প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ টেলিযোগাযোগ সেবায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে উন্নত মানের কাভারেজে ৪জি ও ৫জি সেবার বিস্তারের পথ উন্মোচিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এই তরঙ্গ উন্মুক্ত করার মাধ্যমে সরকারের রাজস্বে ২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি জানান, ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (আইটিইউ) এই ব্যান্ডটিকে মোবাইল সার্ভিসের জন্য উন্মুক্ত করলেও বাংলাদেশে এটি এতোদিন জিম্মি হয়ে ছিল, যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুই স্তরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার পোস্টে উল্লেখ করেন, '৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ নিলাম থেকে সরকারের রাজস্বে ২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। ২০০৭ সালের দিকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (আইটিইউ) ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন (IMT Band, 3GPP TS 36.101) ৭০০ মেগাহার্জকে মোবাইল সার্ভিসের জন্য প্রাইমারি ব্যান্ড হিসেবে উন্মুক্ত করে।'
দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙে এই অর্জনের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, 'প্রায় ১৮ বছর ধরে দুর্বৃত্তদের হাতে জিম্মি থাকার পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ উন্মুক্ত করতে সক্ষম হয়, এবং এতে সরকারের ২৩৭০ কোটি টাকার সুবিশাল রাজস্ব আসছে। সরকারকে এজন্য দুই স্তরের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ টেলিযোগাযোগ সেবায় যুক্ত হতে চলেছে। এর মাধ্যমে উন্নত মানের কাভারেজ দিয়ে বাংলাদেশে 4G এবং 5G সেবার বিস্তারের পথ উন্মোচিত হলো।'
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'কিছুদিনের মধ্যে ই-জিএসএম ব্যান্ডসহ লোয়ার ব্যান্ডের অন্যান্য অব্যবহৃত তরঙ্গ সমূহ উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেখান থেকেও ক্রমান্বয়ে ১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসবে বলে আশা প্রকাশ করি। পাশাপাশি সরকারি টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক এর জন্যও লোয়ার ব্যান্ড তরঙ্গ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।'