জাতীয় বেতন কমিশন © ফাইল ছবি
নবম জাতীয় বেতন স্কেলে বিভিন্ন গ্রেডে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। একই সাথে ১৬টি গ্রেডের খবরও চাউর হয়েছে। তবে বিষয়টিকে গুজব বলে জানিয়েছে পে-কমিশন।
মঙ্গলবার রাতে কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলে কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া গ্রেড সংখ্যার বিষয়েও এখনো কমিশনের সদস্যরা একমত পোষণ করতে পারেননি। এ বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা গেলে কমিশন এতদনি তাদের সুপারিশ জমা দিয়ে দিত।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে কমিশনের এক সদস্য দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে এখনো পে-কমিশনের সদস্যরা একমত পোষণ করতে পারেনি। এর মধ্যে বেতন বৃদ্ধি, গ্রেড সংখ্যা, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। ফলে ৯০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি এবং ১৬টি গ্রেডের যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে সেটি সঠিক নয়।’
এদিকে নবম পে-স্কেল নিয়ে স্থগিত হওয়া পূর্ণ কমিশনের সভার নতুন তারিখ চূড়ান্ত করেছে কমিশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে কমিশনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
কমিশনের এক সদস্য বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পে-স্কেল নিয়ে পূর্ণ কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় সভা শুরু হবে। সভায় গ্রেড সংখ্যাসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।’
পে-কমিশন সূত্র জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড নিয়ে তিন ধরনের চিন্তা করছে কমিশন। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেড রয়েছে। কমিশনের অনেক সদস্য মনে করেন বিদ্যমান গ্রেড সংখ্যা একই রেখে যৌক্তিক হারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করতে। তবে এখানে ঘোর আপত্তি রয়েছে কমিশনের আরেকটি অংশের। তারা মনে করেন, গ্রেড সংখ্যা ২০টি থেকে কমিয়ে ১৬টি করা উচিত।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড সংখ্যা ১৬টি করতে অনেক সদস্য একমত হলেও সদস্যদের আরেকটি অংশ চাচ্ছে নবম পে-স্কেলের গ্রেড সংখ্যা ১৪টি করা হোক। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি, গ্রেড সংখ্যা অধিক হওয়ায় বেতন বৈষম্য বেশি হতে পারে। এজন্য গ্রেড সংখ্যা কমানোর পক্ষে তারা।
জানা গেছে, নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন থেকে প্রাপ্ত মতামতগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন (পে-কমিশন)। সম্পূর্ণ প্রতিবেদন লেখার কাজও প্রায় শেষ। তবে কিছু বিষয়ে কমিশনের সদস্যরা একমত না হওয়ায় এখনো সুপারিশ চূড়ান্ত করা যায়নি।
কমিশন জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত একটি সুপারিশ প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিয়েছে কমিশন। এজন্য প্রতিটি সংস্থা, দপ্তর এবং সংগঠন থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এখন লিপিবদ্ধ বিষয়গুলো নিয়ে সদস্যরা একমত পোষণ করলেই চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।