বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু © ফাইল ছবি
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দাবি করেছেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। তারপরও সরকার তিন মাসের জন্য জ্বালানি মজুত (বাফার স্টক) নিশ্চিত করতে যাচ্ছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির অস্থিরতার সুযোগে একটি গোষ্ঠী মজুতদারি ও কালোবাজারি শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার পাশাপাশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, একটা প্যানিক বায়িং শুরু হয়েছে। এ কারণে সরকারকে চাপে থাকতে হয়। আমাদের দেশের রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় একদল ব্যক্তি এ ধরনের পরিস্থিতিকে পুঁজি করতে চায়।
এদিকে, বুধবার বিকেলে মন্ত্রীপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ সভা শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের জ্বালানি ‘এক মাসের মত’ মজুদ থাকার কথা জানান। তবে কোন ধরনের তেল কী পরিমাণে রয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাসিমুল গনি বলেন, আমাদের এর আগে সাধারণত ১৫ দিনের মজুদ থাকত। এখন পর্যন্ত মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে অনেকটা ‘প্যানিক বায়িং’ হচ্ছে। তবে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসলে এটা হয়তো কয়দিন পরেই কেটে যাবে।
এ মুহূর্তে কতদিনের জ্বালানি তেল রয়েছে এবং কোন তেলের কতটুকু মজুদ আছে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখন এক মাসের মতো জ্বালানি আছে। সব তেলেরই আছে। একটা প্রপোরশন করে আছে। আমার কাছে হিসাব চাবেন না। আমি দিতে পারব না।
এদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি পরিস্থিতি ‘রিভিউ করেছেন’ বলে জানান মন্ত্রি পরিষদ সচিব। জ্বালানি নিয়ে বিশেষ সভা ছাড়াও এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। সেখানে রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত অর্থ আইন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে পাঁচ অধ্যাদেশ জারি করেছিল সেগুলো আইন হিসেবে উপস্থাপনের জন্য নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে বলে তিনি তুলে ধরেন।