প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © টিডিসি ফটো
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এক সময় বিএনপির দেওয়া ‘৩১ দফা’সংস্কার প্রস্তাব এখন আর কোনো দলীয় বিষয় নয়, এটি এখন দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্পদে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমরা পুলিশ বাহিনীকে একটি সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এরই অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। এ বিষয়ে আমরা বিরোধী দলেরও পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।”
৩১ দফা ও জুলাই সনদ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত ৩১ দফা এখন জাতীয় দলিলে পরিণত হয়েছে। “বিগত নির্বাচনে জনগণ এই ৩১ দফার প্রতি রায় দিয়েছে। এটি এখন জনগণের ৩১ দফা। এছাড়া নির্বাচনের আগে আমরা যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছিলাম, তার প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।”
শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তন ও জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ
শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসস্তূপ থেকে উত্তরণের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী আমলে অটো-প্রমোশন ও নকলকে উৎসাহিত করে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হয়েছিল। আমরা এই ধারা পরিবর্তন করছি। শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিতর্কিত সিলেবাস সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।”
স্বাস্থ্য খাতে ‘১০১ ভাগ অসুস্থতা’নিরাময়ের উদ্যোগ
স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা বলেছিলেন স্বাস্থ্য খাত ১০০ ভাগ অসুস্থ, আমি বলি ১০১ ভাগ অসুস্থ। আমরা এই খাতকে পুনর্গঠন করতে চাই।”
তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লক্ষ ‘হেলথ কেয়ারার’নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া শিশুদের সুচিকিৎসায় আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচটি বিভাগে ২০০ বেড করে মোট ১০০০ বেডের পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। স্বাস্থ্য খাতেও আগামী ৫ বছরে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
জ্বালানি খাতে হরিলুট ও বাপেক্সকে সক্রিয়করণ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিদ্যুৎ খাতে ৩ লক্ষ কোটি টাকার হরিলুট হয়েছে। কুইক রেন্টালের নামে কুইক মানি অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। জ্বালানি মজুত মাত্র ৩০ দিনের কম ছিল, যা আমরা এরই মধ্যে ৪৫ দিনে উন্নীত করেছি এবং ৯০ দিনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাপেক্সকে সক্রিয় করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য নতুন রিগ আমদানি করা হচ্ছে।
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ ও সামাজিক সচেতনতা
প্রধানমন্ত্রী দেশের ৩৫০ জন সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা এবং প্লাস্টিক-পলিথিন ফেলা রোধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়তে ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলোর পরিবর্তন জরুরি।”