পে-স্কেল © ফাইল ছবি
দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের চাপে বিপাকে পড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবার সর্বোচ্চ দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ধাপে ধাপে দীর্ঘ সময় নিয়ে বেতন কাঠামো কার্যকর করা হলে এর বাস্তব সুফল মিলবে না।
কর্মচারীরা বলছেন, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১,২০০ টাকা থেকে ২,২০০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, পানি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
তাদের দাবি, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান ও প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণ নিচ্ছেন। মাস শেষে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার পর হাতে থাকা অর্থ দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি পরিবার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পে-কমিশন গঠন করা হলেও তার কার্যক্রম নিয়ে স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, সরকার তিন বছরে তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করতে পারে। তবে এ ধরনের প্রস্তাব কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ‘দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর যদি পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে বাস্তবে এর সুফল পাওয়া যাবে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই বৃদ্ধি কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে।’
সংগঠনের সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় ‘কাজ বেশি, মাইনা কম’—এই অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। তাই দ্রুত ও কার্যকরভাবে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।’
কর্মচারীদের মতে, ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না। বরং মূল্যস্ফীতির কারণে আংশিক বেতন বৃদ্ধি কোনো কার্যকর স্বস্তি এনে দেবে না।
এমতাবস্থায় তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে সর্বোচ্চ দুই ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতাসমূহ কার্যকর করা হলে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
তাদের মতে, এতে দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে।