ডা. ইনজামাম-উল-হক © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
সরকারি চাকরি ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সময় সাংবাদিক দেখে দৌড়ে পালানো চিকিৎসক ডা. মো. ইনজামাম-উল-হককে বদলির পর এবার বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তার ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
রবিবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন ও ইনজামাম উল হককে দেওয়া পৃথক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইনজামাম-উল-হককে অফিস সময়ে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করে বেসরকারি অ্যাপোলো হাসপাতালে কর্মরত দেখা যায়, যা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক স্মারকে এই চিকিৎসককে ভোলার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তার দায়িত্ব হতে বিরত রাখার আবশ্যকতা, তার দ্বারা তদন্তকার্যে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা ইত্যাদি বিবেচনা করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে, সেহেতু ডা. ইনজামাম-উল-হককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এ সময় তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এদিকে ডা. ইনজামাম-উল-হককে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে আনীত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। যেহেতু আপনার এসব কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক অসদাচরণ (Misconduct) হিসেবে গণ্য, সেহেতু অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করা হল এবং কেন আপনাকে এই বিধিমালার অধীনে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, সে বিষয়ে এ নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে স্বাক্ষরকারীর নিকট কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। একইসঙ্গে, আপনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কিনা তাও জানাতে নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এর আগে গত ২ জুলাই সরকারি অফিস ফাঁকি দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই অ্যাপোলো হাসপাতালে রোগী দেখছিলেন ডা. ইনজামাম। অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় সেখানে কয়েকজনের সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি চিকিৎসারত অবস্থায় রোগী রেখে দৌড়ে পালান। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৪ জুলাই তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ভোলার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।