জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কিছু কর্মী খাবার স্যালাইন উৎপাদন করছে © টিডিসি ফটো
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের খাবার স্যালাইন উৎপাদন ইউনিট একসময় ছিল সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সরকার প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ইউনিট বন্ধ করে দেওয়ায় এখন তা চলছে ধুঁকে ধুঁকে। বন্ধ হয়ে গেছে ৩০% সোডিয়াম স্যালাইন উৎপাদন। একসময় মাত্র ৪২ টাকায় খাবার স্যালাইন মিললেও এখন বেসরকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১,০০০ টাকায়। এতে সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতায় আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানটি। ফলে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট বন্ধ হয়ে আছে। বন্ধ হয়ে গেছে ভ্যাকসিন ইউনিট, যেখানে আগে রেবিস, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস ও অ্যান্টিসেরা ভ্যাকসিন উৎপাদিত হতো। একইভাবে বন্ধ রয়েছে ইনট্রাভেনাস (IV) ফ্লুইড উৎপাদন ইউনিট, সিএপিডি (CAPD) ফ্লুইড ইউনিট, ব্লাড ব্যাগ উৎপাদন ইউনিট, কোয়ালিটি কন্ট্রোল লাইব্রেরি এবং ওয়ার্কশপ ইউনিট। এসব গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট বন্ধ থাকায় দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে যা চিকিৎসা নিরাপত্তা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংকট তৈরি করছে। আর খাবার স্যালাইন উৎপাদন ইউনিটটি চলছে অনেকটা নীরবে।
আরও পড়ুন: ভেজাল ওষুধের ছড়াছড়ি, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বক্তব্য কী?
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটসূত্রে জানা যায়, সরকার স্যালাইনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় এখন সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য সরকারি বিনিয়োগ আসে না। ফলে সাধারণ মানুষ আর সেখান থেকে সেলাইনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য সহজে বা স্বল্পমূল্যে পাচ্ছে না। বর্তমানে এসব পণ্য ভারত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টর থেকে আমদানি বা সরবরাহ করা হচ্ছে। যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অথচ এক সময় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এই স্যালাইন বিনামূল্যে বিতরণ করত। এখন সেই জায়গাগুলো দখল করে নিচ্ছে ইনসেপ্টার মতো প্রভাবশালী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য খারাপ নজির।
প্রতিষ্ঠানসূত্রে আরও জানা যায়, এখানে খাবার স্যালাইন উৎপাদন ও সরবরাহ প্রতিষ্ঠানটিতে দক্ষ কর্মী, উৎপাদনকর্মী এবং দৈনিক শ্রমিক—এই তিন ধরনের জনবল নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি উৎপাদন ইউনিটের মাধ্যমে বছরে সর্বমোট ১,৮৬,২৪০ প্যাকেট খাবার স্যালাইন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এই পাঁচটি ইউনিট মিলিয়ে প্রতিদিন ৭৭,৬০০ প্যাকেট খাবার স্যালাইন উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। যা দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে একটি বিশাল অবদান রাখতে পারত—যদি উৎপাদন বন্ধ না করা হতো।
আরও পড়ুন: কৃষি উন্নয়নে গবেষণা নাকি ভর্তুকি, জানাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
সূত্র আরও জানায়, এ পরিস্থিতিতে আধুনিকায়নের জন্য HVAC সিস্টেমসহ অটো ফিলিং ও সিলিং মেশিন স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিচালনা করা যায়। তবে স্টোরেজ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণ কাঁচামাল এবং উৎপাদিত স্যালাইন প্যাকেট সংরক্ষণে মারাত্মক অসুবিধা দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সুবিধাসম্পন্ন গুদাম না থাকায় মালামাল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না যা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। বর্তমান কারখানাটি ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে চলছে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. মমিনুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ইউনিট সরকার বন্ধ করে রেখেছে। জনবল সংকটের কারণে অনেক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আর খাবার স্যালাইন উৎপাদনের কারখানাটি কোনোভাবে টিকে আছে।’ তবে এ সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।