লঞ্চের ভাড়া বাড়ল ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৩ PM
সদরঘাটের লঞ্চ।

সদরঘাটের লঞ্চ। © ফাইল ছবি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর এবার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ফলে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন লঞ্চ ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা হয়েছে।

এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন মালিকরা। তারা একজন যাত্রীর যাতায়াতে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর জন্য নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দেন।

ওই চিঠিতে তারা প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বিদ্যমান ২ টাকা ৯৫ পয়সার স্থলে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫২ পয়সার স্থলে ৪ টাকা ২ পয়সা করার কথা বলেছিল। অন্যথায় জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে নৌমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

লঞ্চ মালিকদের দাবি মানা হলে ঢাকা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ডেক শ্রেণির ভাড়া ৪২৯ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬০ টাকা হতো। কেবিন শ্রেণির যাত্রীর ভাড়া হতো ডেকের চারগুণ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌমন্ত্রীর কাছে নতুন বর্ধিত ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থা। এক চিঠিতে সংগঠনের সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর উল্লেখ করেন, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ভাড়া ৫১ শতাংশ এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে একই হারে বাড়ালে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সোমবার সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহণে নিয়োজিত লঞ্চগুলো ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিচালন ব্যয়ে পড়বে।

সংগঠনটির দাবি, এরই মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জ বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং (ঘাটে ভেড়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএকে প্রদত্ত) চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া নৌযানের বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা, নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের জন্য নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি, নৌযানের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন ফি এবং আয়কর ও ভ্যাটের ব্যয়ও বেড়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

লঞ্চের প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিংসহ পরিচালন ব্যয়ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে লঞ্চ মালিকদের সংগঠনের দাবি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে বর্তমানে অনেক যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করছেন। ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রস্তাবিত হারে যাত্রীভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন অথবা ডিজেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে যাপ।

রাজধানীর দুই থানায় নতুন ওসি
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাণিজ্যপথ বন্ধ দেড় বছর, কর্মহীন শ্রমিকরা, কবে খুলবে টেকনাফ–…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিন্ডিকেট সদস্য মনোনয়ন নিয়ে প্রকাশিত বিবৃতি সম্পূর্ণ মিথ্যা…
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমার পিএইচডি রিসার্চের টপিক ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান: …
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হারানো ঐতিহ্যকে ভিন্ন আঙ্গিকে ফেরালেন রাবির চার শিক্ষার্থী
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার ফল ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার …
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬