করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন © সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির ওল্ডহ্যাম শহরে তিনি বসবাস করতেন। মৃত্যুর আটদিন পর মঙ্গলবার তাকে সমাহিত করা হয়েছে। তাঁর জানাজার নামাজ এবং দাফনে পরিবারের কেউ অংশগ্রহণ করতে পারেনি বলে জানা গেছে। কেননা তাদেরকেও আইসোলেশনে রেখেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি সপরিবারে কয়েক বছর আগে ইটালি থেকে যুক্তরাজ্যে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতেও তিনি ইতালিতে গিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারির শেষে ইতালিতে করোনা ছড়িয়ে পড়লে, তিনি ব্রিটেনে ফিরে আসেন। তখন সুস্থই ছিলেন। কিন্তু ৩ মার্চ হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে, তাঁকে নর্থ ম্যানচেস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার (৮মার্চ) ওই হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। ডাক্তাররা জানান, তাঁর রক্তে যথেষ্ট অক্সিজেন যাচ্ছিল না। হার্টবিটও ছিল অনিয়মিত।
বাংলাদেশি আরেক প্রবাসী নিক্সন চৌধুরী দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন। তাঁর থেকে সংগৃহীত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক হাসান। তিনি ছবির ক্যাপশনে লেখেন, করোনায় মৃত একজন বাংলাদেশীর দাফন! ছবিটা দেখে হৃদয়টা কেঁপে উঠছে, কেউ পাশে নেই আজ। এমন মৃত্যু তুমি করিও না দান হে দয়াময়।... দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পরিবারের কোন সদস্য তাকে আর দেখতেও পারলেন না।’
এর আগে মৃতের ছেলে বিবিসিকে জানিয়েছেন, ব্রিটেনে পাকাপাকি ভাবে আসার আগে তাঁরা সপরিবার ইতালিতে প্রায় পাঁচ বছর ছিলেন। ১৯৮৯ সালে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে গিয়েছিলেন। ইতালির মিলান শহর ছিল তাঁর বাবার প্রিয় শহর। তাই ব্রিটেনে এসেও সময়-সুযোগ পেলেই সেখানে ঘুরতে যেতেন ওই ব্যক্তি।
বাবার মৃত্যুর খবর পেলেও এখনও মৃতদেহ বাড়িতে আনতে পারেননি ছেলে। কারণ, বাড়ির বাইরে বেরোনো তাঁদেরও বারণ। মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রত্যেককে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড থেকে জানতে চাওয়া হয়, তাঁরা সবাই ঠিক আছে কি না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনও লক্ষণ আছে কি না। প্রতিদিন জবাব দিতে হয়।
এদিকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে লন্ডনে আরেক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরে পূর্ব লন্ডনের রয়েল লন্ডন হাসপাতালে মারা যান ওই ব্যক্তি।
জানা যায়, লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে থাকতেন ৩৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। তিনি সিলেটের অধিবাসী। ওই ব্যক্তির লাশ রয়েল লন্ডন হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।