প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/এআই
দিনভর কাজের ক্লান্তি শেষে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসতে চায় না। কারও ঘুম ভেঙে যায় মাঝরাতে, আবার কেউ মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখতে রাখতে রাত পার করে ফেলেন। চিকিৎসকদের মতে, শুধু ঘুমালেই হবে না ঘুম হতে হবে গভীর ও প্রশান্তিময়। আর সেই ভালো ঘুমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নিজের ঘুমানোর স্থান বা বেডরুমের পরিবেশ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘরে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনলেই ঘুমের মান অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।
আলো জ্বালানো: ঘুমের ক্ষেত্রে আলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেউ সম্পূর্ণ অন্ধকারে স্বস্তি পান, আবার কেউ হালকা আলো পছন্দ করেন। তবে সবচেয়ে বড় বাধা হলো মোবাইল বা স্ক্রিনের ‘ব্লু লাইট’। এই নীল আলো শরীরে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত কিছু সময় আগে মোবাইল দূরে রাখতে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
আরামদায়ক বিছানা: হোটেলে গিয়ে যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নরম বিছানা দেখলে শুয়ে পড়তে ইচ্ছে হয় ঠিক তেমন পরিবেশ ঘরেও তৈরি করা সম্ভব। পরিষ্কার সুতির চাদর, আরামদায়ক বালিশ এবং নরম কম্বল ব্যবহার করলে ঘুমের মান অনেকটাই বাড়ে।
সুগন্ধি ব্যবহার: ঘরের পরিবেশে হালকা সুগন্ধও ঘুমে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল যেমন ল্যাভেন্ডার বা সিডারউড স্নায়ুকে শান্ত করে। ডিফিউজারে কয়েক ফোঁটা তেল ব্যবহার করলে ঘরে এক ধরনের প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি হয়, যা সহজে ঘুম আনতে সহায়ক।
পরিচ্ছন্ন ঘর: অগোছালো ঘর শুধু চোখে খারাপ লাগে না, মানসিক অস্বস্তিও তৈরি করে। তাই ঘুমানোর আগে ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে রাখা জরুরি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ঘুমের জন্য মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করে।
সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা: ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা হলে ঘুম ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২২–২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ঘুমের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। তাই এসি বা ফ্যান এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত, যাতে ঘরে স্বস্তিদায়ক আবহ বজায় থাকে।
অভ্যাসেও পরিবর্তন প্রয়োজন: শুধু ঘরের পরিবেশ নয়, জীবনযাপনেও কিছু পরিবর্তন জরুরি। রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা, হালকা শরীরচর্চা করা এবং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে অনিদ্রার সমস্যা অনেকটাই কমে।
পরিশেষে ভালো ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সুস্থ জীবনের অপরিহার্য অংশ। তাই ঘুমের জন্য আলাদা সময় দেওয়ার পাশাপাশি ঘুমানোর স্থানের পরিবেশও করে তুলতে হবে আরামদায়ক। [ সূত্র: আনন্দবাজার]