দুটি পে স্কেল হওয়ার কথা থাকলেও একটিও হয়নি, যে হুশিয়ারি দিলেন অধ্যক্ষ আজিজি

১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০১ PM , আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ PM
দেলোয়ার হোসেন আজিজি

দেলোয়ার হোসেন আজিজি © সংগৃহীত

৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতা দেলোয়ার হোসেন আজিজি। আজ (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই হুশিয়ারি দেন তিনি।

অধ্যক্ষ আজীজি বলেন, ২০০৯ সালে ৭ম পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছিল। এর ছয় বছর পর ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছে। এরপর ১১ বছর যাবৎ কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। অথচ এ সময়ের মধ্যে ২টি পে-স্কেল ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। দ্রুত এই ঘোষণা তথা ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করে। কমিশনের সভাপতি করা হয় সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে। কমিশনকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পর্যালোচনা করে তাদের জন্য একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণ পূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কমিশন গত বছরের ১৪ আগস্ট প্রথম আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। একটি ন্যায়সংগত ও কার্যকরী বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে অনলাইনে মতামত গ্রহণের জন্য চাকরিজীবী, সর্বসাধারণ, প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থা/সমিতির জন্য মোট চারটি প্রশ্নমালা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করে।

পরবর্তীতে পে-স্কেলের স্টেক হোল্ডার প্রায় সব পেশাজীবী গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করে বেতন কাঠামোর ব্যাপারে সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ করে। পে-স্কেলের স্টেক হোল্ডার হওয়ার কারণে ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর প্রতিনিধি হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট নেতৃবৃন্দকে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আহ্বান জানালে জোট নেতৃবৃন্দ জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে মিটিং করে তাদের দাবি-দাওয়া ও প্রস্তাবনা কমিশনের কাছে উপস্থাপন করে। কমিশন প্রস্তাবনাগুলো তাদের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে জোট নেতৃবৃন্দকে আশ্বাস প্রদান করে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে ৭ম পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছিল। এর ছয় বছর পর ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছে। এরপর ১১ বছর যাবৎ কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। অথচ এ সময়ের মধ্যে ২টি পে-স্কেল ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। এভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পে-স্কলের প্রজ্ঞাপন জারি বন্ধ করা হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে এবং রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এজন্য অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়ের মধ্যেই আমরা ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারে জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা ইদানীং গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন যাতে জারি না হয় এ ব্যাপারে বহুমুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারে যাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ নেই তারাও হরহামেশা মতামত দিয়ে যাচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করায় জনরোষ তৈরি হয়েছে। তার নেতিবাচক মন্তব্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠনের ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পক্ষে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হবে। যদি ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না করা হয় তাহলে কমিশন গঠন করে রাষ্ট্রের টাকা কেন অপচয় করা হলো? পে-স্কেলের স্টেক হোল্ডাররা মনে করে, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়ে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে আগামি ৫ বছরেও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে না।

দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পেশাজীবী গোষ্ঠী। আমাদের রয়েছে ৬ লক্ষাধিক পরিবারের অর্ধকোটি সদস্য। কিন্তু আমরা সরকারের বেতনভোগী পেশাজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা হলেই কেবল আমাদের বঞ্চনার অবসান হবে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করছি। যারা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্য উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নির্বাচনী ইশতেহারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করবে শিক্ষক সমাজ তাদের পাশেই থাকবে।

এই শিক্ষক নেতা বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপরও সরকার দাবি মেনে না নিলে জোট নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন হেলালী, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ রাজু।

গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ফল কবে, যা বলছে কর্তৃপক্ষ
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
কবে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা? জানাল ইসি
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবিতে পানি-বিদ্যুতের অপচয় রোধে ছাত্রদলের সচেতনতামূলক কর্মস…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ—এখন কী হবে?
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
১৯৭০ এর দশকের জ্বালানি তেল সংকটের সময় কী হয়েছিল?
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
৪ সিটি কর্পোরেশনে বিশেষ গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬