ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট © টিডিসি সম্পাদিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বজায় রাখা, ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার পরিবেশ তৈরি এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তায় থাকছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছেন।
এদিকে, রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথে ও আশপাশ এলাকাগুলোতে বসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট। উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনাবাহিনীর বিশেষ ফুট প্যাট্রোল টহল পরিচালিত হচ্ছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে বসিলা ও শেরেবাংলা সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের রায়েরবাজার ও আদাবরসহ একাদিক বাসিক এলাকায় এটি পরিচালনা করেন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের আশপাশে এই তৎপরতা জোরদার করা হয়।
সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচনের আগে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করা। ফুট প্যাট্রোল চলাকালে সেনাসদস্যরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত দিনে এবং রাতে এ ধরনের নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং যে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা যায়।
এদিকে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর দিকনির্দেশনা জারি করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ করে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি সরাসরি তদারকি করার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন সেনা সদস্যদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং মোতায়েনকৃত সেনা সদস্যদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিচ্ছেন।
গত ২২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘আইন- শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ খোলা হয়েছে। এই সেলটিতে প্রতিদিন দেশের সব জেলা প্রশাসক নিজ নিজ জেলার পরিস্থিতি জানাচ্ছেন। আর সেল থেকে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেলের প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার। নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতে এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে ২৫ হাজার ৫০০টি বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ক্যামেরা সরাসরি ইন্টারনেট বা সিম কার্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ দেখা দিলে সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। বাকি ১০ হাজার ক্যামেরা অফলাইনে ভিডিও ধারণ করবে, যা পরে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এ ছাড়া আকাশপথে নজরদারির জন্য ৫০০টি ড্রোন এবং স্থলভাগে নজরদারির জন্য ২১ হাজার ৯৪৬টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। ড্রোন ব্যবহার করবে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনী।
নির্বাচনে মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বিজিবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় লেথাল ওয়েপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান। আজ দুপুরে মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের অস্থায়ী বেস ক্যাম্পে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
এস এম আবুল এহসান বলেন, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই নির্বাচনে সারাদেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলা ভেঙ্গে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে।
সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য আসন্ন নির্বাচনের আগে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ভোটাররা ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।