প্রতীকি ছবি © সংগৃহীত
শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম। যেমন— হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস, হজম, ঘাম হওয়া, মূত্রথলি ও অন্ত্রের কার্যক্রম। এই স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো একক রোগ নয়; বরং বিভিন্ন রোগের জটিলতা হিসেবে দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।
কেন হয় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি
অটোনমিক নিউরোপ্যাথির সবচেয়ে সাধারণ কারণ ডায়াবেটিস। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে ধীরে ধীরে স্নায়ুর ক্ষতি হয়। এ ছাড়া যেসব কারণে এ সমস্যা হতে পারে, সেগুলো হলো— দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, পারকিনসনস রোগসহ অন্যান্য স্নায়বিক রোগ, কিছু অটোইমিউন রোগ, অ্যামাইলয়ডোসিস, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মদ্যপান, ভিটামিন বি-১২-এর ঘাটতি, ক্যানসার বা ক্যানসারের কিছু চিকিৎসা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, সংক্রমণ বা বংশগত কিছু বিরল রোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ডায়াবেটিস রয়েছে, রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে নেই, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগ রয়েছে, ধূমপান করেন এবং স্থূলতা রয়েছে ও বয়স বেশি— এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কী কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং চিকিৎসা কী
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোন স্নায়ু বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। যেমন— দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বিশ্রামেও হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত বা ধীর হওয়া, অতিরিক্ত বা খুব কম ঘাম হওয়া, খাবার হজমে দেরি, বমি বমি ভাব বা পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা প্রস্রাব আটকে যাওয়া, পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশন, নারীদের যৌন সমস্যাসহ যোনি শুষ্কতা এবং রক্তে শর্করা কমে গেলেও তার স্বাভাবিক সতর্ক সংকেত অনুভব না হওয়া।
অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হলে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে— রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন পরীক্ষা, ইসিজি, হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি পরীক্ষা, টিল্ট টেবিল টেস্ট, ঘাম পরীক্ষাসহ বিভিন্ন অটোনমিক ফাংশন টেস্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা।
অটোনমিক নিউরোপ্যাথির চিকিৎসায় প্রথম লক্ষ্য হলো মূল কারণ নিয়ন্ত্রণ করা, বিশেষ করে ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা। এ ছাড়া উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেমন দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে গেলে ওষুধ ও জীবনযাপনের পরিবর্তন, হজমের সমস্যার জন্য বিশেষ ওষুধ ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, মূত্রথলির সমস্যার চিকিৎসা, যৌন সমস্যার চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত ব্যায়াম।
প্রতিরোধ সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখলে অটোনমিক নিউরোপ্যাথির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি ধূমপান ত্যাগ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি যদি দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, হজমের সমস্যা, প্রস্রাবের অসুবিধা বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের মতো উপসর্গ অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত নিউরোলজিস্ট বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।