প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ইতালির সেনাপ্রধান সালভাতোর ফারিনা। রবিবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত হরেছেন। বর্তমানে নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে আছেন সেনাপ্রধান। তার বদলে এরই মধ্যে দেশটির নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ফেডেরিকো বোনাতোর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সেনাপ্রধান নিজের আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়ে বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় নিজ থেকেই তিনি আইসোলেশনে ছিলেন। পরে এ সংক্রান্ত পরীক্ষায় তার শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে।’
এদিকে এ ভাইরাস মোকাবিলায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মিউজিয়াম, জিমনেশিয়াম, নাইট ক্লাবসহ বিভিন্ন ভেন্যু বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্টে।
রবিবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ৩৭৫। পরিস্থিতি মোকাবিলায় লোম্বার্ডিসহ ১৪টি প্রদেশের অন্তত এক কোটি ৬০ লাখ মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্টে। রবিবার দেওয়া এ ঘোষণায় তিনি বলেন, আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত কেউ এই প্রদেশগুলো থেকে কেউ বেরুতে পারবে না। বাইরে থেকেও কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।
উত্তর ইতালিতে ইতোমধ্যেই ৫০ হাজারের মতো মানুষ কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাণিজ্যিক কেন্দ্র মিলান এবং পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ভেনিসের মতো শহরও কোয়ারেন্টাইনের আওতায় থাকবে।
লোম্বার্ডির পুরো উত্তর অঞ্চল যেখানে এক কোটি লোকের বাস এবং ইতালির বাণিজ্যিক নগরী মিলান লক ডাউন বা বন্ধ রাখা হবে। তবে জরুরিভিত্তিতে কিছু করার প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী কন্টে জানিয়েছেন, মোদেনা, পারমা, পিয়াসেনজা, রেজ্জিও এমিলিয়া, রিমিনি, পেসারো এবং আরবিনো, আলেসান্দ্রিয়া, অ্যাসটি, নোভারা, ভারবানো কিউসিও ওসোলা, ভারসেই, পাদুয়া, ট্রেভিসো এবং ভেনিসের মতো শহরগুলো আক্রান্ত হয়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো ধরা পড়া করোনাভাইরাস এ পর্যন্ত অন্তত ১০৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ২ হাজার ২৩৭ জন, মারা গেছেন ৩ হাজার ৪৯৭ জন। এর বেশিরভাগই চীনা নাগরিক।
সূত্র: বিবিসি