যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত

২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১ AM
হিট স্ট্রোক

হিট স্ট্রোক © প্রতীকী ছবি

দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গরমের এই চরম অবস্থায় শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী—সবাই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এই তীব্র খরতাপে যে স্বাস্থ্যঝুঁকিটি সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়, তা হলো ‘হিট স্ট্রোক’। শিশু থেকে বৃদ্ধ, যেকোনো বয়সের মানুষই এর শিকার হতে পারেন। তবে হিট স্ট্রোক হঠাৎ করে হয় না; এর আগে শরীর বেশ কিছু সতর্কবার্তা বা উপসর্গ দেয়। জীবন বাঁচাতে এসব লক্ষণ চিনে রাখা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

হিট স্ট্রোক কী?
স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে যখন শরীরের পানিশূন্যতা দেখা দেয়, তখন এই প্রাকৃতিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বা ‘কুলিং সিস্টেম’ অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে ১০৪-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। এই অবস্থাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে হিট স্ট্রোক বলা হয়। এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, কারণ শরীরের তাপমাত্রা বেশিক্ষণ বেশি থাকলে মস্তিষ্ক, কিডনি, লিভার ও হৃৎপিণ্ড স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক উপসর্গ
হিট স্ট্রোক হওয়ার আগে শরীর কিছু বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ করে, যা আমরা অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাই। যেমন:
* অসহনীয় মাথাব্যথা ও ঝিমঝিম বোধ করা।
* শরীর অবসন্ন হয়ে পড়া এবং চরম দুর্বলতা অনুভব করা।
* বমি বমি ভাব হওয়া বা কয়েকবার বমি হওয়া।
* মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং কাজে মনোযোগ হারিয়ে ফেলা।
* প্রবল তৃষ্ণা পাওয়া এবং মুখ-গলা শুকিয়ে আসা।
* পায়ের পেশিতে টান লাগা বা পেটে ব্যথা হওয়া।
* নিশ্বাস দ্রুত হওয়া এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া।

হিট স্ট্রোকের চূড়ান্ত লক্ষণসমূহ
যখন পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করে, তখন নিচের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
* শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ($40^\circ\text{C}$) বা এর বেশি হয়ে যাওয়া।
* অসংলগ্ন কথা বলা, বিভ্রান্তি বা অসংলগ্ন আচরণ করা।
* ত্বক লালচে বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।
* ঘাম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে চামড়া শুষ্ক হয়ে যাওয়া (আবার কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘামও হতে পারে)।
* খিঁচুনি হওয়া এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।

হিট স্ট্রোকের প্রকারভেদ ও ঝুঁকি
পরিবেশের অতিরিক্ত তাপের কারণে সাধারণত বয়স্ক ও শিশুরা 'ক্লাসিক হিট স্ট্রোক'-এ আক্রান্ত হয়। অন্যদিকে, রোদে কঠোর পরিশ্রম বা ব্যায়ামের ফলে তরুণদের মাঝে দেখা দেয় ‘পরিশ্রমজনিত হিট স্ট্রোক’। বিশেষ করে কৃষক, নির্মাণ শ্রমিক, অ্যাথলেট এবং গর্ভবতী নারীরা এই ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকেন। এছাড়া ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের প্রভাবেও শরীর ঠান্ডা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক করণীয়
হিট স্ট্রোকের পূর্ববর্তী লক্ষণগুলো দেখা মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে:
১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শীতল বা ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যেতে হবে। 
২. কাজের মধ্যে থাকলে তা তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হবে। 
৩. প্রচুর পরিমাণে পানি বা খাওয়ার স্যালাইন পান করতে হবে। 
৪. শরীর ঠান্ডা করতে চোখে-মুখে, ঘাড়ে ও মাথায় জল ছিটিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে।

হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান। যদি অবস্থার উন্নতি না হয় বা রোগী জ্ঞান হারায়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে অথবা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে। মনে রাখবেন, সচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে জীবন বাঁচাতে।

তথ্যসূত্র: cleveland Clinic

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন ৬ জন, শপথ সন্ধ্যায়
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
চা-শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকাসহ ১১ দফা দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের পুকুরে ডুবে তরুণের মৃত্যু
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পেলেন ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষ দ…
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
অস্ত্র কেনাবেচার সময় র‍্যাবের হাতে আটক ব্যবসায়ী 
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
সাড়ে ৬ বছরে ১৬ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, আড়ালে মানসিক চাপ-একাক…
  • ২১ আগস্ট ২০২৬