সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর © সংগৃহীত
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যখন কথা বলার মানুষের সংখ্যা ছিল কম, তখন কবি মুহাম্মদ সামাদ কবিতার মাধ্যমে অবলীলায় বঙ্গবন্ধুর কথা বলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
রোববার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান-জামাল মিলনায়তনে কবি মুহাম্মদ সামাদের কবিতাসন্ধ্যা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, অনেক কঠিন সময়ে যখন যে কথাগুলো বলা সম্ভব ছিল না। সেই কথাগুলো তিনি অবলীলায় সাহসের সঙ্গে বলেছেন। তার জন্য তাকে প্রচুর চাপও সহ্য করতে হয়েছে।
কবি মুহাম্মদ সামাদের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়। যখন আমরা এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি, সেই সময় সাহসী ব্যক্তি ছিলেন মুহাম্মদ সামাদ।
তিনি আরও বলেন, কবি হিসেবে মুহাম্মদ সামাদ সবসময় সাহসী। কবিরা কবিতার মধ্য দিয়ে সত্য প্রকাশ করেন। মুহাম্মদ সামাদ সাহসের সঙ্গে সত্য প্রকাশ করেছেন। আমি যখন বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যাকে নিয়ে কোনো কবিতা বেছে নিই, তখন কবি সামাদ তার মধ্যে চলে আসেন।
এসময় ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, আবেগ আর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা, এমন মানুষ যখন ছিল খুবই কম,তখন মুহাম্মদ সামাদ এই কবিতাগুলো লিখেছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। তার লেখা কবিতাগুলো অনেক সমৃদ্ধ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যখন কিছু লেখা হয়, তখন সেটা দেশের এবং মানবতার জন্য লেখা হয়।
কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক কবি মুহাম্মদ সামাদের প্রশংসা করে বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং ইসলাম ধর্মের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় আমরা কবি সামাদের কবিতার মধ্যে পাই। তার কবিতা প্রকরণনিষ্ঠ,তার ছন্দ নির্ভুল এবং তার কণ্ঠস্বর বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর। আজকের কবি সন্ধ্যায় কবি সামাদকে অভিনন্দন জানাই।
ঢাবি উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ বলেন, জীবনে যদি স্বাস্থ্য ভালো থাকে তাহলে আল্লাহর কাছে আর কিছু চাই না। এর চেয়ে আর বড় কোনো কথা নেই মানবজীবনে। আজকের এই আয়োজনের জন্য চারুকলা ইনস্টিটিউটের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের কাছে আমি ঋণী, এই ঋণ পরিশোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে ঢাবি উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ এর কবিতা আবৃত্তি করেন স্বনামধন্য আবৃত্তিকার রুপা চক্রবর্তী, শিমুল মোস্তফা, শাহাদাৎ হোসেন নিপু, মাহিদুল ইসলাম,নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী,তামান্না সারোয়ার নীপা প্রমুখ।