সন্তান না হওয়ার পেছনে সমান দায়ী পুরুষও, তবু চিকিৎসায় অবহেলা

২৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © এআই সম্পাদিত

সন্তান ধারণে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে দায় অনেকসময় কেবল নারীকেই দেওয়া হয়, কিন্তু প্রায় অর্ধেক ঘটনায় সন্তান জন্মদানে পুরুষজনিত সমস্যা জড়িত। তবু চিকিৎসা, গবেষণা ও জনসচেতনতায় এখনো পুরুষের বন্ধ্যত্ব নিয়ে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবহেলার কারণে রোগ নির্ণয়ে দেরি হচ্ছে। এতে করে মানসিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে চিকিৎসার ব্যয়ও।

বিশ্বজুড়ে প্রতি ছয়টি দম্পতির মধ্যে প্রায় একটি দম্পতি বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভোগে। এর প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষের সমস্যা এককভাবে বা নারীর সমস্যার পাশাপাশি ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ ফার্টিলিটি সেবায় নারীকেই চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়, ফলে অনেক পুরুষের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়।

২০২০ সালের করোনা মহামারির মাঝামাঝি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন লুক ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু দেড় বছর চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

লুক বলেন, কৈশোরজুড়ে তিনি একটি কথায় শুনেছেন ‘কনডম ছাড়া যৌনসম্পর্ক করলে সহজেই সন্তান হতে পারে।’ তাই বড় হওয়ার পর তার ধারণা ছিল, সন্তান নেওয়াও স্বাভাবিকভাবেই সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় তিনি বুঝতেই পারেননি কোথায় যাবেন বা কী করবেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি ফার্টিলিটি ক্লিনিকে পাঠানো হলেও, পরবর্তী এক বছরেরও বেশি সময়জুড়ে চিকিৎসার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তার স্ত্রী। সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল স্ত্রীর নামে। এমনকি নিজের তথ্য নথিভুক্ত থাকার পরও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হতো তার স্ত্রীর সঙ্গে।

লুক বলেন, পুরো ব্যবস্থাটাই এমনভাবে গড়ে উঠেছে যেন সন্তান ধারণে সমস্যা মানেই নারীর সমস্যা। পুরুষদের বিষয়টি প্রায় পুরোপুরি উপেক্ষিত। এক দফা আইভিএফ ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমবারের মতো জানান, তার শুক্রাণুতে সমস্যা থাকতে পারে। এতে তিনি বিস্মিত হয়ে বলেন, এতদিন পরে এটা বলছেন? আমার দিকের সমস্যাগুলো অনেক আগেই পরীক্ষা করা যেত। অথচ পুরো চিকিৎসা শুধু আমার স্ত্রীর করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যবস্থায় পুরুষদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক সময় তাদের শারীরিক সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন শনাক্তই হয় না। এতে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে পড়ে এবং দম্পতিদের দীর্ঘ সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক অধ্যাপক বোলা গ্রেস বলেন, অনেক পুরুষই চিকিৎসা নিতে চান না।  অন্যদিকে পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও চিকিৎসার বড় অংশের চাপ নারীদেরই বহন করতে হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পুরুষের বন্ধ্যত্ব শুধু সন্তান ধারণের সমস্যা নয়, এটি শরীরের অন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিরও কারণ হতে পারে। অস্বাভাবিক শুক্রাণু পরীক্ষা অনেক সময় হরমোনজনিত জটিলতা, স্থূলতা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের ব্যবহার শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে। জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনলে এটি মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। তাই চিকিৎসার শুরু থেকেই নারী-পুরুষ উভয়ের সমান গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব। 

সূত্র: বিবিসি

রাজধানীতে আব্বাস-খোকার ‘রাজনৈতিক উত্তরসূরী’র অভাব বিএনপিতে
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাবি সোসাইটি অব বাংলাদেশি ফার্মাসিস্টের নেতৃত্বে আরিফুল-মার…
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ব বাজারে কমল তেলের দাম
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে, আবেদন ১২ অক্ট…
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রাথমিকের কারিকুলামে ১২ মাসে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিম
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ অ্যাওয়ার্ড পেল এআইইউবি
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9