তীব্র গরমে জ্বালানির অপেক্ষায় বাইকাররা © টিডিসি ফটো
তীব্র গরম আর নগর জীবনের নিত্যসঙ্গী যানজট এই দুইয়ের সম্মিলনে প্রতিদিনের যাতায়াত অনেকের জন্যই হয়ে উঠছে এক অসহনীয় যন্ত্রণা। প্রয়োজনের তাগিদে ঘর থেকে বের হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকা মানে শুধু সময় নষ্ট নয়, বরং শরীরের ওপরও পড়ে মারাত্মক প্রভাব। পানিশূন্যতা, ক্লান্তি, ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায় অনেকক্ষেত্রে। তাই একটু সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে এই দুর্ভোগ কিছুটা কমিয়ে আনতে।
বের হওয়ার আগের প্রস্তুতি:
গরমের দিনে বাইরে বের হওয়ার আগে ছোট কিছু প্রস্তুতি আপনাকে বড় ধরনের স্বস্তি দিতে পারে। একটি ব্যাগে পানি, সানগ্লাস, ছাতা বা ক্যাপ, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখুন। এতে করে আপনি তীব্র যানজট ও গরমের মধ্যে কিছুটা নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন।
পোশাকের ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির কাপড় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। রোদ থেকে চোখ ও ত্বক রক্ষা করতে ক্যাপ ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো অভ্যাস।
যানজটে আটকে পড়লে করণীয়:
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
গরমে শরীর দ্রুত পানি হারায়, তাই পিপাসা লাগার আগেই অল্প অল্প করে পানি পান করা উচিত। সঙ্গে ডাবের পানি বা ফলের রস রাখলে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে করে গরম বা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।প্রয়োজনে ভেজা টিস্যু বা রুমাল দিয়ে মুখ-গলা মুছে নিলেও ভালো অনুভব হয়।
রাস্তা পরিবর্তনের চেষ্টা করুন
যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার বদলে প্রযুক্তির সহায়তা নিন। গুগল ম্যাপ অথবা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকল্প কম জ্যামের রাস্তা বেছে নেওয়া যেতে পারে। এতে সময় ও কষ্ট দুটোই কমবে।
সূর্যের তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন
বাসে থাকলে রোদ পড়া পাশ এড়িয়ে বসুন। রিকশায় থাকলে রিকসার ছাউনি বা হুড তুলে দিন। বাইক বা সাইকেলে চলাচল করলে মাঝেমধ্যে ছায়াযুক্ত স্থানে থেমে বিশ্রাম নিন। এতে ত্বক পোড়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তি কমবে।
ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকলে করণীয়:
গাড়ির চেক করা
গরমে গাড়ির ইঞ্জিন দ্রুত গরম হয়ে যেতে পারে। তাই বের হওয়ার আগে গাড়ির সেফটি চেক করা জরুরি।
যানজটে আটকে থাকলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম মনে হলে কিছুক্ষণ বন্ধ রাখুন। কারণ স্বাভাবিক অবস্থাতেও এক ঘণ্টার মধ্যে গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এসির ব্যবস্থা রাখা
গরমে স্বস্তির জন্য গাড়ির এসি কার্যকর থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বের হওয়ার আগে এসি ও কেবিন ফিল্টার পরীক্ষা করে নিন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
মানসিকভাবে শান্ত থাকুন
যানজট ও গরম দুটোই মানসিক চাপ বাড়ায়। তাই বিরক্ত না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলানোই সবচেয়ে ভালো উপায়। এতে করে স্ট্রেস কমে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। [সূত্র: টিডিএস]