ডা. জুবাইদা রহমান © সংগৃহীত
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণ ও হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কলিউশন সামিটে যোগ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্র দফতরে আয়োজিত দুদিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। এজন্য বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে উন্নত বিশ্বের কাছে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে সরকার কাজ করছে।
ডা. জুবাইদা রহমানের পুরো বক্তব্যটি এখানে তুলে ধরা হলো-
আপনাদের সবাইকে জানাই শুভ সকাল। ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ এর মতো ঐতিহাসিক আয়োজনে আপনাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের একত্রিত করার জন্য আমি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এমন একটি উদ্দেশ্যে, যা প্রতিটি দেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় সেই দেশের শিশুদের জীবন দিয়ে। আজ আমরা তাদের যে শিক্ষা দিচ্ছি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলছি, সেটিই আগামী দিনে একটি জাতির ভিত্তি নির্মাণ করবে।
আমি এমন এক সময়ে আমার দেশ থেকে এখানে এসেছি, যখন আমার স্বামী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অগ্রসরমান রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে সহায়তা করছে এবং শিশুদের নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে উঠতে সহায়তা করছে। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজপ্রাপ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধু চিকিৎসা নয়, জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও সুরভীর সঙ্গে আমার কাজ শিক্ষা, যুব উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।
আমরা বিশ্বাস করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও সম্পদের প্রাপ্যতায় বৈষম্য রয়েছে। আমাদের সরকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করছে। শিক্ষকদের ট্যাবলেট ও কম্পিউটার দেওয়া হচ্ছে, পাঠ্যক্রম হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং শিক্ষাদানে নতুন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষগুলোকে মাল্টিমিডিয়া-সমৃদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে দলগত কাজ, সৃজনশীলতা ও নৈতিক বিকাশ উৎসাহিত হয়।
প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষা প্রযুক্তি, শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আমরা এসব প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহারের প্রতিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানবাধিকার উন্নয়ন ও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গার্মেন্টস শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা লাখো নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। এর ফলে পরিবার শক্তিশালী হয়েছে এবং শিশুদের জীবনমান উন্নত হয়েছে।
আমরা অংশীদারিত্বের গুরুত্বও উপলব্ধি করি। বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি, প্রশিক্ষিত শিক্ষক গড়ে তোলা, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করা, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত রাখা এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আমরা একসঙ্গে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি, যারা হবে সহনশীল, মানবিক এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।
সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। জ্ঞান বিনিময়, পারস্পরিক শেখা এবং সীমান্ত পেরিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা শুধু আমাদের দেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং বিশ্বকেও আরও শক্তিশালী করতে পারি। ধন্যবাদ।