছনে অ্যাড করে দিলাম। যত পরীক্ষা হচ্ছে, সব পরীক্ষার আলাদা আলাদা। আমাদের কয়েক হাজার প্রধান পরীক্ষক, তাদের পিছনে আমরা একটা টিম দিয়ে দিলাম।

তো রেজাল্ট আসা শুরু হলো। দ্বিতীয় কথা হলো, রেজাল্ট আসার পরে আমাদের এখানে বসে থাকত আইসিটিতে। একটু সময় লাগত। সেখানে আমরা দেখলাম, ইচ্ছা করলে আমি সেখানে ওয়ান মান্থ আমি টাইম কাট করতে পারি। আমার প্রথম যে খাতার বান্ডেলটা আসলো, প্রথম পাঁচ লাখ খাতা, সে পাঁচ লাখ খাতা আমি আইসিটিতে সঙ্গে সঙ্গে স্ক্যান করা শুরু করে দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে রেজাল্ট ঢুকানো শুরু করে দিলাম। সেকেন্ড পত্র আসার জন্য অপেক্ষা করছি না। প্রথম পত্র শেষ করে দিচ্ছি। কারণ আমার তো চার-পাঁচ লাখ ছেলেমেয়ে। এইভাবে আইসিটিতে দেখা গেল যে, আমরা একটা এই আমরা মাঝখানে এখানে কমিয়ে আনলাম। তারপরে আসলো তৃতীয়। তৃতীয়তে দেখা গেল আরেকটা স্ট্র্যাটেজি আমরা নিলাম। দেখা গেল, কোনো কোনো খাতাতে বা কোনো কোনো জায়গাতে একটু প্রবলেম দেখা দিচ্ছে। তার রোল নম্বর ঠিকমতো লিখে নাই বা আরেকটা সমস্যা আছে, তার অ্যাড্রেস ঠিকমতো আসে নাই, কোড নম্বরটা ঠিকমতো আসে নাই। সেটার জন্য আগে লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা করত, সেগুলো ঠিকঠাক করে তারপরে সব ফাইনাল রেজাল্ট দিবে।

আমরা বললাম, এরকম যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, ওগুলোকে আলাদা করেন। আমার পাঁচ লাখ ছেলেমেয়ের ভিতরে যদি আমার ২ হাজার খাতাতে সে ধরনের সমস্যা থাকে, এটার জন্য আপনি বসে থাকবেন না। এটাকে আলাদা করেন করে আপনি ৪ লাখ ৯৮ হাজার খাতা, আপনি রেজাল্ট, আপনি তাড়াতাড়ি করে প্রসেস করেন। তারপরে রেজাল্ট যেদিন আমি দিব, সেদিন গিয়ে দেখা গেল, আমার ২০০ ছেলেমেয়ের রেজাল্ট ঠিকমতো হচ্ছে না। মানে কোথাও না কোথাও একটা ঘাটতি আছে। এখন ২০০ ছেলেমেয়ের জন্য আমার পাঁচ লাখ ছেলেমেয়ের রেজাল্ট বসে থাকবে। আগে এখানে বসে থাকত চার সপ্তাহ, পাঁচ সপ্তাহ, ছয় সপ্তাহ, এক মাস, দেড় মাস। এগুলো সব কারেক্ট করে তারা একসাথে তারা দিবে।

আমরা এখন করলাম কী, যে না, আমাদের ২০০ জনের জন্য বসে থাকলে লাভ হবে না। আমি রেজাল্ট দিয়ে দেওয়ার কথা ৪০ দিন, ৪২ দিন, ৪৫ দিন। আমি রেজাল্ট দিয়ে দিব। আমি রেজাল্ট দিয়ে দিচ্ছি এবং রেজাল্ট দিয়ে রেজাল্টটা সিজিপি কাউন্ট করার আগেই আমরা ওই ২০০ যারা প্রবলেম ছিল, তাদেরগুলো আস্তে আস্তে সলভ করে দিয়ে সিজিপিএ কাউন্টের আগে দেখা যাচ্ছে, বাকি ২০০ যারাটা প্রবলেম দেখা দিয়েছিল, সেটাকে আমরা কারেকশন করে সেটা দিয়ে দিচ্ছি। এটা একটা। 

আরেকটা হলো, আমাদের স্টাফদের ভিতরে যারা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে কাজ করে, তাদেরকে আমরা একটা টার্গেট দিয়ে দিচ্ছি। সবাইকে আমরা একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ভিতরে নিয়ে আসছি। এনে তাদেরকে একটা টার্গেট দিয়ে দিচ্ছি, আমরা এত তারিখের ভিতরে আমি এই রেজাল্টটা চাচ্ছি।

এই জায়গাটাতে আরও মডারনাইজেশন আসতেছে। অক্সফোর্ড এ-কিউ ওদেরকে আমি গিয়েছিলাম লন্ডনে, মিলটন কেনসে। অক্সফোর্ড এ-কিউ, এরা ও-লেভেল, এ-লেভেলের রেজাল্ট পাবলিশ করে। এলেক্সল পিয়ারসন্স এদের কাজ করে। অক্টোবরের ১ তারিখে তারা আসছে। আমাদের সঙ্গে একটা এমওইউ করবে এবং আমাদের ফ্যাসিলিটিগুলো দেখবে। অক্সফোর্ড এ-কিউ-এর সঙ্গে যদি আমরা অটোমেশনের দিকে যাই, আমাদের পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে যদি অটোমেশনের দিকে আমরা যাই, তাহলে আমরা আশা করছি সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ দিনের ভিতরে আমরা যেকোনো পরীক্ষার রেজাল্ট আমরা দিতে পারব।

অক্সফোর্ড এ-কিউ ভারতে আসছে। ওরা ভারতে দুইটা সেন্টার করেছে। ভারতের বড় বড় পরীক্ষাগুলো আমাদের হাতে ওরা নিয়ে গিয়েছে। আমাদের এখানে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে শুরু করি। পরবর্তীতে বোর্ডগুলো, এসএসসি, এইচএসসি, অন্যান্য বড় পরীক্ষাগুলো যেগুলো আছে, সেগুলো তারা সহযোগিতা তাদের কাছ থেকে নিতে পারে। একটা ইনভেস্টমেন্টের প্রয়োজন আছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। বিদেশি দাতা সংস্থাদের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি আগামী ছয় মাস অথবা এক বছরের ভিতরে আমরা রেজাল্ট ১৫-২০ দিনের ভিতরে দিতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: দ্রুত পরীক্ষার রেজাল্ট দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা কি কম নম্বর পাচ্ছেন?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: রেজাল্টে যে মার্কসটা দেওয়া হয়েছে, সেটা সঠিক মার্কস কি না। আরেকটা প্রক্রিয়াতে আমরা দেখেছি যে, তারপরেও যদি কেউ মনে করেন যে আমার অন্যায় হয়েছে, তাড়াতাড়ি করেছে। আমি পাশ করার কথা, আমি ফেল করে গেছি। আমার এ প্লাস পাওয়ার কথা, আমি বি পেয়েছি। যদি কেউ মনে করেন, তাহলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেছি।

পুনঃনিরীক্ষণ আর পুনঃমূল্যায়ন এক জিনিস না। নিরীক্ষণ হলো মার্কটা ঠিকমতো দিল কি না, কাউন্ট করল কি না এটা দেখা। আর পুনঃমূল্যায়ন হলো যে, আমি সন্তুষ্ট না। আমি পুরো খাতায় আবার আরেকজন শিক্ষককে দিয়ে আমরা দেখাচ্ছি। এবং সেখানে দেখা যাচ্ছে যে মোটামুটি একটা সংখ্যক ছেলেমেয়ের রেজাল্ট পরিবর্তন হয়েছে। যেমন ৬০ হাজার ছেলেমেয়ে পুনর্মূল্যায়নের জন্য অ্যাপ্লাই করেছিল গত কয়েকদিন আগে একটা কোর্সে। সেখানে দেখা গেছে যে ৫ হাজার-৬ হাজার ছেলেমেয়ে সেখানে তারা আবার একটা গ্রেড পেয়েছে। তার মানে, ওইটা কেউ যদি মনে করে, আমি ডিপ্রাইভড হয়েছি, তাহলে তার এই পথটা আমাদের এখানে খোলা রেখেছি। এবং এই জায়গাটাতে আমরা খুব স্ট্রিক্টলি মনিটর করছি।

যাতে কোনোভাবে ছেলেমেয়েরা তাহলে রেজাল্টে আগে ৮০-৯০% রেজাল্ট হয়ে যেত অনার্স-মাস্টার্সে। পাস কোর্সে পাশের হার গত দুই বছর থেকে এটা ৬০, ৬২, ৬৩% চলে আসছে। গতবারও ছিল এরকম ৬৩-৬৪%। এইবারও আসছে ৬২ শতাংশ। এবং এটা আমরা মনে করছি যে এটাই আসলে আসল ধারা। পাশের ধারাটা এটাই। এবং আমরা মনে করছি যে বাকি যারা ফেল করছেন, তারা আরেকটা পরীক্ষা দিবেন, আবার পরীক্ষা দিয়ে আবার পাশ করবে। ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই। পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় গ্যারান্টি দেয় না যে সে অনার্স, মাস্টার্স, পাস কোর্স, ল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স পাশ করে বের হবে। এটা কেউ কোনো গ্যারান্টি দেয় না।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: এলএলবি পরীক্ষার ফি কমিয়েছেন। অনার্স বা ডিগ্রি কোর্সের ক্ষেত্রেও কি ফি কমানোর কোনো পরিকল্পনা আছে?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফির ব্যাপারে আমরা একটা ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে অবস্থান করছি। এখন এই মুহূর্তে ২০১৫ সালের পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষার ফি বাড়ানো হয়নি। প্রায় এক যুগ হয়ে গেছে। তখনকার সময়ে যে টাকা দিয়ে, যে ডলার দিয়ে আমরা জিনিসপত্র কিনতাম, আমরা কাগজপত্র, আমাদের বিভিন্ন প্রিন্টার কিনতাম, সেটা অলমোস্ট তিন ডাবল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার ফি কিন্তু আর বাড়ানো হয়নি। এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রান্টস কমিশন থেকে অথবা সরকারের মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি কোনো ধরনের কোনো দান, অনুদান অথবা গ্রান্ট পায় না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চলে তার নিজস্ব ইনকামে। ছাত্রছাত্রীদের যে ফি দেয়, সে ফি থেকে যে ইনকামটা হয়, সেটা দিয়ে পরীক্ষা ম্যানেজমেন্ট করতে গিয়ে যে পরীক্ষা হয়, সেটা থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চলে। এবং এ থেকে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিমাণ টাকা সরকারকে আবার ট্যাক্স এবং ভ্যাটও দিতে হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বহুবার চেষ্টা করেছে ট্যাক্স-ভ্যাট এটা এক্সেম্পশন পাওয়ার জন্য। যেহেতু একটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, যেহেতু সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পায় না, সরাসরি কোনো সহায়তা পায় না। অন্যভাবে সহায়তা আছে। যেমন আমাদের শিক্ষকদেরকে তারা বিল্ডিং করে দিচ্ছেন, এমপিও দিচ্ছেন, সেগুলো দিচ্ছেন সেটা ঠিক আছে। কিন্তু সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের কাছ থেকে টাকা পায় না। এরকম একটা অবস্থার ভিতরে আমরা আসার পরে দেখেছি যে ফিগুলোর পরিমাণ যে এত কম, যার জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যে কোয়ালিটি এডুকেশনটা আমরা চাচ্ছি বা কোয়ালিটি মেনটেন করতে চাচ্ছি, সেটা পারছি না। যেমন শিক্ষকদেরকে আমরা যে পরিমাণ টাকা দিচ্ছি খাতা চেক করার জন্য, সেই পরিমাণ টাকা দিয়ে একজন ভালো শিক্ষক খাতা দেখতে ইন্টারেস্টেড হন না। যে পরিমাণ টাকা দিচ্ছি আমরা মডারেশনের জন্য, প্রশ্ন করার জন্য, বই তৈরির জন্য। সেই পরিমাণ টাকা আজকের যে বাজার, সে বাজারে যে মূল্যস্ফীতির কথা যদি চিন্তা করি বা সবকিছু মিলিয়ে যদি চিন্তা করি, সেটা পরিমাণ খুবই নগণ্য।

আমি একদিকে কোয়ালিটি এডুকেশন চাচ্ছি। একদিকে সার্টিফিকেটের মান বাড়াতে চাচ্ছি। আমি একদিকে স্কিল এডুকেশনের কথা বলছি। আবার অন্যদিকে আমি যদি শিক্ষকদেরকে যথেষ্ট পরিমাণে সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারি, কলেজগুলোকে যদি যথেষ্ট পরিমাণে সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারি, তাহলে তো আমি সেই কোয়ালিটিটা আমার পক্ষে এনসিওর করা সম্ভব হবে না। এইরকম একটা অবস্থার উপরে ভিত্তি করে আমরা গতবার এই কোন কোন জায়গাতে ১০, ২০, ৫০ টাকা করে আমরা কোন কোন জায়গাতে একটু বাড়িয়েছিলাম। এখন আপনার এইবার আমাদের যে ল পরীক্ষাটা হচ্ছিল, সেই ল পরীক্ষাটা আমরা একটা ফি রিভাইজ করেছিলাম। এটার পরিমাণ যদিও তারা বলছে যে অনেক, আসলে কিন্তু অনেক না।

একটা উদাহরণ হিসেবে বলি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের একটা ল ডিগ্রি, দুই বছরের একটা ল গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০-১২ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। আপনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কোথায় আছে? কোন বিশ্ববিদ্যালয়টা আছে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক ইউনিভার্সিটি আছে, যেখানে এই ১০০ ডলারের নিচে, মানে অলমোস্ট এরাউন্ড ৫০ ডলার ছিল আগে, এই দুই বছর আগে যে বছরে ২৫ ডলার দিয়ে আপনি বলবেন যে আপনি ডলার হিসাব করছেন। তা আমার জিনিসপত্র তো সব ডলার কিনতে হচ্ছে। তাহলে আপনি বছরে ৩ হাজার টাকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফি পাচ্ছেন, আরেক বছরে ৩ হাজার, ৬ হাজার টাকা দিয়ে আপনার এল পরীক্ষা দিয়ে পাস করে বের হয়ে যাচ্ছে।

কলেজগুলো চার্জ করে তাদেরকে ৫০০ টাকা বেতন, চার্জ করে ১০০০-১৫০০ টাকা বেতন চার্জ করে কলেজগুলো, ল কলেজগুলো এবং বিভিন্ন ধরনের ফি চার্জ করে। সেগুলো যদি সেটা সেখানে এক ধরনের বিরাট সমস্যা ছিল। আমরা সেই জায়গাটাতে একটা স্ট্রাকচারে নিয়ে আসছি। যে কলেজগুলো এর বেশি পরিমাণে বেতন চার্জ করতে পারবে না, এর বেশি পরিমাণে উন্নয়ন ফি দাবি করতে পারবে না। তাও যদি আমাদের হিসাব করেন, যে কলেজের চার্জ যত বেশি নেক না কেন, সব মিলিয়ে ওই ২৫০-৩০০ ডলার বা ৩০-৩৫ হাজার টাকার বেশি কোনো সময় হয় নি।

এরকম অবস্থার ভিতরে আমরা এইবার একটু ফি বাড়িয়ে আমরা দুই বছর ১২ হাজার টাকা মত খরচ নিচ্ছি। সেটা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-কথাবার্তা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এটা ফি কিছুটা কমানো হয়েছে। পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তো কোনো গ্যারান্টি দেয় নাই বা কোনো রাষ্ট্র অথবা কোনো সরকার কোথাও গ্যারান্টি দেয় নাই যে আমি আমার জনগণকে আমি এলএলবি ডিগ্রি দিব, রাষ্ট্র এটার দায়িত্ব নেবে। খরচের দায়িত্বটা রাষ্ট্র দেবে এটা পৃথিবীর কোথাও নাই। বা আমি অনার্স-মাস্টার্স পড়ব, আমার ছেলে-মেয়েদেরকে সেটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র কখনো উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেয় না। সেটা মানবাধিকারের কথা বলি আর বেসিক হিউম্যান রাইটসের কথা বলি, শিক্ষা নিয়ে অধিকারের কথা বলি। সেটা আপটু সেকেন্ডারি। কোথাও কোথাও হায়ার সেকেন্ডারি। আপনি ক্লাস এইট পর্যন্ত ফ্রি পড়াতে পারেন। এরপরে আপনি এসএসসি আমাদের মতো দেশে কোনো কোনো দেশে এইচএসসি পর্যন্ত, ১৮ বছর পর্যন্ত ফি পড়ানো হয়। এরপরে যে ছেলেটা উচ্চশিক্ষায় যাবে, সেটা তো প্রিভিলেজ। হায়ার এডুকেশন অলওয়েজ প্রিভিলেজ। আমি সেখানে যার যেমন যোগ্যতা আছে, সে যোগ্যতা অনুযায়ী সে পড়াশোনা করবে এবং সে যোগ্যতা অনুযায়ী সে যাবে।

রাষ্ট্র, সোশালিস্ট কান্ট্রিগুলো, যেগুলো সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো অথবা ইউরোপের অথবা অস্ট্রেলিয়া কোনো কোনো জায়গাতে ওয়েলফেয়ার স্টেট। তারা অনেকে মনে করে যে বাচ্চাদেরকে তো পয়সা তারা চার্জ করছে না। বরং তারা প্রচুর পরিমাণে পয়সা চার্জ করে, তার কাছ থেকে সরাসরি নিচ্ছে না। কিন্তু তাকে হায়ার এডুকেশন স্কিমের ভিতরে এড করে তার কাছে পুরা টাকাটাই লোন হিসেবে রেখে দিচ্ছে। চাকরি পাওয়ার পরে মান্থলি তার এখান থেকে কেটে নিচ্ছে, হায়ার এডুকেশন স্কিম, হায়ার এডুকেশন লোনের মাধ্যমে। আমরা এই জায়গাটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে আমরা কোনো একটা কয়েকটা ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের সাথে কথা বলি, তাদেরকে একটা শিক্ষা লোন বা এই যে কী আমরা তার ব্যবস্থা করতে পারি কি না সেই জায়গাটাতে চেষ্টা করছি। কিন্তু এখন একটা বাচ্চা অনার্স-মাস্টার্স করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অথবা ল ডিগ্রি পাস করতে অথবা কম্পিউটার সায়েন্সে পাস করতে অথবা পাস কোর্সে পাস করতে যে পরিমাণ ফি দিচ্ছে, এই ফি দিয়ে কোয়ালিটি এডুকেশন মেনটেইন করা খুবই কঠিন কাজ।

এবং আমাদের আরও ঝামেলা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যেহেতু নিজেরা ম্যানেজ করি, আমাদের যে বেতনটা ছিল, এখন সরকারের বেতন বৃদ্ধির কারণে আমাদের বেতনটাও ডাবল হয়ে যাচ্ছে। আবার আমাদের এখানে প্রায় ১০০০-এর মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চাকরি হারিয়েছিল, তারা অ্যাপিলেট ডিভিশনের রায় নিয়ে তারা জয়েন করেছেন। তাদের বেতনটাও ডাবল হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই আগামী সময় থেকে একটা খুব ক্রাইসিস টাইমের ভিতরে যাচ্ছে। যে আমরা শুধু বেতন-ভাতা খাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ টাকা আসবে, তাতে হয়তো আমাদের কোনো কোনো জায়গাতে ফি-টা আবার রিভাইজ করতে হবে। সেটা নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ের সাথে বসব, সেটা নিয়ে আমরা সরকারের সাথে বসব। আমরা কী করতে পারি, কতটুকু করতে পারি, কোন কোন সহযোগিতা পেতে পারি। সরকার এই জায়গাটাতে আমাদেরকে সহযোগিতা করছে এবং পলিসিগত সাপোর্ট যেটা দেওয়া দরকার মন্ত্রণালয় থেকে, সেটা উনারা দিচ্ছেন। এবং উনারা আমাদের সাথেই একসাথে মিলে আমরা মোটামুটি এই জায়গাটাতে কাজ করছি। তবে ফি রিভিশন ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ালিটি এডুকেশনের টাকাটা তো কোথাও না কোথা থেকে আসতে হবে। সেই জায়গাটা আমাদেরকে একটু অ্যাড্রেস করতেই হবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনি আসার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান সিলেবাস কতটা কার্যকর এবং এতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: আমাদের অনার্স-মাস্টার্সে ৩০-৩১টা, প্রফেশনাল কোর্সগুলো মিলিয়ে আমাদের যে সমস্ত সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটগুলো আছে, ল কলেজ, বিএড কলেজ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ যেগুলা, তারপর এই যে আমাদের গার্লস কলেজ, পারফর্মিং আর্ট কলেজ, সংগীত কলেজ যেগুলা আছে এবং এগুলা সবগুলো মিলে প্রায় ৫০টার মতো কোর্স আমাদের সেখানে আছে। আমি বারবার বলছি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সিলেবাস আছে, সিলেবাসে কোনো কাজ হবে না। এই সিলেবাসে এই এইচটিজি যদি আমি অর্জন করতে চাই, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল যদি অর্জন করতে চাই। শিক্ষাক্ষেত্রে যদি আমি কোয়ালিটি এডুকেশন আনতে চাই। আমি যদি স্কিল ওয়ার্কফোর্স বাড়াতে চাই, স্কিল বাংলাদেশ করতে চাই। সরকারের যে সমস্ত এজেন্ডাগুলো আছে, যে এজেন্ডাগুলো নিয়ে আমরা এগচ্ছি। সরকারের যে নির্বাচন ইশতেহারগুলো আছে, সে নির্বাচন ইশতেহারের শিক্ষা নিয়ে যে কথাবার্তাগুলো আছে, সেই জিনিসগুলো নিয়ে যে এগাচ্ছে। অথবা সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এবং যে মাননীয় উপদেষ্টা মাহাদী আমিনসহ যারা আছেন, সবাই মিলে যে টার্গেটটা দিয়েছেন আমাদেরকে, সেটা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।

এই সিলেবাসটা এটা চিন্তাভাবনা করে, এটা দেখে আমরা আসার পরেই সিলেবাস সংস্কার কাজে হাত দিয়েছি। আপনারা শুনে খুশি হবেন আমরা বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা-যন্ত্রণার পরেও আমাদের তো বড় ধরনের একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জটা ছিল ২৪-এর পরে আমাদের এই প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদেরকে ব্যাক করে আনা, ক্লাসমুখী করা, ক্লাসে ফিরিয়ে আনা, পরীক্ষা পরীক্ষাতে বসানো। পরীক্ষাতে দিতে চাচ্ছিল না, অটো পাস চাচ্ছিল। এত বড় একটা চ্যালেঞ্জ যে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে ক্লাসে ফিরিয়ে আনা। আপনারা জানেন, অটো পাস নিয়ে অনেক আন্দোলন হয়েছে সেখানে এবং সেখানে আমার উপরে প্রচণ্ড প্রেসারও করা হয়েছে। তো আমরা তো অটোপাশে আমরা অ্যাগ্রি করি নাই। 

প্রায় ২৫০০ কলেজে গভর্নিং বডি রিকনস্ট্রাক্ট করা, নতুন করে তৈরি করা। আগের গভর্নিং বডি বাতিল করে দেওয়া হলো গত ইন্টেরিম গভমেন্টে। ২৫০০ কলেজে আবার নতুন করে গভর্নিং বডি দেওয়া এবং সেই গভর্নিং বডি যাতে সাংঘাতিক রকমের পলিটিসাইজ না হয়, সেজন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, নামকরা... পলিটিক্সের সাথে জড়িত, কিন্তু দেখা গেল যে উনি একজন ব্যারিস্টার, পলিটিক্সের সাথে যুক্ত আছেন। কিন্তু দেখা গেল যে উনি একজন ডাক্তার, পলিটিক্সের সাথে যুক্ত আছেন। কিন্তু দেখা গেল উনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সারা বাংলাদেশের সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, কয়েকশ শিক্ষককে আমরা বিভিন্ন কলেজের গভর্নিং বডিগুলোতে আমরা দিয়েছি। আপনি ঢাকা শহরে দেখবেন, বড় বড় কলেজগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আছেন। পলিসি মেকিং লেভেলে অনেক আছেন। এদেরকে ফিরিয়ে আনা, কলেজে কলেজে গভর্নিং বডি ঠিক করা, প্রিন্সিপাল এবং ভাইস প্রিন্সিপালদেরকে নিয়ে একটা মানে লঙ্কাকাণ্ড। 

এই জিনিসটা আমরা বারবার বলার চেষ্টা করছি। ২৪-এর পরে ২৫-এর পুরোটাই আমাদের কেটেছে যে এই মানে প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপালকে কলেজে এই যে প্লেস করা। কোনো কোনো প্রিন্সিপাল পালিয়ে গেছে, কোনো কোনো প্রিন্সিপালকে জোর করে পদত্যাগপত্র নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রিন্সিপালের হদিস নাই। কোনো কোনো প্রিন্সিপাল দেখা যাচ্ছে যে এত পলিটিক্সের সাথে ইনভলভ হয়ে গেছিলেন। তো উনাকে ঢুকতে দিচ্ছে না। কলেজে ঢুকতে দিচ্ছে না। এখন কারো বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, সেই অভিযোগকে সুরাহা করা যায়। কিন্তু একদম ঢালাওভাবে যদি আমি এই শিক্ষকদেরকে যদি আমি কলেজ থেকে বের করে দিই, প্রিন্সিপালকে বের করে দেই, তো মহামুসিবতের কথা। এই সবকিছু সমাধান করে আমাদেরকে ২৫০০ কলেজে গভর্নিং বডিগুলো ঠিক করা, প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপালকে ঠিক করা, শিক্ষকদেরকে ক্লাসমুখী করা এইটা করার পরে সিলেবাসের কাজটা আমরা ধরেছিলাম।

আপনারা শুনে খুশি হবেন আমাদের মত প্রায় ৪০০-এর মতো আমরা সিলেবাস এখন পর্যন্ত এই সংস্কার করতে পেরেছি। আমাদের আরও প্রায় ৩৬০০ প্লাস ৩৬০০ সিলেবাস আমাদেরকে সংস্কার কাজে হাত দিয়েছে এবং সেই কাজগুলো আমরা শুরু করেছি। বিভিন্ন ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্টদেরকে এখানে ইনভলভ করে, আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একদম ফুলি ইনভলভ করে, বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্কশপ, সেমিনার, ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ করে নতুন করে সিলেবাসকে ওবিই ফ্রেমওয়ার্কে এনে এবং এটাকে আউটকাম বেসড করা, ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ককে যাতে সাপোর্ট করে, সে ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের ভিতরে সিলেবাসগুলোকে আনা এবং এসডিজি এবং সরকারের অন্যান্য যে ন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশন, টার্গেট আছে, পলিসি আছে, সেই পলিসিগুলোকে যাতে সে অ্যাড্রেস করতে পারে, সেই জায়গাটাতে আনা।

সরকারি নির্বাচন ইশতেহার এবং শিক্ষা নিয়ে যে সরকারের স্কিল বাংলাদেশ, সেই জায়গাগুলোতে আনা—সেইগুলা নিয়ে আমরা এখন এই কাজ শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি যে মোটামুটি এখন যেহেতু কলেজের পরিবেশগুলো একটু মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে। আগামী এক বছরের ভিতরে আমরা প্রায় ১০টা টিম করা। অলরেডি কাজ শুরু করেছে কয়েকটা টিম। ১০টা টিম করে আমরা এই জায়গাটাতে ফুল রিভিশনে যাচ্ছি। যে মানে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কী পড়াচ্ছে এই কোর্সগুলোতে, ইন্টারন্যাশনালি বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় কী পড়াচ্ছে, বাংলাদেশের ভিতরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী পড়াচ্ছে, আমরা কী পড়াচ্ছি।

এটার সাথে সাথে আমাদের আরেকটা সমস্যা ছিল প্রায় ৩৪ বছরের বিশ্ববিদ্যালয়, কোনো টেক্সট বই নাই। বই প্রচুর, কিন্তু কোনো টেক্সট বই নাই। যে সরকারি আসছে, সেই সরকারি বন্দনা করে প্রচুর বই লেখা হয়েছে। বিভিন্ন ফান্ড চ্যানেলাইজ করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোতে ছেলেমেয়েদের কোনো কাজে আসে নাই। আমার ফিজিক্সের বই নাই। আমার কেমিস্ট্রির বই নাই। আমার ইংরেজির বই নাই। আমার সোশিওলজির বই নাই। আমার ইকোনমিক্সের বই নাই। সেই জায়গাগুলোতে ল-এর একটা ভালো টেক্সট বই নাই। যার জন্য ছেলেমেয়েরা সব হলো এই যে নীলক্ষেতমুখী এবং সব হলো বিভিন্ন ধরনের গাইড বইভিত্তিক পড়াশোনা। এই জায়গাটা থেকে বের হয়ে এসে আমরা একটা বই লেখার একটা প্রজেক্ট, প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২৭ জন লেখক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বড় বড় শতবর্ষী কলেজের শিক্ষকরা আমাদের কাছে উনারা ইন্টারেস্ট শো করেছেন। যে ম্যানুস্ক্রিপ্ট জমা দিবেন পাঠ্যবইয়ের। এবং সেই পাঠ্যবইটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেশ কয়েকটা প্রতিষ্ঠানের সাথে জয়েন্ট কলাবোরেশনে করবে।

এর ভিতরে আমরা বাংলা একাডেমির সাথে এমওইউ সাইন করে, পিআইবির সাথে এমওইউ সাইন করেছি। আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে এমওইউ সাইন করেছি। আমরা আশা করছি যে আগামী ৬ মাসের ভিতরে আমরা অন্ততপক্ষে ১০ থেকে ১৫টা বই সরাসরি পাঠ্যপুস্তক হিসেবে আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে উপহার দিতে পারব।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কবে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং এবার কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা আসার পরে দেখলাম একটা বিশ্ববিদ্যালয়, সে ছেলেমেয়েদেরকে অনার্স-মাস্টার্স সার্টিফিকেট দিচ্ছে এবং সে পাস কোর্স এবং অন্যান্য প্রফেশনাল কোর্সের সার্টিফিকেট দিচ্ছে। কিন্তু কোনো ভর্তি পরীক্ষা নাই এবং এটা একটা স্কোরিং করা হচ্ছে। একটা তার রেজাল্ট যেটা আছে এসএসসি এবং এইচএসসিতে সেটাকে এভারেজ করে একটা রেজাল্ট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে যেটা দেখতে পেয়েছি, যে মেয়েটা ফিজিক্স পড়তে চায়, সে পেয়ে গেছে হয়তো ইতিহাস। অথবা যে বাচ্চাটা একটা সাবজেক্ট পড়তে চায়, কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে চায়, সে হয়তো দেখা গেল পেয়ে গেছে সামাজিক বিজ্ঞানের কোনো একটা সাবজেক্ট।

এরকম একটা অবস্থার ভিতরে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাদের একটু সেনসিটিভিটি আছে। ভর্তি পরীক্ষা সারা দেশব্যাপী ৫০০ উপজেলা, ৬৪টা জেলায় আমার ভর্তি পরীক্ষা হবে। সেটা একটা বিশাল বড় ম্যানেজমেন্ট। সবথেকে বড় এসএসসি—এসএসসির মতো একটা বড় ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা পারব কি না। আমরা অনেকগুলো মিটিং করার পরে, ব্রেইনস্টর্মিং করার পরে আমরা দেখলাম যে আমরা পারব। আমরা ইনশাআল্লাহ দুইটা ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছি, সফলভাবে নিয়েছি। 

ছেলেমেয়েরা খুশি এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। এবং এতে একটা জিনিস হয়েছে যে ছেলেমেয়েরা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে তার ভিতরে একটা সেন্স অব বিলংগিংনেস। যে আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আগে মনে করত যে আমি একটা বোর্ডে জিজ্ঞাসা করলে বলত কোথায় যাচ্ছ? বলে গাজীপুর বোর্ডে যাচ্ছি। এখন বলার চেষ্টা করছে যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি। আর সেন্স অব বিলংগিংনেস, তারপরে তার যে একটা প্রাইড। যখন আমার বড় বড় কলেজের সেন্টারে ভর্তি পরীক্ষা হয়, আপনারা দেখবেন যে হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা আসছে ভর্তি পরীক্ষা দিতে, তাদের বাবা-মা আসছে, একটা উৎসবমুখর পরিবেশে এ ভর্তি পরীক্ষাটা হচ্ছে। এখানে মেরিটটা এমনভাবে যাচ্ছে যে যেটা পড়তে চাচ্ছে, তার একটা চয়েস, সেটা সুযোগটা পাচ্ছে এবং জেনুইনলি পাচ্ছে, তার স্কোরের উপরে ভিত্তি করে।

আমরা আশা করছি আগামীতে ভর্তি পরীক্ষা চলবে। আমাদের অন-ক্যাম্পাসেও ভর্তি পরীক্ষা ছিল না। এখানে আমরা ভর্তি পরীক্ষা চালু করেছি। তবে আমাদের এবার বড় ভর্তি পরীক্ষাটা চেষ্টা করব গুচ্ছের আগে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকে নেওয়া যায় কি না? গুচ্ছটা হয়তো মার্চের দিকে নিতে পারে। গুচ্ছ যদি মার্চের দিকে নেয়, আমরা চেষ্টা করব জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দিকেই আমাদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নিতে। 

এবারের ভর্তি পরীক্ষায় খুব বেশি একটা পরিবর্তন হবে না। আগের মতোই প্রশ্ন থাকবে। তবে প্রিপারেশন নিতে হবে। যদি ভালো কলেজ চান, ভালো সাবজেক্ট যদি চান এবং আপনার ভালো ক্যারিয়ার যদি করতে চান, তাহলে আপনাকে মোটামুটি ভালো প্রিপারেশন নিয়ে পরীক্ষায় বসতে হবে। এবার অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রিপারেশন নিয়েই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: ছয় বছর পর কলেজ র‌্যাংকিং প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কবে নাগাদ প্রকাশ হবে এবং কোন কোন বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: আমরা কলেজ র‌্যাংকিংয়ে যে অনেকদিন পর্যন্ত কলেজ র‌্যাংকিংটা বন্ধ, আমরা একটা কেপিআই করেছি কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর। সে কেপিআই, সার্ভেটা আমাদের শেষ হয়ে গেছে। রেজাল্ট আমাদের সামনেই আছে। আমরা জাস্ট একটু রিভিউ করছি, আবার ফাইনাল একটা রিভিউ করছি। আশা করছি যে খুব শীঘ্রই আমরা ন্যাশনাল লেভেলে বেস্ট পারফর্মিং কোন কলেজগুলো আছে, সেগুলো আমরা দিতে পারব। এখানে বিশেষত শিক্ষক এবং ছাত্রদের রেশিও, তাদের ল্যাব ফ্যাসিলিটিস, তাদের ক্লাস ফ্যাসিলিটিস, তাদের শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং পারফরম্যান্স, কলেজের ছাত্রদের পারফরম্যান্স, তাদের সিজিপি পারফরম্যান্স, আমরা যে অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছি বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড দিলাম কয়দিন আগে, ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড সেগুলাতে তাদের পার্টিসিপেশন।

সবকিছু মিলিয়ে তাদের লাইব্রেরি এবং তার প্রায় ২০০র মতো, ১৫০র মতো প্রশ্ন। সেই কেপিআই, কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর, সে যে সার্ভেটা, সেই সার্ভে থেকে যে রেজাল্টটা আসতেছে, সেই রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে তার সার্বিক পরিবেশ, খেলার মাঠ আছে কি না, তারপরে শিক্ষার্থীদের অডিটোরিয়াম আছে, ভালো অডিটোরিয়াম আছে কি না, মেয়েদের জন্য সমস্ত ফ্যাসিলিটিজ আছে কি না, স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিজ আছে কি না, তাদের জার্নাল আছে কি না, বইয়ের সংখ্যা কত—ইত্যাদি ইত্যাদি সবকিছু মিলে একটা পারফরমিং ইন্ডিকেটরের উপরে ভিত্তি করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: সার্টিফিকেট নিতে শিক্ষার্থীদের এখনো গাজীপুরে আসতে হয়। ভবিষ্যতে কি কলেজ থেকেই সার্টিফিকেট পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আসি, তখন আমাদের আঞ্চলিক কেন্দ্র ছিল ছয়টা। এখন আমাদের ইতিমধ্যে আমরা আসার পরে আরও ছয়টা বাড়িয়ে ১২টা আঞ্চলিক কেন্দ্র করেছি। আমাদের মূল টার্গেট হলো প্রতি দুই জেলায় একটা করে আঞ্চলিক কেন্দ্র করে ৩২টা আঞ্চলিক কেন্দ্র করা। আমাদের আরেকটা টার্গেট হলো ডিভিশনাল লেভেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস করা। শুধু আঞ্চলিক কেন্দ্র না, আটটা ডিভিশনে যদি আমরা আটটা ক্যাম্পাস করতে পারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, সেই ক্যাম্পাসভিত্তিক আমাদের অনেকগুলো কোর্স ক্যাম্পাসভিত্তিক পরিচালিত হবে। কলেজগুলো, কলেজগুলোর মতো ক্যাম্পাস, যে আঞ্চলিক ক্যাম্পাসটা হবে, সেই ক্যাম্পাস থেকে আমাদের কলেজগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আঞ্চলিক ক্যাম্পাসগুলোতে আমাদের প্রফেশনাল কোর্সগুলো চলবে এবং আঞ্চলিক ক্যাম্পাসগুলো যদি হয়, সেখানে সমস্ত ফ্যাসিলিটি যেগুলো গাজীপুরে আসে, সেই ফ্যাসিলিটিজগুলো সেই জায়গাটাতে যাবে।

আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী এক বছরের ভিতরে পেপারলেস করার চেষ্টা করছি। দেখি যে আমরা একটু পেপারলেস করতে পারি কি না। অলরেডি বেশ কিছু জায়গাতে আমরা পেপারলেস হয়ে গেছি। আমরা ই-নথিতে প্রায় ৬০শতাংশ ই-নথি হয়ে গেছে। ইলেকট্রনিক নথি হয়ে গেছে। বাকিটা আমরা চেষ্টা করছি যে এটাকে একদম এই পুরাটাকে আমরা ই-নথিতে নিয়ে যাওয়ার একটা চেষ্টা করছি। আপনারা জানেন যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হলো ক্যাশলেস ক্যাম্পাস। আমাদের এখানে কোনো ক্যাশ হ্যান্ডেল হয় না। আমরা এটাকে আর ছোটখাটো দুই-একটা জায়গাতে এসে জায়গাগুলো আমরা একদম ১০০ শতাংশ ক্যাশলেসের দিকে চলে যাই। সবই তো ব্যাংকিং চ্যানেলে হয়।

আমরা এখন শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট তোলার জন্য অথবা বিভিন্ন নাম কারেকশনের জন্য যেভাবে আসতেছে, আগে যে অবস্থা ছিল, এই অবস্থা থেকে কিন্তু অনেক উত্তরণ হয়েছে। এখন নাম কারেকশনের জন্য, কলেজের ট্রান্সফারের জন্য, টিসির জন্য অথবা এই যে সার্টিফিকেট তোলার জন্য অনলাইনে কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারো সাথে কোনো যোগাযোগ করতে হয় না। কিন্তু ওই যে একটা মাইন্ডসেট আমাকে একটু যেতে হবে, একটু কথা বলতে হবে, কোনো একজন অফিসার সেটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। কারণ মানুষ যত বেশি আসবে, যত বেশি কন্টাক্ট হবে, পারসন টু পারসন যত বেশি কন্টাক্ট হবে, সেখানে বিভিন্ন ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ থেকে যায়। আমরা সেই জায়গাটাতে অ্যাড্রেস করছি।

আমরা আশা করছি যে আগামী কিছুদিনের ভিতরে, সার্টিফিকেট তোলার জন্য অথবা নাম কারেকশনের জন্য অথবা কলেজে টিসি নেওয়ার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গাজীপুরে আসতে হবে না। আমাদের সার্টিফিকেটের জন্য, সেটা প্রফেশনাল হোক আর ফাইনাল হোক, আমরা ক্যাম্পাসে যাতে আর আসতে না হয়। এক কথায়, ছাত্র এবং শিক্ষকদের, সারা বাংলাদেশের ছাত্র এবং শিক্ষকদেরকে শুধু মডারেশনের পার্টটা ছাড়া, প্রশ্ন করা ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গাজীপুরে যাতে আসতে না হয়, সেদিকে আমরা হাঁটছি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন কবে নাগাদ আয়োজন করা হবে?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন জানুয়ারি মাসের ২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ। আমরা একজন নামকরা ব্যক্তিকে আমাদের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আনতেছি। এবং এটা এরপর থেকে কন্টিনিউয়াস যাতে হয় সেটা নিয়ে আমরা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা অধ্যক্ষ সম্মেলন নিয়েও আগাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ হয়েছে, চিঠিপত্র দিয়েছি। অধ্যক্ষ সম্মেলনটা হয়তো এর ভিতরে ডিসেম্বরের ভিতরে আমরা করতে পারব বলে আমরা মনে করি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপনি সাক্ষাৎকার করেছেন। সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেছি। রাষ্ট্রপতি আমাদের অভিভাবক, আমাদের চ্যান্সেলর। রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগতভাবে গত অনেকদিন থেকে আমাদেরকে গাইড করছেন। উনি মুরুব্বি হিসেবে গাইড করেন। উনি উপদেশ দেন এবং মুরুব্বি হিসেবে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান রাষ্ট্রপতি করে দিয়েছেন। আমি সেটা বলতে চাই না এখানে। কিন্তু উনার সহযোগিতা ছিল এবং সবসময় ঝামেলা-যন্ত্রণা হলেই দেখা গেছে যে উনি অল্প কিছুক্ষণের ভিতরে আমাদেরকে সেই সমাধানটা করে দিয়েছেন। তো পলিটিক্যাল সাপোর্টটা আমাদের দরকার ছিল। আমরা খুবই আনন্দিত এবং খুশি যে বাংলাদেশে বিরাজমান যতগুলো পলিটিক্যাল পার্টি আছে, এখন এই মুহূর্তে যারা আছে, তারা সবাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নে আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন গত দুই বছর এবং এখনো করে যাচ্ছেন।

সবাইয়ের ভিতরে মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিষয়টা আলাদা করে বলতে হয়, যেহেতু উনি আমাদের সরাসরি মুরুব্বি। এবং উনার সাথে আজকে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষত স্কিল বাংলাদেশ, কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকদের ট্রেনিং, বড় বড় বিল্ডিং না বানিয়ে ছাত্র এবং শিক্ষকদেরকে আমরা কীভাবে তাদের কোয়ালিটি এনসিওর করতে পারি এবং শিক্ষকদের ট্রেনিং কীভাবে বাড়াতে পারি, ছাত্রদের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে বাড়াতে পারি, ল্যাব ফ্যাসিলিটিগুলো কীভাবে আমরা বাড়াতে পারি। আমাদের পারফর্মিং আর্ট কলেজগুলো মাত্র দুইটা, সংগীত কলেজের সংখ্যাও কম। আমরা চাচ্ছি ৬৪টা জেলায় অন্তত একটা করে পারফর্মিং আর্ট কলেজ করা যায় কি না জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে, যেখানে বাচ্চারা মিউজিক শিখবে, ডান্স শিখবে, ডিপ্লোমা থাকবে, যেখানে মিডিয়া স্টাডিজ থাকবে, সবকিছু থাকবে সেগুলো নিয়ে আমাদের লম্বা আলোচনা হয়েছে। আমরা আমাদের পারফরম্যান্সে স্যার জানেন যে আমরা প্রায় এর ভিতরে ৪৫, প্রায় ৫০ লক্ষ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। আমরা এর ভিতরে এই গত দুই বছরে স্যার এই জিনিসগুলো জানেন এবং উনি খুবই খুশি হয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফরম্যান্সে।

আমরা যে সমস্ত এমওইউগুলো করছি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে, আমরা যে অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম চালানোর উদ্যোগ নিয়েছি, আমরা বাচ্চাদের জন্য আমরা অনলাইন মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডাটা অ্যানালিটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি এবং ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারসহ ফরেনসিক সেন্টার করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আছে অলরেডি। তা আমাদের এখানে ছিল না। আমরা এগুলো করতে যাচ্ছি। এগুলো শুনে স্যার খুব খুশি হয়েছেন এবং আমাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এছাড়াও আপনারা জানেন যে গত জুনের ৭ তারিখে চায়না বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন। সেখানে আমরা সরকার এবং রাষ্ট্রের কাছে কতগুলো কমিটমেন্ট করেছিলাম। সরকারের যে নির্বাচন ইশতেহার, সেই নির্বাচনী ইশতেহারের মেজর কতগুলো বিষয়, সেই বিষয়গুলো আমরা অ্যাড্রেস করেছি।  এর ভিতরে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ। আমরা থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন কলেজে আমরা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব অলরেডি খোলা শুরু হয়ে গিয়েছে এবং কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা ম্যান্ডারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান এবং আরবি এই এই ল্যাঙ্গুয়েজগুলো দিয়ে আমাদের কাজটা প্রথমত আমাদের কাজটা শেষ হয়েছে।

লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস প্রোগ্রামের আওতায় আমরা সারাদেশে কয়েক লক্ষ বাচ্চাকে নিয়ে অলরেডি জেলা পর্যায়ে স্পোর্টস এবং কালচার প্রোগ্রাম শেষ হয়েছে। এখন ডিভিশনাল পর্যায়ে চলছে। ন্যাশনাল পর্যায়ে সেটা আসবে। আর আমাদের ক্যাম্পাসগুলোকে গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তরিত করার জন্য, সোলার এনার্জিতে রূপান্তরিত করার জন্য আমরা একটা চেষ্টা করছি।

রাষ্ট্রের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো, সরকারের সেই জায়গাটাতে অ্যাড্রেস করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা উপদেষ্টা সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের গাইড করছেন, আমাদেরকে পলিসি সাপোর্ট দিচ্ছেন। একসাথে মিলে আশা করছি আমরা আগামীতে একটা ভালো অবস্থানে যেতে পারব।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: রেজাল্ট প্রকাশের পর ওয়েবসাইটে নানা সমস্যা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট পেতে অনেক সময় লাগে। এ বিষয়ে আপনারা কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের যে আইটি, আইসিটি সেকশন, এটা সাউথ এবং সাউথইস্ট এশিয়ার লার্জেস্ট। কিন্তু এটা এখন এসে মনে হচ্ছে যে এটা দিয়ে কাজ হবে না। এজন্য আমাদের আইটি সেক্টরে এবং আমাদের ক্যাপাসিটি, আমাদের যে ডাটা ক্যাপাসিটি আছে, সেটা বাড়ানো লাগছে। আমাদের যে সার্ভার, সেই সার্ভারের ক্যাপাসিটি আমাদের বাড়ানো লাগছে। আমাদের বিভিন্ন ধরনের ফায়ারওয়াল আছে, সেগুলো সুরক্ষিত আছে। কিন্তু আরও ভালো ফায়ারওয়াল লাগছে। যেহেতু ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থীদের ডাটা না, শুধু কোটি কোটি শিক্ষার্থী যারা পাশ করে বের হয়ে গেছে, প্রায় ১ কোটির উপরে আমাদের অ্যালামনাই আছে। ইএমএস, এক্সাম ম্যানেজমেন্ট সেন্টার সিস্টেমে আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। ইএমএস ১০ মিনিটের ভিতরে আমরা ঢাকাতে বসে খবর পেয়ে যাচ্ছি যে কত পারসেন্ট ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করল অথবা করল না। এবং এক্সাম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটার এফিকেসি রেট ৯৮ শতাংশ।

আমরা একটা এলএমএসে যাচ্ছি, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। সেখানে আমাদের প্রচুর স্পেস দরকার। ছাত্রছাত্রীরা একসাথে যখন হিট করে, একসাথে তার রেজাল্টটা জানতে চায়, তখন দেখা যায় আমাদের সার্ভার কিছুটা স্লো হয়ে আসে। এটা সব জায়গাতেই হয়, বোর্ডেও হয়, সব জায়গাতেই হয়। তবে আমরা সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে গত কয়েক মাস ধরে আমরা বুয়েটের সাথে একটা টিমের সঙ্গে কথা বলেছি। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইইউটি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি এই চারটা প্রতিষ্ঠান মিলে আমাদের আইসিটির এই জায়গাতে কোন কোন জায়গাতে আমাদের সার্ভারের পরিমাণ বাড়ানো দরকার, ক্যাপাসিটির পরিমাণ দরকার এটা মোটামুটি শেষ পর্যায়ে আমরা এই ফাইনাল স্টেজে আছি।

সেখানে আমরা আশা করছি যে ডিসেম্বর নাগাদ আমরা আমাদের এখন যে স্পেস আছে, যে স্পিড আছে সেটা বাড়াতে পারবো। একই সাথে কলেজগুলোকে আমরা একই সার্ভারের সাথে কানেক্টেড করতে পারবো। আমরা নতুন সিম দিচ্ছি সবগুলো কলেজকে উইথ হাই স্পিড ইন্টারনেট। এটা অলরেডি করা হয়ে গেছে। এই হাই স্পিড ইন্টারনেটসহ সিম দেওয়া হয়ে গেছে। এখন হাই স্পিড ইন্টারনেট এবং আমাদের এই যে ক্যাপাসিটিটা যেটা আছে, সেটা আশা করছি যে ডিসেম্বর নাগাদ আমরা এটা আমরা বাড়তে পারব। এটা নিয়ে আমরা দাতা সংস্থার সাথে কথা বলছি। সরকারের সাথে কথা বলছি। আমাদের নিজস্ব কিছু রিসোর্স যদি লাগে, সব মিলিয়ে আমাদের এখানে একটা ইন্টারভেনশন লাগছে। আশা করছি ২২ ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি সমাধান করতে পারব।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? এ ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: বাংলাদেশের এখন যে শিক্ষা ব্যবস্থা, এটাতে কিছু হবে না। এমডিজিতে আমাদের সাকসেস কোন কোন জায়গাতে ভালো ছিল। এসডিজিতে আমরা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এসডিজিতে আমরা এমনভাবে পিছিয়ে পড়েছি, যেটা একদম মানে চিন্তার বাইরে। আমরা এসডিজিতে কিন্তু অনেক পিছিয়ে পড়েছি। এখন যে শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের এখানে আছে, আমরা বছরে সাড়ে সাত লাখ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করি। এই গ্র্যাজুয়েটদের ভিতরে আমাদের টেক গ্র্যাজুয়েটসহ সব মিলিয়ে স্টেম সায়েন্স, টেকনোলজি, এডুকেশন এখানে আমাদের এখনো ১৮, ১৯ ও ২০ শতাংশ। ভারতে এটা প্রায় ৩৫ শতাংশ। এইটাকে যদি স্টেম এডুকেশনের দিকে নিতে হয়, এটাকে যদি আমাকে টেকনিক্যাল এডুকেশনের দিকে নিতে হয়, তাহলে সরকার যে এখন একটা প্ল্যান নিয়ে আগাচ্ছে এবং এটা এবার থেকে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি থেকে ধরে। এবং আগামী বছরের নতুন চারটা বই আসতেছে। ২০২৮-এ গিয়ে হয়তো ৩৬০ ডিগ্রি চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। সিলেবাসটা একটা ভালো দিকে সরকার আগাচ্ছে।

এখন যদি আপনি বর্তমান অবস্থাটা বলেন, তাহলে এটার পুরা চেঞ্জ দরকার। এই প্রাইমারি এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে অনেক লো।
আমরা যে ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করছি, তাদেরকে বাইরে গিয়ে আবার পড়াশোনা করতে হচ্ছে। আমরা যে মেডিকেল, মেডিসিনের যে ডিগ্রি দিচ্ছি, বাইরে গিয়ে তাকে আবার পড়াশোনা করতে হচ্ছে। আমরা যে নার্সিং পড়াচ্ছি, তাকে বাইরে গিয়ে আবার পড়তে হচ্ছে। আমরা যে অনার্স-মাস্টার্স দিচ্ছি, সেটাতে বাইরে গিয়ে কোথাও কিন্তু কেউ কোনো চাকরি পায় না। তাকে কিন্তু আরেকটা ডিগ্রি করে সেখানে কাজ করতে হচ্ছে।

সেই ডিগ্রিটা যদি আমি এখানেই দিতে পারতাম। সেই প্রফেশনাল ট্রেনিংটা আমাদের সাথে দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাক্রেডিটেশন কমিটি, এজেন্সি যারা আছে, যারা ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ফ্রেমওয়ার্ক কন্ট্রোল করে, যারা একটা সার্টিফিকেট দিলে পরে, যার সিভিল সাপোর্ট থাকলে পরে, আমার একটা বাচ্চা অস্ট্রেলিয়া মাইগ্রেশনে অ্যাপ্লাই করতে পারবে, কানাডাতে মাইগ্রেশনে অ্যাপ্লাই করতে পারবে, ইউকেতে গিয়ে একটা জব পাবে সেই জায়গাগুলোতে কাজ হয় নাই। এটা তো একটা গেল যে হায়ার এডুকেশন। এবং তারপরে আপনারা দেখবেন ফরমাল, ইনফরমাল, নন-ফরমাল, তারপরে আপনার এই যে এরাবিক সব মিলিয়ে এই জায়গাগুলোতে একটা মেজর চেঞ্জ আনা দরকার।

আমাদের এখানে আলিয়া মাদ্রাসা এবং কওমি মাদ্রাসাগুলো আছে, সেই জায়গাগুলোতেও মডার্নাইজেশনের নামে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছে। এই এক্সপেরিমেন্ট থেকে বের হয়ে এসে একটা সঠিক শিক্ষা নীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন। এখন দেখলাম যে উনি বুঝতে পেরেছেন যে এই শিক্ষা ব্যবস্থাটা দেওয়া হবে না, যে এ প্রাইমারি, এ সেকেন্ডারি, এ হায়ার সেকেন্ডারি এটা দেওয়া হবে না। সিরিজ অব বৈঠক উনি করেছেন এবং শিক্ষামন্ত্রী একদম মোটামুটি ভালোভাবে জানেন আসলে আমাদের প্রবলেমগুলো কোন জায়গাটাতে। আপনি যত কিছুই বলেন না কেন, যাই আলোচনা করেন না কেন, আমাদের যে শিক্ষামন্ত্রী, উনি কিন্তু মোটামুটি জানেন যে কোন জায়গাগুলোতে প্রবলেমগুলো হচ্ছে। স্কুলে হোক, কলেজে হোক, মাদ্রাসাতে হোক, উচ্চশিক্ষায় হোক। এখন কীভাবে অ্যাড্রেস করবেন সেই জায়গাগুলো। এটা একটা হারকিউলিয়ান টাস্ক।

হিমালয় সমান। এদিকে ধরা হচ্ছে, আবার আরেকদিকে বাড়তেছে। যাদের শিক্ষা উপদেষ্টার গাইডলাইন এবং আমরা প্রায়ই মিটিং করি। আগে থেকেই মিটিং করতাম। বহুদিন আগে থেকে আমরা একসাথে মিটিং করতাম। উনাদের গাইডলাইন আমাদের সাথে আছে। আমরা উনাদের কাছ থেকে শিখছি। উনারাও আমাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের যে শিক্ষা ব্যবস্থাটা এখন যেটা আছে, সেটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের তো নাই। সেটা আশেপাশের দেশগুলোর সাথে কমপিট করার মতো না। সরি টু সে, ইভেন আপনি এই পড়াশোনাটা
এখন মনে হচ্ছে নেপালের সাথে কম্পিট করতে পারছি না। ভারত তো বাদ। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা তো বাদ দেন। শ্রীলঙ্কা তো অনেক বেটার। এই যে পড়াশোনার এই জায়গাটাতে, ভারতের যতগুলো বড় বড় প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে যেভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড় করাচ্ছে বা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে যে কোর্সগুলো পড়ানো হয়, সেখানে যে লেভেলের ক্রিটিক্যাল থিংকিং, যে লেভেলের এক্সপার্ট তৈরি করা হয়, সেটা আমরা পারছি না। নেপাল আমাদের পিছনে ছিল, ভুটান আমাদের পিছনে ছিল। এখন দেখা যাচ্ছে যে নেপাল আমাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।

এরকম একটা অবস্থার ভিতরে আমি কী কথাগুলো বলছি, আমাদের শিক্ষাবিদ যারা আছেন, দেশের নামিদামি শিক্ষাবিদ যারা আছেন, বড় বড় প্রফেসর যারা আছেন, সুশীল সমাজের অংশ যারা আছেন, শিক্ষা নিয়ে যারা কাজ করেন, আশা করি উনারা বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি। অনেকেই বুঝতে পারেন, কিন্তু বলেন না। কোথায় কী হচ্ছে, সেই জিনিসটা কিন্তু উনারা জানেন।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আপনাদের বর্তমান পরিকল্পনা কী? শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার যারা পিএইচডি করবে ফুলটাইম, তাদেরকে আমরা গবেষণা ভাতা বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করেছি। যারা এমফিল করবে ফুলটাইম, তারা সাত থেকে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা তারা বৃদ্ধি পাবে। এই জায়গাটাতে আমরা একটা চেঞ্জ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে এমফিল, পিএইচডি করা যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা সেন্টারের আন্ডারে এমফিল করা যাচ্ছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো মাস্টার পাবলিক হেলথ শুরু করতে যাচ্ছে, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ শুরু করতে যাচ্ছে। এবং রেসপন্স খুব ভালো। যেহেতু একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ন্যাশনাল লেভেলে তার এই সমস্ত কোর্স ডাইভার্সিফিকেশনের দরকার ছিল এবং কোর্স ডাইভার্সিফিকেশন হচ্ছে।

আমাদের এখানে গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা মোটামুটি জিরো। যদি আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, সেই জায়গাটাতে আমরা কলেজের সমস্ত বাংলাদেশে প্রায় সবগুলো কলেজে আমরা গবেষণার প্রস্তাব আহ্বান করেছি। কোনো ব্যক্তি, কোনো প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, লেকচারার যদি গবেষণা করতে চান, তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রপোজাল পাঠাতে পারেন। দলবদ্ধভাবে পাঠাতে পারেন, এককভাবে পাঠাতে পারেন। বার্নিং ইস্যু নিয়ে আপনারা গবেষণাপত্র আপনারা পাবলিশ করতে পারেন। সব মিলিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটা প্যারাডাইম শিফটের দিকে যাচ্ছে। এবং দেশবাসী এবং যারা আছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত, আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।

বিএমইউর ঝুঁকিপূর্ণ ‘এ’ ব্লক ভবন দ্রুত ত্যাগের নির্দেশ
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ জন লেকচারার নিয়োগ দেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অব টেকনোলজি
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ধর্ষণের বিচার নেই, বিচার শুধু প্রধানমন্ত্রীকে গালি দিলে’
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অভিজ্ঞতা ছাড়াই ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালে চাকরি, সরাসরি মৌখিক পর…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাবিতে র‍্যাগিংসহ বিভিন্ন অপরাধে ৯৯ শিক্ষার্থীর সাজা, ১৮ জন…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এশিয়ান গেমসে ‘বিশ্বকাপের অনুভূতি’ পাচ্ছেন লিটন
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬