মোড়ক উন্মোচন © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সম্পাদিত 'তিতুমীরের বাশের কেল্লা থেকে জুলাইয়ের নিরস্ত্র জনতার প্রতিরোধ', 'রক্তের আখরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' এবং ডাকসু সাহিত্য পত্রিকার ৩য় সংখ্যা 'প্রতিভাস' সর্বমোট ৩টি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ডাকসুর সভাকক্ষে এসব গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল। অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাকসু ভিপি জনাব সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং ঢাবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী কাজী আশিকসহ হল সংসদ ও ডাকসু নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, সাহিত্য-সংস্কৃতির কাজ আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর মাধ্যমে আমাদের লড়াইটাকে আমরা শক্তিশালী করতে পারব। আজকে ডাকসু সবাইকে ধারণ করে যে কাজটি করেছে এটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে যে, আমরা যখন কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানে যাব, তখন আমাদের সবাইকে ধারণ করেই কাজ করতে হবে। সেজন্য ডাকসু যে বই প্রকাশ করেছে, সেখানে সকল মত ও পথের শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করেছে। পাশাপাশি আমি মনে করি, এই ডাকসু যে কাজ করেছে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। ৩৮টি ডাকসু এখন পর্যন্ত কাজ করেছে তাদের সম্মিলিত প্রয়াসকে একত্রিত করলেও এবারে ডাকসুর কার্যকারিতা তার থেকে আর বেশি হবে।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, হাসিনাকে পরাজিত করতে পারলেও আমরা কালচারাল ফ্যাসিজমের চক্রকে এখনও পরাজিত করতে পারিনি। সেই জায়গা থেকে আজকে যে প্রকাশনাগুলো বের হয়েছে, সেই প্রকাশনাগুলো কালচারাল ফ্যাসিজম চক্রের যে বয়ান সেই বয়ানকে ভাঙতে সহযোগী হবে। ডাকসু সেই জায়গা থেকে কাজ করেছে। আজকে জুলাই বিপ্লব নিয়ে বই বের করেছে এবং এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসকল শিক্ষার্থী খুনের শিকার হয়েছে তাদের স্মরণ করে যেমন বই বের করেছে, ঠিক তেমনি সাহিত্য পত্রিকা বের করেছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের লড়াইকে অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই কেবলমাত্র আমরা কালচারাল ফ্যাসিজম চক্রকে পরাজিত করতে পারব।
জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, আমরা আজকে গর্বভরে বলতে পারি, সত্যিকার অর্থে এই ডাকসু সবাইকে ধারণ করে কাজ করতে পেরেছে। আমরা যে রকম আজকের 'রক্তের আখরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' বইটিতে— নির্মমভাবে খুন হওয়া নজির আহমেদ, আব্দুল মালেকের স্মৃতিচারণ তুলে নিয়ে এসেছি ঠিক তেমনি ছাত্র ইউনিয়নের মইন হোসেন রাজু, আবুবকর, হাফিজুর মোল্লা এবং ছাত্রদলের সাম্য সবাইকে ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডাকসুর যে স্বাতন্ত্র্যবোধ, সেই স্বাতন্ত্র্যবোধ ফুটে উঠেছে। ডাকসু সকলের জন্য কাজ করেছে, এটি সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিককে ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি অসাধারণ উদ্যোগ নিয়ে এই বই তিনটি বই সম্পাদনা করেছেন।
ডাকসু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, আমার সম্পাদনায় 'তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা থেকে জুলাইয়ের নিরস্ত্র জনতার প্রতিরোধ', 'রক্তের আখরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' এবং সাহিত্য পত্রিকার তৃতীয় সংখ্যা 'প্রতিভাস' এর আজ মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশিত হলো। এর মধ্য দিয়ে আমাদের সাহিত্য পত্রিকার সর্বশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হলো। আমরা কথা দিয়েছিলাম যে- আমরা ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক এবং বার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা বের করবো। আমরা এটি করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। 'রক্তের আখরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' যে বইটি আজ প্রকাশিত হলো, এই বইটির মূল উদ্দেশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আধিপত্যবাদ, সন্ত্রাস এবং দখলবাজ মুক্ত রাখতে শিক্ষার্থীদেরকে সজাগ এবং জাগ্রত রাখা। তিতুমীরকে নিয়ে যে বইটি বের হয়েছে সেটি জুলাইকে নিয়ে একটি একাডেমিক বই। এখানে অনেকগুলো গবেষণামূলক প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে জুলাই ও তিতুমীরের নিরস্ত্র প্রতিরোধ নিয়ে। আমি এই তিনটি বইয়ের সার্বিক সফলতা কামনা করছি।
রিয়াদুল ইসলাম যুবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থগুলোর সহ সম্পাদক মাহিয়া বিনতে মামুন, সাইমুম ফেরদৌস সৌরভ, আশফাকউল্লাহ আসিফসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ।