একাকিত্বে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি, যা বলছে গবেষণা

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৬ PM , আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫০ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/এআই

ডিজিটাল যুগে মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কানেক্টেড তবু, মনে হয় যেন আরও বেশি একা। ভার্চুয়াল যোগাযোগের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মুখোমুখি সম্পর্ক, কমছে আন্তরিক সংযোগ। এখন ভাববার বিষয় এই একাকিত্ব কি শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে, নাকি নিঃশব্দে আঘাত হানছে হৃদযন্ত্রেও? সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা বলছে, একাকিত্ব কেবল আবেগের বিষয় নয়; এটি হতে পারে হৃদ্‌রোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ।

যা বলছে গবেষণা:
ক্যালিফোর্নিয়া, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা সম্প্রতি একাকিত্বের সঙ্গে হার্টের রোগের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। বিষয়টা কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়, বরং আরও বেশি গভীরে।

হার্ভর্ডের গবেষকেরা জানাচ্ছেন, একাকিত্বের অনুভূতি হার্টের ক্ষতি করে দু’ভাবে। প্রথমত, একাকিত্বের ভাবনা যখন যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে তখন রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিনের (সিআরপি) মাত্রা বেড়ে যায়। এই প্রোটিন ধমনীর দেওয়ালে প্লাকের মতো জমতে থাকে যা রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি করে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

দ্বিতীয়ত,স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব: নিঃসঙ্গতা বাড়ায় কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন। অতিরিক্ত কর্টিসল রক্তচাপ বাড়ায়, ধমনীর ক্ষতি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া মানুষের সঙ্গে মেলামেশা শরীরে অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়, যা হৃদ্‌যন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়। একাকিত্ব এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকেই দুর্বল করে দেয়।

একাকিত্ব বনাম একা থাকা দুটো কি এক?
একা থাকা অনেকের কাছে স্বাচ্ছন্দ্যের, এমনকি প্রয়োজনীয়ও হতে পারে। কিন্তু একাকিত্ব বলতে মূলত যেখানে মানুষ অন্যদের মাঝেও নিজেকে একা মনে করে।
অর্থাৎ, আপনি মানুষের ভিড়েও একা হতে পারেন, আবার একা থেকেও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারেন।

সমাজ ও জীবনযাপনের পরিবর্তন:
যৌথ পরিবার ভেঙে অণু পরিবার, ব্যস্ত কর্মজীবন, এবং ডিজিটাল নির্ভরতা সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। আগে যেখানে আড্ডা হতো সামনাসামনি, এখন তা সীমাবদ্ধ মোবাইল কিংবা ল্যাপটপের স্ক্রিনে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে মানুষ ডুবে থাকছে ব্যক্তিগত ডিভাইসে। ফলে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের 'নীরব বিচ্ছিন্নতা', যা অনেক সময় চোখে পড়ে না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে ক্ষতি করে।

ঝুঁকিতে তরুণরাও
গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু বয়স্করা নয় তরুণ প্রজন্মও এখন একাকিত্বের শিকার। অনেকেই ব্যক্তিস্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিয়ে আলাদা জীবন বেছে নিচ্ছেন। এতে করে 
সমস্যা বা অনুভূতি ভাগ না করার প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে উদ্বেগ, অবসাদ, এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। 

সমাধান কী?
একাকিত্ব পুরোপুরি এড়ানো কঠিন হলেও কিছু সচেতনতা ঝুঁকি কমাতে পারে- নিয়মিত পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সামনাসামনি বসে আড্ডা কিংবা গল্প করা, সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। [সোর্স: আনন্দবাজার]

বড় চমক দেখাল ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দুইদিনে ফলোয়ার ছাড়…
  • ২১ মে ২০২৬
পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির, ভোক…
  • ২১ মে ২০২৬
দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো রামিসা
  • ২১ মে ২০২৬
নির্মাণ শ্রমিক কর্তৃক নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা, নোবিপ্রবিতে …
  • ২১ মে ২০২৬
পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে বন্ধ ইজারা কার…
  • ২১ মে ২০২৬
আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের বৈশ্বিক ঝুঁকি কতখানি?
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081