প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
তীব্র গরম আর রোদ থেকে বাঁচতে আমাদের শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু যখন শরীর থেকে যতটা তরল বের হয়ে যায়, তার তুলনায় কম পানি পান করা হয়, তখন শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একেই ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা বলা হয়। সুস্থ থাকার জন্য শরীরের যে পরিমাণ পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বা লবণের প্রয়োজন, পানিশূন্যতা হলে তাতে বড় ধরনের ঘাটতি পড়ে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এই সাধারণ সমস্যা থেকেই মানুষ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে।
পানিশূন্যতার কারণ
অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে পানি ও খনিজ উপাদান বেরিয়ে যাওয়া পানিশূন্যতার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ঘাম হলে এবং সেই তুলনায় পানি পান না করলে দ্রুত ডিহাইড্রেশন ঘটে। এছাড়া তীব্র জ্বর, ডায়রিয়া বা বমির কারণে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে তরল বের হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধের প্রভাবে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার ফলেও শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ
শিশু ও নবজাতকদের জন্য পানিশূন্যতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুদের শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে মুখ শুকিয়ে যায় এবং কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি পড়ে না। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ ডায়াপার না ভেজানো এবং চোখ বা মাথার তালু বসে যাওয়া ডিহাইড্রেশনের বড় লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ও বমির কারণে খুব দ্রুত পানি কমে যায় বলে এ সময় বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বড়দের শরীরে যেসব পরিবর্তন দেখা দেয়
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা খুব কমই হঠাৎ করে ঘটে। শরীর আগে থেকেই কিছু সংকেত দেয়, যার মধ্যে প্রধান হলো তীব্র তৃষ্ণা পাওয়া। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে তৃষ্ণা না পেলেও শরীর পানিশূন্য হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
*মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও শরীর অবসাদগ্রস্ত হওয়া।
*মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া এবং বিভ্রান্তিবোধ।
*প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হওয়া এবং পরিমাণ কমে যাওয়া।
*হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং রক্তচাপ কমে যাওয়া।
*মাংসপেশিতে টান লাগা ও শরীর কাঁপুনি দিয়ে ওঠা।
*চামড়া শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং পা ফুলে যাওয়া।
ঝুঁকি ও জটিলতা
শিশু ছাড়াও বয়স্কদের শরীরে পানির পরিমাণ এমনিতেই কম থাকে, তাই তারা দ্রুত ডিহাইড্রেশনের শিকার হন। সাধারণ পানিশূন্যতা বেশি করে পানি পান করলেই সেরে যায়। তবে অবস্থা গুরুতর হলে এবং দীর্ঘক্ষণ পানির অভাব থাকলে শরীরের টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান বের হতে পারে না। এর ফলে কিডনি বিকল হওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে ইনজেকশন বা স্যালাইনের মাধ্যমে শরীরে তরল পৌঁছে দিতে হয়।
সতর্কবার্তা ও প্রতিকার
সুস্থ থাকতে তৃষ্ণা পাওয়ার আগেই নিয়মিত পানি পানের অভ্যাস করা জরুরি। গরমে বাইরে বের হলে ছাতা ও পানির বোতল সাথে রাখা উচিত। সাধারণ পানির পাশাপাশি স্যালাইন (ORS), ডাবের পানি বা ফলের রস শরীরের খনিজ ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, 'যদি লক্ষণগুলো খুব বেশি হয় কিংবা অনেকক্ষণ ধরে বমি বা পাতলা পায়খানা চলতে থাকে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।' সুস্থ থাকতে গরম আবহাওয়ায় ভারী কাজ এড়িয়ে চলা এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
তথ্যসূত্র: Integrated Medical Care