লিওনেল মেসি ও লিওনেল স্ক্যালোনি © সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি কি আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের মুখে এবার মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে একমাত্র মেসিই জানেন।
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ফাইনালের পরও মেসি জাতীয় দলের হয়ে খেলে যাবেন কি না।
হেসেই জবাব দেন আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি কী করে জানব? ওকেই জিজ্ঞেস করুন। সত্যি বলতে আমার কোনো ধারণা নেই। মেসি আমাদের সবসময়ই চমকে দেয়। তাই ভবিষ্যতে কী করবে, সেটা একমাত্র ও-ই বলতে পারবে।’
৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও আছেন সবার ওপরে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে মেসির সামনে গড়ার সুযোগ রয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড। জয় পেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বেন তিনি। ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালেও শিরোপা জিতলে ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম হবে।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও ম্যাচটি হতে পারে মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ফাইনালে একটি গোল করতে পারলেই তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলার হবেন। বর্তমানে এই রেকর্ড সুইডেনের নিলস লিডহোমের, যিনি ১৯৫৮ সালের ফাইনালে ৩৫ বছর ২৬৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন।
একই সঙ্গে এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও নিজের করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্টাবিলে করেছিলেন আট গোল। চলতি আসরে মেসিও ইতোমধ্যে আট গোল করেছেন। ফাইনালে আর একটি গোল করলেই তিনি এককভাবে এই রেকর্ডের মালিক হবেন।
স্পেনকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় এবং মেসি গোল করেন, তাহলে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে রোনালদোর করা আট গোলের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও ভেঙে দিতে পারবেন তিনি।
এ ছাড়া বিশ্বকাপের দুটি ভিন্ন ফাইনালে গোল করা বিশ্বের মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হওয়ার সুযোগও রয়েছে তার সামনে। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ভাভা, পেলে, পল ব্রাইটনার, জিনেদিন জিদান এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে।
তাই স্পেনের বিপক্ষে এই ফাইনাল শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার লড়াই নয়, লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে নতুন ইতিহাস লেখারও একটি বড় মঞ্চ হতে যাচ্ছে।