প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন © টিডিসি ফটো
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। যারা এইচএসসি পাস করেছে কিংবা যারা হয়তো সেভাবে ভালো রেজাল্ট করেনি, তাদেরকে কীভাবে আমরা কারিগরি শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বা অল্টারনেটিভ প্রোভাইড করতে পারি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তার জন্য ডিফারেন্ট পাথওয়ে নিয়ে আমরা সরকারের সব মন্ত্রণালয় মিলে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করব।’
তিনি বলেন, ‘সবার যে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন আছে, বিষয়টা তা না। সবাইকে যে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, বিষয়টা তা না। প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য যেই সাবজেক্টে তার পড়তে ভালো লাগে, যেই সাবজেক্টে তার ক্যারিয়ার করতে ভালো লাগে, রাষ্ট্র তাকে সে ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে।’
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে মাহদী আমিন ফলাফল ঘোষণা করেন। এবার ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেনি।
মাহদী আমিন বলেন, ‘এবার প্রথমবারের মতো আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় যে, এক বা দুই সাবজেক্টে যারা অকৃতকার্য হবে, তাদের জন্য আবার পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের যেন একটা বছর ঝরে না পড়ে এবং তারা যেন তাদের পছন্দের সাবজেক্টে ভর্তি হতে পারে, ফারদার এডুকেশনে যেতে পারে বা অল্টারনেটিভ যদি কারো কোনো ডিফারেন্ট ট্র্যাকে মনোনিবেশ করতে ইচ্ছা হয়, কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ হয়—সবগুলোকে মিলিয়ে আমরা একটা সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই।’
আরও খবর: এইচএসসি-আলিমে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এবং পরীক্ষার ক্ষেত্রে আজকে যারা পাস করেছে, ভালো ফলাফল প্রদর্শন করেছে এবং সামনের দিনগুলোতেও যারা ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য আমাদের শুভকামনা রয়েছে। আমরা চাই তারা প্রত্যেকেই যার যার কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং হোক, মেডিকেল হোক বা ট্র্যাডিশনাল ইউনিভার্সিটিতে নিজের পছন্দের সাবজেক্টগুলোতে পড়াশোনা করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে সায়েন্স বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হবে, বিষয়টা তা না। আর্টস, হিউম্যানিটিজ, সোশ্যাল সায়েন্স—যে যার পছন্দের সাবজেক্টে যেন পড়াশোনা করতে পারে, সেক্ষেত্রে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই।’