জাতীয় পে স্কেল © টিডিসি সম্পাদিত
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের আগেই পুরাতন স্কেলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট অপশন চালু করায় বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক। বলেছেন, নতুন স্কেলের সুবিধা থেকে কর্মচারীদের বঞ্চিত করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সাক্ষাৎকারে আব্দুল মালেক সরকারি চাকরিতে ইনক্রিমেন্ট বা বার্ষিক ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন।
আব্দুল মালেক জানান, বার্ষিক ৫% বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে হওয়ার কথা। তবে অতীতে এই সিস্টেমটি এমন ছিল না। আগে নিয়ম ছিল, একজন কর্মচারী যে তারিখে চাকরিতে যোগদান করতেন, ঠিক তার পরের বছর সেই একই তারিখে তার ১ বছর পূর্ণ হতো এবং বেতনের সাথে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হত। অর্থাৎ, কেউ জানুয়ারির ১ তারিখে যোগ দিলে ওই তারিখে এবং কেউ ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখে যোগ দিলে ওই ১০ তারিখেই ইনক্রিমেন্ট পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের পর অনলাইন পে-ফিক্সেশন বা ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) সিস্টেম চালু হওয়ার পর হিসাবের সুবিধার জন্য সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ইনক্রিমেন্ট ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়। আইবাসের সুবিধার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল যেন একটি নির্দিষ্ট অপশনে সবাই একসঙ্গে এটি ক্রিয়েট করতে পারেন।
সরকারি কর্মচারীদের এই নেতা অভিযোগ করেন, নতুন পে-স্কেলের গেজেট জারি না হওয়ায় এবারের ১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্টটি সবাইকে পুরাতন স্কেল অনুযায়ী নিতে হচ্ছে। অথচ নতুন স্কেলে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলে সাধারণ কর্মচারীরা অনেক বেশি লাভবান হতেন।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে একজন কর্মচারীর পুরাতন স্কেল যদি ৮ হাজার ২৫০ টাকা হয়, তবে তার ৫% ইনক্রিমেন্ট আসে মাত্র ৪০০ টাকার কিছু বেশি। কিন্তু নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর ফিক্সেশন কমপ্লিট হলে এই স্কেলটি যদি ২০ হাজার টাকা হত, তবে ২০ হাজার টাকার ৫% ইনক্রিমেন্ট আসত প্রায় ১ হাজার টাকা। ফলে কর্মচারীদের বেতন অনেক বেশি বৃদ্ধি পেত।
গেজেট প্রকাশের আগে ইনক্রিমেন্ট অপশন চালু করার পেছনে সরকারের অর্থ বাঁচানোর কৌশল রয়েছে উল্লেখ করে আব্দুল মালেক বলেন, সরকারের অর্থটা (নতুন স্কেলে দিলে) বেশি লাগত, যার কারণেই সরকার হয়তো এই ইনক্রিমেন্টটা পুরানো স্কেলে দেয়ার জন্যই অপশনটা আগে চালু করে দিয়েছে। আগে অপশন করে দিয়েছে যাতে আমরা কর্মচারীরা ঠকি। মানে কর্মচারীদের যতভাবে ঠকানো যায়, বঞ্চিত করা যায়— এই অপশনটাই হচ্ছে সে রকম।
তিনি দাবি করেন, পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর যদি নতুন স্কেলের ওপর ভিত্তি করে এই ইনক্রিমেন্ট হিসাব করা হত, তবে দেশের সকল স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকৃত অর্থেই লাভবান হতেন।