প্রধানমন্ত্রীর তিনদিনের কর্মকাণ্ড

জনআকাঙ্খার রাজনীতির পথে তারেক রহমান

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১২ PM , আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫ PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © সংগৃহীত

বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম তিনদিনেই তার কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন পদক্ষেপে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। এটা কি কেবল ইমেজ নাকি প্রশাসনিক পরিবর্তনের একটা ইতিবাচক সূচনা? মাত্র ৭২ ঘণ্টায় কি এমন করলেন তারেক রহমান যার প্রভাব শুধু বাংলাদেশের ভেতরেই নয় বরং প্রতিবেশী দেশগুলো ও চার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম তিনদিনের কর্মকাণ্ড, বক্তব্যে তার রাজনৈতিক এবং আঞ্চলিক প্রভাব শুধু দেশের জনগণই নয়, আশপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোও গভীর আগ্রহ নিয়ে প্রত্যক্ষ করছে। 

দায়িত্ব নেয়ার পর জাতির উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃঢ় ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা করেছেন তিনি। দখল চাঁদাবাজি এবং বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার অঙ্গীকার শোনা গিয়েছে তার কণ্ঠে। সচিবালয় নির্ধারিত সময়ের আগেই তার উপস্থিতি গোটা বাংলাদেশে এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। আর প্রোটোকল কমিয়ে ঢাকার যানজটের মধ্যে চলাচল নিঃসন্দেহে একটি পাহাড়সম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান। এক্ষেত্রে ট্র্যাফিক শৃঙ্খলা নিয়ে সরাসরি তার বার্তা না হলেও নিজে যখন প্রোটোকল কমিয়ে ঢাকার যানজটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তখন নিঃসন্দেহে ট্র্যাফিক শৃঙ্খলা নিয়ে তার বার্তা জনগণের কাছে স্পষ্ট।

প্রথম দিন বুধবার মন্ত্রিসভার সভা সচিবালয়ে

বিএনপির নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, গেল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংসদীয় নেতা হিসেবে প্রায় দুই শতাধিক এমপিদের নিয়ে সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় সদস্যদের নিয়ে একঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতেই তিনি সংসদ সদস্যদের জন্য অত্যন্ত লোভনীয় কিন্তু জনগণের কাছে ব্যাপক সমালোচিত দুটি বিষয়ে নিজের কঠোর মনোভাব তুলে ধরে নির্বাচিত এমপিদের মতামত জানতে চান। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে আপনাদের সামনে আমার নিজস্ব কয়েকটি চিন্তা তুলে ধরব। আশাকরি আপনারা আমার এ চিন্তাকে বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতা করবেন। এ সময় তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেই সদস্যরা প্রথমে ‘ট্যাক্স ফ্রি’ গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করতে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। আমি চাই, আইন করে এই সুবিধা বিলুপ্ত করতে। আপনারা কি আমার মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন?

তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে তারেক রহমান

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেয়া সকল বিএনপি দলীয় ও জোটভুক্ত সদস্যগণ দুই হাত তুলে নিজেদের সমর্থনের কথা প্রকাশ করেন। তারা উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, আপনি আমাদের নেতা, আমাদের অভিভাবক। আমাদের গাইড। আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা জীবন দিয়েও তা পালন করব।

এরপর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে নিজের দ্বিতীয় মতটি তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি তাদের বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেই ঢাকায় একটি ‘প্লটে’র মালিক এই স্বপ্ন আপনাদের বাদ দিতে হবে। আমি চাই, নতুন করে কেউ (কোনো সংসদ সদস্য) আর ঢাকায় প্লট পাবেন না। আপনারা কি আমার সঙ্গে একমত? পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় অতিথিদের ছাড়া নিত্যদিন আমরা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করবো এবং ব্যক্তিগত চালক ও জ্বালানি খরচও বহন করবো।

তারেক রহমানের দ্বিতীয় এই মতামত ও সিদ্ধান্তের প্রতিও সমস্বরে সব সদস্য উচ্চস্বরে নিজেদের সমর্থন প্রকাশ করেন। এরপর তারেক রহমান সদস্যদের জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সরকার জিরো টলারেন্স। কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। আমি চাই, আমার কোনো সদস্যের (এমপি) বিরুদ্ধে কোথাও যেন দুর্নীতির অভিযোগ না উঠে। ভবিষ্যতে আপনাদের কারও কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড যেন আমাকে বিব্রত না করে। কারও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও জনমনে সমালোচনা তৈরি হলে আপনারা মনে রাখবেন, সে যেই হোন, আমি তা বরদাশত করবো না। তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেব। ন্যূনতম ছাড় দেব না। বিষয়টি আপনারা গভীর মনোযোগ দিয়ে মনে রাখবেন।   

নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আমাদের নেতা দুই শতাধিক সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সেই বৈঠক ছিল দরজা বন্ধ বৈঠক। 

তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা পর্বের পরপরই চেয়ারম্যান সকলের উদ্দেশ্যে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা আইন করে বিলুপ্ত করার নিজের সিদ্ধান্তের কথা ও এমপি হলেই রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকায় বাড়ি করার প্লট বরাদ্দের যে রীতি চালু আছে, তাও বন্ধ করার কথা জানিয়ে সদস্যদের প্রতিশ্রুতির কথা জানতে চান। 

মঞ্জুর এলাহী বলেন, আমরা দুই হাত তুলে আমাদের নেতাকে তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমর্থন দিয়েছি। ‘ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট’ এই দুটিই লোভনীয় বিষয়। কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার লোভনীয় বিষয়। কিন্তু আমাদের নেতা তারেক রহমানের ভিশনারি বাংলাদেশে গড়তে আমরা সেই লোভকে বিসর্জন দিয়েছি। যে কোনো প্রকারে আমরা দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে তাকে সহযোগিতা করব।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ নিচ্ছেন। মঙ্গলবারের ছবি

এদিকে, নতুন প্রধানমন্ত্রী এই দুটি সিদ্ধান্ত সাধারণ জনগণের কাছে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এই বিষয়গুলো নিঃসন্দেহে কোন আলাদা ঘটনা নয় কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন তারা। 

এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। রাষ্ট্র চলবে আইনের শাসন আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপোষ নেই। ভালোর সঙ্গে থাকবো, কালোর বিরুদ্ধে লড়বো। ওই ভাষণে তিনি প্রতিহিংসার ভাষা একবারের জন্যও ব্যবহার করেননি বরং শৃঙ্খলা জবাবদিহিতা এবং দায়িত্ববোধের কথা তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। এটি বাংলাদেশের চলমান রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাধারণত ভাষণ হয় আক্রমণাত্মক। আর তারেক রহমানের ভাষা ছিল দৃঢ় কিন্তু সংযত। 

এছাড়া, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক বলয় কেন্দ্র সচিবালয়কে সক্রিয় করতে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিজের দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই বার্তা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময় বা তার আগেই নিজে সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রশাসনের জন্য স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন যে, কাজের গতি বাড়াতে হবে। সময়নিষ্ঠতা মানতে হবে। আমলাতন্ত্রকে নতুন ছন্দে চলতে হবে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক শৈথিল্য নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতি সেই জায়গাতেই প্রথম দিনই আঘাত হেনেছে। 

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রটোকল কমিয়ে ঢাকার যানজটের মধ্যে চলাফেরা এক হিমালয়সম দৃষ্টান্ত। ঢাকা বিশ্বের অন্যতম যানজটপূর্ণ শহর হিসেবে বহু আন্তর্জাতিক রিপোর্টেই উঠে এসেছে। এমন শহরে প্রধানমন্ত্রী নিজে যদি প্রটোকল কমিয়ে চলেন, এটা কেবল শুধুমাত্র সাহসী কোন পদক্ষেপ নয় বরং এটি একটি রাজনৈতিক গভীর বার্তা। তার এই উদ্যোগ জনগণকে বার্তা দিয়েছে শুধু পুলিশ দিয়ে হবে না, নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে হবে। এটি প্রশাসনিক নির্দেশ নয় বরং এটি একটি সামাজিক চুক্তি।

ট্র্যাফিক সিগন্যাল মেনেই চলাচলে অপেক্ষারত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর

এর বাইরে, তারেক রহমানের মন্ত্রীপরিষদের কয়েকজন মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দখলদারদের ছাড় দেয়া হবে না। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা ভাঙলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য থাকবে না। এই বার্তা মাঠ প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক ছায়া থাকলে আইনের প্রয়োগ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে। কত কয়েক বছরে মানুষের অসন্তোষ জমেছে। নিত্যপণ্যের মূল্য রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ব্যবসায়ী সমাজের নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে। প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়, বরং বাংলাদেশে এটা বটবৃক্ষে রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক মেরূকরণ বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। আর এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রথম কাজ ছিল আস্থা পুনর্গঠন করা। প্রথম তিনদিনের পদক্ষেপ সেই মনস্তাত্ত্বিক জায়গায় আঘাত করেছে। 

কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভারী প্রটোকল প্রশাসনিক দূরত্ব প্রতিপক্ষ কেন্দ্রিক ভাষণ তারেক রহমান প্রথম তিনদিনেই ভিন্ন ছবি তৈরি করলেন। সময়ের আগে সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রটোকল কমিয়ে যানজটে চলাফেরা করে প্রতিহিংসা মুক্ত কিন্তু দৃঢ় ভাষণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান এটি ক্ষমতার দূরত্ব কমানোর ইঙ্গিত। আর এখানেই গতানুগতিক ট্রেন্ড ভাঙার সম্ভাবনা।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে তারেক রহমান

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে আমাদের সাধারণ জনগণের মধ্যে সরকার বা জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারেক রহমানের এসব পদক্ষেপ প্রথমত জন আস্থা পুনর্গঠন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনিক আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হয়তো প্রথম দিন থেকেই সেই মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল ভাঙতে চেয়েছেন এবং দ্বিতীয় আরেকটি কারণ বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের উপর নির্দিষ্ট একটি বার্তা পৌঁছে দেয়া। মধ্যবিত্ত ও শহরের ভোটাররা দৃশ্যমান শাসন দেখতে চান।

তিনি বলেন, সচিবালয় আগে পৌঁছানো এটি কর্মসংস্কৃতির প্রতীক। দেখুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দুদিনের কর্মসূচি প্রতিবেশী দেশগুলোকে দেখানো যে নতুন সরকার স্থিতিশীল এবং প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম দুদিন বাংলাদেশের মানুষকে বোঝালেন তিনি জনগণের সঙ্গে রয়েছেন। প্রোটোকল কমানো ও নাগরিক দায়িত্বের আহ্বান সময়নিষ্ঠ প্রশাসনিক বার্তা আর এসব তাকে গ্রহণযোগ্য নেতার মুকুট প্রথম দিনই পড়িয়ে দিয়েছে। তারেক রহমান প্রথম দুদিন একটি নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করেছেন। যা অতীতের ধারা ভেঙে জনপ্রিয়তা ভিত্তি রাজনীতির সূচনা। 

এদিকে, সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তৃতীয় দিন প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অফিস করেন তারেক রহমান। সেখানে পুরোনো কর্মচারীদের দেখে কাছে ডেকে কথা বলেন তিনি। 

আজ শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে আসার পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলার সময়ে প্রধানমন্ত্রী পরিচিতদের কয়েকজনকে ডেকে কথা বলেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সরকারি গাড়িতে চড়ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের ব্যক্তিগত গাড়িই ভরসা

তিনি বলেন, ১৯ বছরে আগের যখন ম্যাডাম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সেই সময়কার কর্মচারীদের কয়েকজনকে দেখে প্রধানমন্ত্রী নাম ধরে ডাকেন এবং তাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। এটা একটা স্মরণীয় ঘটনা। আজকে প্রধানমন্ত্রী অফিসে এসে প্রথমে এসে বাগানের বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করার সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী দূর থেকে কর্মচারী সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন কর্মচারীকে দেখে তাকে নাম ধরে ডাকেন। ওই কর্মচারী তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে দৌড়ে আসেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। করমর্দন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। এই সময়ে আরও কয়েকজন কর্মচারীকে নাম ধরে ডেকে তাদের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে এই কার্যালয়েই অফিস করেছেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ম্যাডামের সময়ে কাজ করেছেন এমন কিছু কর্মচারী যারা ১৯ বছর আছে নবীন ছিলেন এখন তার চুলে পাক ধরেছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে চিনতে ভুল করেননি। নিজেই নাম ধরে তাদেরকে ডেকে কথা বলেছেন। ওই সব কর্মচারীরা যেমন আবেগ আপ্লুত হয়েছেন তেমনি অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিস্মিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা এবং কথার ব্যবহারে।

শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর গত দুইদিন সচিবালয়ে তার দফতরে অফিস করেছেন তারেক রহমান। আজকেই প্রথম তিনি এখানে অফিস করেন।

অপরাধী ও চাঁদাবাজকে ছাড় নয়: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডুসালসের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে মাহমুদুল-ফরহাদ
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওজিলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে মাঠ মাতাল রোহিঙ্গা খেলোয়াড়রা
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ড্যাব-এর কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলা, আটক এক
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টিসিবির কার্যক্রমে নাগরিক সমাজকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হবে:…
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬