৬ মাসে ৮৩০ সহিংসতা: ৮১% বিএনপি সংশ্লিষ্ট, জামায়াত ৩৪%, সাংবাদিক, নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে ৫০%

১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৮ PM
লোগো: হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি–এইচআরএসএস

লোগো: হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি–এইচআরএসএস © টিডিসি ফটো

২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। যেখানে ছয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৫৬, আহত ৫২৪৬, নির্যাতনের শিকার ১ হাজার ৬২১ নারী ও কন্যা শিশু, মব সহিংসতায় নিহত ১৩৩, আহত ২৫৬, এবং ৩৮৩ সাংবাদিকের নির্যাতন ও হয়রানির তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি–এইচআরএসএস’। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মূল ধারার ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের অর্ধবার্ষিক (জানুয়ারি-জুন) মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৫৬ জন নিহত ও ৫ হাজার ২৪৬ জনের অধিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। যেখানে ২০২৫ সালে ৫২৯টি ঘটনায় ৭৯ জন নিহত ও ৪১২৪ জন আহত ছিলো। সহিংসতা বেড়েছে ৫৬ দশমিক ৯০ শতাংশ।

নিহত ৫৬ জনের মধ্যে বিএনপির ৩৭ (৬৬%) জন, জামায়াতের ৬ (১১%) জন ও আওয়ামীলীগের ৩ জন এবং অন্যান্য ০৮ জন, চরমপন্থি ১ জন এবং সাধারণ মহিলা ১ জন। এছাড়া, ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনার ৬৭৩টিই (৮১%) ঘটেছে বিএনপির অন্তঃকোন্দল ও বিএনপির সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে। 

এদিকে, ছয় মাসে সহিংসতার ৮৩০টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ২৭৩টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৯২ জন ও নিহত ৩১ জন। ২৯০টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৮৫২ জন ও নিহত ১০ জন। সেই হিসেবে জামায়াতের সহিংসতায় সংশ্লিষ্টতা ৩৪ শতাংশ। ৭৭টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৪৬৪ জন এবং নিহত হয়েছেন ০৭ জন। ৩৩টি বিএনপি-এনসিপি মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২৫০ জন, আওয়ামীলীগ-এনসিপির মধ্যে ৩টি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ৫১ জন, ৯৭টি বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২৫১ জন। 

এর পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ৬৪টি ঘটনা ঘটেছে। এসকল হামলায় কমপক্ষে ৩৮ জন নিহত ও ৯০ জন আহত হয়েছে। নিহত ৩৮ জনের মধ্যে বিএনপির ২০ জন, আওয়ামীলীগের ৯ জন, জামায়াতের ৪ জন ও অন্যান্য দলের ৫ জন সদস্য। এ সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় শতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৯ শতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।  

‘আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, বিভিন্ন দলের সমাবেশ কেন্দ্রিক সহিংসতা, প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে’ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনে ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রীক সহিংসতার তথ্য উল্লেখ করে আরও বলা হয়, গত ছয় মাসে নির্বাচন কেন্দ্রিক ৩৯৬টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫৭৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ৬০০টিরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ১৩ জন নিহতের মধ্যে বিএনপির ৯ জন, আওয়ামী লীগের ১ জন, জামায়াতের ২ জন এবং রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১ জনের। 

সহিংসতার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক সংঘর্ষ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১১৯টি ঘটনায় অন্তত ৯০৫ জন আহত এবং ৮ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ২৩২টি ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৪২৯ জন আহত এবং ৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ৩টি ঘটনায় ৩ জন আহত ও ১ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১৬টি ঘটনায় ১৪১ জন আহত হয়েছেন এবং বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে ১৭টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬৩ জন। অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘটিত ১০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৮ জন।

এছাড়া, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ৬ মাসে অন্তত ১২টি ঘটনায় কমপক্ষে ১৮ জন নারী হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং ৬ জন নারী আহত হয়েছেন। হেনস্তার শিকারদের মধ্যে ১৭ জন জামায়াত সমর্থক এবং ১ জন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থক নারী রয়েছেন। 

রাজনৈতিক মামলা ও আটকের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় কমপক্ষে ১৪৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩ হাজার ২৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২৪ হাজার ৫১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ সময়ে রাজনৈতিক মামলায় কমপক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩ হাজার ৬৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যেখানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী অন্তত ২ হাজার ৪১৫ জন, বিএনপির নেতাকর্মী ৪৯৭ জন এবং জামায়াতের ১০৯ জন, এনসিপি ২৬ জন। এছাড়া এ সময়ে সারাদেশে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ২৬ হাজারের অধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অপরদিকে, ২০২৫ সালের একই সময়ে ৮ হাজার ৫৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১৫ হাজার ৯৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ১১৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া, একই সময়ে বিভিন্ন মামলায় ২৩ হাজার ১২১ জন গ্রেফতার হন, যার মধ্যে ২২ হাজার ৯৯৫ জনই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। 

মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে ৪০টি সভা ও সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা প্রদান করে। এতে ৩১১ জন ব্যক্তি আহত ও ৩৮ জন আটক হন, যাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এছাড়া, এই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর বিভিন্ন ধারার অধীনে পৃথক ৩০টি মামলায় ৮১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৪ জনকে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তির সমালোচনায় ১ জনকে পিটিয়ে হত্যা, ২ জন আহত, ১৮ জনকে আটক ও ১৭ টি মামলা হয়েছে। এছাড়া ১৭ জনকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কুরআন অবমাননার অভিযোগে আটক করা হয়েছে, এবং এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা দায়ের ও ১ জন মারধরের শিকার হয়েছে। যেখানে, ২০২৫ সালের একই সময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩–এর অধীনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া মোট ১৬টি মামলায় ২৩ জনকে অভিযুক্ত এবং ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করা বলা হয়েছে, এই সময়ে ২০০টি হামলার ঘটনায় ৩৮৩ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩৪ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ৬০ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৪৯ জন সাংবাদিক এবং ১১ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর অধীনে ৩৩ জন সাংবাদিককে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা হয়েছে। যেখানে, ২০২৫ সালে একই সময়ে ১৫২টি ঘটনায় ২৫৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন, এর মধ্যে আহত ছিলেন ১১১ জন। নির্যাতন বেড়েছে ৪৯ শতাংশ।

মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় সারাদেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগবিতন্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ২৬১টি ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। যেখানে, ২০২৫ সালের একই সময়ে ১৪১টি ঘটনায় অন্তত ৬৭ জন নিহত এবং ১১৯ জন আহত হন।

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫০টি হামলার ঘটনায় ৫৬ জন আহত হয়েছেন, এবং ১৯ টি মন্দির, ১৫ টি প্রতিমা ও ৪৩ টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। জমি দখলের ৪ টি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এক নারী গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যা, ২০২৫ সালের একই সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ১০টি হামলায় ৪ জন আহত ছিলো, সে সময়ে ১টি মন্দির, ১১টি প্রতিমা এবং ১৮টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। 

সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনা বলা হয়, গত ছয় মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩২টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় ৯ জন নিহত, ৩৫ জন আহত হয়েছেন, এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৪ জন। এছাড়া ৩৮ জনকে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অন্তত ১৭৩ জনকে পুশইন করা হয়েছে। এছাড়া, ৪১৬ জনকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) ও স্থানীয়রা প্রতিহত করেছে। অপরদিকে, সিলেট সীমান্তে খাসিয়া সম্প্রদায়ের গুলিতে ১ জন নিহত হয়েছে এবং সীমান্তে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। যেখানে, ২০২৫ সালের একই সময়ে সীমান্তে ৪০টি ঘটনায় বিএসএফের গুলিতে ১৪ জন বাংলাদেশি নিহত, ২০ জন আহত এবং ২৭ জন গ্রেফতার হন।

অপরদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২০টি সহিংসতার ঘটনায় ১ জন নিহত, ৫ জন আহত, গুলিবিদ্ধ ৫ জন এবং ৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মি কর্তৃক পুঁতে রাখা স্থল মাইন বিস্ফোরণে ৬ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে।  

বিচার বহির্ভূত হত্যার (হেফাজতে/নির্যাতনে/গুলি/বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যু) বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত, এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ এবং কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’র ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে নিহত ছিলেন ১৪ জন। নিহত ১১ জনের মধ্যে হেফাজতে ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ৫ জন, গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন এবং বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে গ্রেফতার এড়াতে পালাতে গিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

কারা হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে ৫৮ জন আসামি মারা গিয়েছেন। ৫৮ জনের মধ্যে ২৬ জন কয়েদি ও ৩২ জন হাজতি। এর মধ্যে ১৫ জন আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের, ১ জন বিএনপির এবং ৪২ জন সাধারণ কয়েদি। যেখানে ২০২৫ সালে এ সময়ে ৪০ জন মৃত ছিলেন, এর মধ্যে ১৩ জন কয়েদি এবং ২৭ জন হাজতি। 

দীর্ঘদিন গুম/জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ না থাকলেও গত এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে বাগেরহাটের মোংলায় কোস্ট গার্ড পরিচয়ে মিরাজ শেখ (৩২) নামে এক যুবককে দুজন সিভিল পোশাকধারী কোস্টগার্ড সদস্য কর্তৃক তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সংবাদ সম্মেলন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। যা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। 

শ্রমিক নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে ৩৩১টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৭৪ জন নিহত ও ১ হাজার ৩ জন আহত হয়েছেন। যা, ২০২৫ সালে একই সময়ে ১১২টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৫৯ জন নিহত এবং ৭২০ জন আহত ছিলো। 

এছাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে ও দুর্ঘটনায় ২১৬ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন, যেখানে ২০২৫ সালে একই কারণে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলনের সময় ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ২ জন গৃহপরিচালিকা নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছে। এছাড়া দুই জন গৃহপরিচালিকার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। 

গত ছয় মাসে নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ১ হাজার ৪২ জন ছিল। অর্থাৎ নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যা শিশুর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪০৪ জন, যাদের মধ্যে ২৩৮ জন (৫৯%) ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু ও কিশোরী। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, ৮৮ জন (২৭%) নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে। ধর্ষিত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১ জন। 

৪৭৬ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তন্মধ্যে শিশু ১৭৩ (২৩%) জন। এছাড়া, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ১৯ জন, আহত ৮ জন ও ৩ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৩২০ জন, আহত হয়েছেন ২১১ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৪৭ জন নারী। এছাড়া এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৪ জন নারী। 

অন্যদিকে, এটি উদ্বেগজনক যে, ১ হাজার ৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৩০৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৭২ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যা ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৭৩ জন শিশু, যার মধ্যে ১৩২ জন নিহত এবং ৫৪১ জন নির্যাতনের শিকার হয়।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃঢ় হয় এবং মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।  
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন, রাজনৈতিক উত্তেজনা, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ-এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। 

মেসি-আর্জেন্টিনার সামনে নতুন ইতিহাসের হাতছানি
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
ইংল্যান্ডকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
মার্তিনেজের গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত গোলে সমতায় আর্জেন্টিনা
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস মেসির
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনার জাল কাঁপাল ইংল্যান্ড
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence