করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে নওরোজ উপলক্ষে শুক্রবার ১০ হাজার কারাবন্দিকে ছেড়ে দিয়েছেন ইরানি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যাদের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক বন্দিও রয়েছেন। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।
এদিকে ইরানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এসব বন্দিকে ক্ষমা করলেন বলে পার্সটুডের খবরে বলা হয়। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ইব্রাহিম রাইসির অনুরোধের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ নেতা বন্দীদের মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দেন। ইরানি নওরোজ এবং কয়েকটি ইসলামী অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ভেতরে ইব্রাহিম রাইসি সর্বোচ্চ নেতার কাছে বন্দীদের মুক্তির জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখেন। এরপর তাতে সম্মতি দেন সর্বোচ্চ নেতা।
ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির বিচার বিভাগীয় মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি বলেন, যাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, তাদের আর কারাগারে ফিরতে হবে না। ছেড়ে দেয়াদের মধ্যে অর্ধেকই নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বন্দি।
তিনি আরও বলেন, কারাগার থেকে সাড়ে আট হাজার লোককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। করোনাভাইরাস মহামারী রুখতে জোরালো চেষ্টার অংশ হিসেবে তাদের মুক্তি দেয়া হয়।
ইরানি বিচার বিভাগীয় মুখপাত্র আরও বলেন, ব্যাপকসংখ্যক যেসব বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়, তাদের আর কারাগারে যেতে হবে না। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
এমন সব বন্দিকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, তাদের পাঁচ বছরের নিচে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে বুধবার ছেড়ে দেয়া ব্রিটিশ-ইরানি সহায়তাকর্মী নাজানিন জাগহারি-র্যাটক্লিফের ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য হবে কিনা; তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের বিভিন্ন কারাগারে এক লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ বন্দি রয়েছেন।