ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন: বেসিক ভাঙার সিদ্ধান্তে যেসব জটিলতার আশঙ্কা

০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ AM
নবম জাতীয় পে স্কেল

নবম জাতীয় পে স্কেল © টিডিসি সম্পাদিত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল দুটি ধাপে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার (১ জুলাই) প্রথমে তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে দুই ধাপে বাস্তবায়ন হলেও বেসিক বা মূল বেতন ভেঙে পার্সেন্টেজ দেওয়া হলে দেখা দিতে পারে বেশ কিছু জটিলতা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল বেতন ভেঙে পার্সেন্টেজ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ফিক্সেশন (বেতন নির্ধারণ) করলে সারা দেশে বড় ধরনের সফটওয়্যার ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এগুলো এড়াতে বেসিক একবারে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশন সিস্টেমটি ছিল ম্যানুয়ালি বা হাতে লেখা। তখন কর্মচারীদের সার্ভিস বুক বা এসআরে বেতনের হিসাব হাতে লিখে করা হতো বলে যেকোনোভাবে তা সমন্বয় করা যেত। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের সকল সরকারি কর্মচারীর বেতন ‘ইএফটি’ এবং অনলাইন ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন যদি ফিক্সেশন সিস্টেমটা বেসিক ভেঙে দেওয়া হয়— মনে করেন, প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বা ৬০ শতাংশ দেওয়া হলো, তাহলে আইবাস সিস্টেমে ওই ৫০ শতাংশের জন্য নতুন কোডিং বা সেটআপ তৈরি করতে হবে। আবার কিছুদিন পর যখন বাকি অংশ দেওয়া হবে, তখন পুরো সফটওয়্যার চেঞ্জ করে ১০০ পারসেন্ট করতে হবে।

এই সফটওয়্যার পরিবর্তন কিন্তু শুধু একটি অফিসের জন্য নয়, সারা বাংলাদেশের সকল অফিসের জন্য একবারে করতে হবে, যা অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া ধাপে ধাপে বেতন বাড়ালে কর্মচারীদের ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের কাজও দুইবার করতে হবে বলে উল্লেখ করেন আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে একবার ৫০ শতাংশ বা ৬০ শতাংশ বেতনের ফিক্সেশন করতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে বাকি অংশের জন্য আবার নতুন করে ফিক্সেশন করতে হবে। এর ফলে একই কর্মচারীর জন্য দুইবার ফিক্সেশন করার কারণে প্রশাসনিক স্তরে চরম বিশৃঙ্খলা ও অতিরিক্ত শ্রমের অপচয় হবে।

আরও পড়ুন: এইচএসসিতে কম-বেশি নাম্বারিং মনিটরিং করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সরকারি কর্মচারী নেতা আব্দুল মালেক বলেন, যারা পিআরএল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) শেষ করে চূড়ান্তভাবে বিদায় নিচ্ছেন, নিয়ম অনুযায়ী পরের দিনই তাদের ফাইনাল সেটেলমেন্ট বা পাওনা একবারে বুঝিয়ে দিতে হয়। যারা চাকরিতে বহাল আছেন, তাদের না হয় সরকার আজকে ৫০ শতাংশ আর ছয় মাস বা এক বছর পর বাকি ৫০ শতাংশ দিতে পারবে। কিন্তু যিনি আজকেই চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বিদায় নিচ্ছেন, তাকে কীভাবে ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া সম্ভব?

তার মতে, ডিজিটাল আইবাস সিস্টেমে এককালীন অবসর নেওয়া কর্মচারীদের জন্য এভাবে ধাপে ধাপে হিসাব রাখা এবং পাওনা আটকে রাখা বড় ধরনের জটিলতা ও বৈষম্য তৈরি করবে।

ডিজিটাল যুগের এ বাস্তব কারিগরি সমস্যাগুলো বিবেচনা করে বিকল্প প্রস্তাব পেশ করেন আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অসঙ্গতি বা আর্থিক ক্রাইসিস থাকলে সরকার পে-স্কেলকে দুই ভাগে ভাগ করতেই পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সঠিক নিয়ম হবে— প্রথম ধাপে কর্মচারীদের বেসিক বা মূল বেতনটি একবারে (১০০ পারসেন্ট) ফিক্সেশন করে দেওয়া হোক। আর দ্বিতীয় ধাপে চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য যে সব ভাতা আছে, সেগুলোকে পরে কার্যকর করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মূল বেতনটি একবারে দিলে কোনো সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না, বেসিক ভাঙারও প্রয়োজন পড়বে না। পিআরএল-এ থাকা কর্মচারীরাও তাঁদের চূড়ান্ত পাওনা একবারে বুঝে পেয়ে ঝামেলামুক্তভাবে বিদায় নিতে পারবেন।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে বড় চমক, আত্মবিশ্বাসী দে ল…
  • ০২ জুলাই ২০২৬
নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্…
  • ০২ জুলাই ২০২৬
ব্রাজিল–জাপান খেলা নিয়ে তর্কের জেরে শালিশ, হামলায় প্রাণ গেল…
  • ০২ জুলাই ২০২৬
মরক্কোকে জেতানোর নায়ক সাইবারিকে দলে ভেড়াল বায়ার্ন
  • ০২ জুলাই ২০২৬
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু
  • ০২ জুলাই ২০২৬
ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন: বেসিক ভাঙার সিদ্ধান্তে যেসব জ…
  • ০২ জুলাই ২০২৬