প্রতীকী ছবি © টিডিসি সম্পাদিত
স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির সময়সীমা আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে। ২০ কার্যদিবসের মধ্যে খসড়া তৈরির লক্ষ্য থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শেষ দিন পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি কাজের সুবিধার্থে কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে আরও নতুন দুজন সদস্য। এর ফলে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত পেছালো এই আইনের খসড়া প্রণয়নের সময়সীমা।
গত ১ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিনি সভাকক্ষে কমিটির দ্বিতীয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল অনুবিভাগ) এ এন এম মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, গত ১১ জুন ৭ সদস্য নিয়ে গঠিত খসড়া প্রণয়ন কমিটিতে নতুন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামকে যুক্ত করা হয়েছে। ওই দিনের সভায় নবনিযুক্ত এই দুই সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।
ওইদিনের সভায় কমিটির সদস্যরা খসড়া আইন প্রণয়নে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ হিসেবে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ নিয়ে কার্যক্রম অনেক এগিয়ে গেলেও মতভিন্নতার কারণে রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-এর অগ্রগতি সেভাবে হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, আইনটি যৌক্তিক হওয়া প্রয়োজন। সময় লাগলেও আইনটি প্রণয়ন করতে হবে। কিন্তু আইনে যেন কোন প্রকার ত্রুটি না থাকে সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে এবং সবগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ও ব্যাখ্যা করতে হবে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে আইনটির ব্যাপ্তি ও পরিসর, অন্যান্য দেশের আইন যাচাই, দায়বদ্ধতা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিতকরণের জন্য গঠিত কমিটির মেয়াদ ৬০ কর্মদিবস বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া করা ঠিক হবে না। আইনে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীদের মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসক, রোগী ও হাসপাতালকে সুরক্ষা করতে হবে। আইনটি যাতে সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইনটি ভাগ করলে সরকারের খরচ বাড়বে। একটি আইন হলেই ভালো হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালে প্রণীত খসড়া অধ্যাদেশে শুধুমাত্র দণ্ডের উল্লেখ আছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন সঠিকভাবে করতে হলে হাসপাতাল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, দাতব্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পদ্ধতি, লাইন্সেস প্রদান ও ফি নির্ধারণ, ব্যক্তিগত চেম্বার, পেশাগত নৈতিকতা ও হাসপাতাল নিরাপত্তার মত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন, ২০২৬ দ্বারা ১৯৮২ সালের ৪ নং অধ্যাদেশ ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ বাতিল হলে তার স্থলাভিষিক্ত বিধি প্রণয়ন করতে হবে।
কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল অনুবিভাগ) এ এন এম মঈনুল ইসলাম আইনের খসড়া প্রণয়নে স্বাস্থ্য সেবা কর্মী, স্বাস্থ্য সেবা গ্রহীতা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সবার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে বলে মত ব্যক্ত করেন।
এর আগে গত ১১ জুন স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ৭ সদস্যের এই কমিটিকে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেনে সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময় সভার আলোকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) এ এন এম মঈনুল ইসলাম ও সদস্যসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে উপসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১) কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদকে। কমিটির অপর ৪ সদস্য হলেন— যুগ্মসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, যুগ্মসচিব (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) মো. মহসীন, যুগ্মসচিব (আইন) খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান। এ ছাড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ উপসচিব বা তদুর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এই কমিটিতে রয়েছেন।