অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৪ PM
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং © টিডিসি সম্পাদিত

জাতিসংঘের অধীন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

পরে অন্তর্বর্তী সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যমুনায় প্রবেশচেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে এতে বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি। আজ বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (lethal weapon) ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

‘‘সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।’’

বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

‘‘সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’’

বিবৃতিতে সবশেষে বলা হয়, দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

‘প্রিয় তারেক রহমান’ সম্বোধন করে জামায়াত আমিরের ওপেন ডিবেটের…
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম–৮ আসনে ছাত্রশক্তির নির্বাচন সমন্বয় কমিটি গঠন
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপিকে ভাবাচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী, ঘুরে দাঁড়াতে চায় জামা…
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এবার দফায় দফায় সংঘর্ষ শাহবাগে, আন্দোলনকারী–পুলিশ মুখোমুখি
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পুলিশের লাঠিচার্জে আহত সেই তাহরিমা
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপি-জামায়াতের শক্তি কোথায়, দুর্বলতা কোথায়
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬