প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ চীনের উহান শহরে প্রাদুর্ভাব হলেও এখন ১৬১টি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন মৃত্যুযাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। আর করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে পুরুষদের প্রজনন সক্ষমতায় অনেক বড় বাধার সৃষ্টি হতে পারে বলে জানাচ্ছে একদল গবেষক। ইতিমধ্যে যেসব পুরুষ করোনায় সুস্থ হয়েছেন, তাদের ফার্টিলিটি টেস্ট (প্রজনন সক্ষমতা) করার পরামর্শ দিয়েছেন চীনের চিকিৎসকরা।
চীনের উহান শহরের একদল চিকিৎসক এমন দাবি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছেন, কোনো পুরুষ কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলে শুক্রাশয়ে আঘাত হানতে পারে করোনাভাইরাস। আর এতে শুক্রাশয়ের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যদিও চিকিৎসকরা শতভাগ নিশ্চিত নন যে, পুরুষের প্রজনন বা যৌন সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এই ভাইরাস, তারপরও তারা বলেছেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর পুরুষের বার্য উৎপাদন ও সেক্স হরমোনের গঠন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তারা বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন এভাব— এ ধরনের ভাইরাস পুরুষের শুক্রাণু উৎপাদন এবং যৌন হরমোন গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও তাত্ত্বিকভাবে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ ফুসফুস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্স-কোভি-২ নামে পরিচিত নতুন এক ধরনের করোনাভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে, যে মানুষের কোষে প্রবেশ করে এবং কোষ নষ্ট করে দেয়। প্রোটিন উৎপাদন কোষের ঝিল্লী এবং প্রোটিন অ্যাঞ্জিওটেনসিন-রূপান্তরকারী এনজাইম ২ (এসিই ২) এর সঙ্গে আবদ্ধ কোষের ক্ষতি করে।
এছাড়া এসিই-২ ফুসফুস ছাড়াও অন্যান্য মানব অঙ্গগুলিতে উপস্থিত থাকে। বিশেষত পুরুষের অণ্ডকোষে এই টিস্যু প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি বেশ কয়েকটি কোষে কেন্দ্রীভূত হতে পারে। জীবাণু কোষ, সহায়ক কোষ এবং জনন কোষ পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে। ফলে করোনার আক্রমণে এই কোষগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসক দলটি আরও জানান, ২০০২ ও ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় চিকিৎসকরা কিছু পুরুষ রোগীর অণ্ডকোষ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তাদের গবেষণায় বলা হয়েছে, চিকিৎসকরা এখনও রোগীদের অণ্ডকোষে সার্স-কোভি-২ করোনাভাইরাস বা সার্স-কোভি শনাক্ত করতে পারেননি। যেগুলো তাদের যৌন অঙ্গগুলিতে প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে। তবে করোনাভাইরাসের সঙ্গে সার্সের ব্যাপক মিল রয়েছে। যেহেতু নতুন করোনভাইরাসটি সার্স করোনভাইরাসগুলির সঙ্গে অনেকাংশে মিল আছে এবং দুটি ভাইরাসই একই হোস্ট সেল রিসেপ্টর এসিই-২ কে আক্রমণ করে তাই কোভিড-১৯ ও পুরুষের অণ্ডকোষের ক্ষতি করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে করেনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। আর মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮ হাজার। তবে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ফিরেছেন অন্তত ৮২ হাজার ৯০৯ জন। পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্স এর তথ্যমতে, সারাবিশ্বে বুধবার রাত পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৪৫৭ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এরমধ্যে মারা গেছেন ৮ হাজার ২৭৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৩৩ জন, আর মারা গেছেন ৩০৫ জন। তাই সকল পুরুষরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছেন এবং বিশেষ করে যাদের সন্তান জন্মদান প্রয়োজন, তাদেরকে দ্রুত উর্বরতা পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।