ভারতে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ AM
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার © টিডিসি সম্পাদিত

ভারতে বসে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।

এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার এবং আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সরকার বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে।”

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক সেমিনারে শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও ভাষণ শোনানো হয়।

ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ জানিয়ে গত বছরের ঘটনাবলির ‘নিরপেক্ষ তদন্ত’ করার দাবি, যাতে ‘খাঁটি সত্যটা’ জানা যায়। এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু ও বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা ইত্যাদি বিষয়ও ‘বিশ্বের নজরে’ আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, পরপর দুই সপ্তাহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের নেতারা দুটি সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত ছিলেন।

এসব প্রসঙ্গ টেনে গতকাল রবিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই দেশের মধ্যে থাকা দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাপর্ণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের সরকার বারবার অনুরোধ করার পরেও ভারত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেনি, যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। বরং ভারত তাকে নিজেদের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এরকম উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটা পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানীতে বসে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অন্তরায়। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভবিষ্যত সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া এরকম উস্কানিমূলক বক্তব্য আবারো প্রমাণ করেছে যে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের দায়ী করা হবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা। 

সৌদি-আমিরাতে রমজান শুরু কবে, জানা যাবে আজ
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন সংসদ-সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ আজ, প্রস্তুত সংসদ ভবনের দ…
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নবনির্বাচিত এমপির মা…
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীতে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকে ছুরিকাঘাত
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আমার সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে ‘চাঁদাবাজি’ করলে পুলিশে দিন…
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি আসিফ, সেক্রেটারি ইমদা…
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!