ইয়ামাল ও মেসি © সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল নির্ধারিত সময়েই হওয়ার কথা। তবে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বায়ুমান খারাপ হওয়ায় ম্যাচ বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ফিফা বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
আগামী ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। এর আগে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ ঢেকে ফেলেছে। ফলে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে একটি পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারে (প্রেডিকশন মার্কেট) বিশ্বকাপ ফাইনাল বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিলম্বিত হবে কি না, তা নিয়ে বাজি ধরা হচ্ছে। সেখানে শর্ত দেওয়া হয়েছে, ফিফা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈরী আবহাওয়া বা বায়ুমানের অবনতিকে ম্যাচ বিলম্বের কারণ হিসেবে ঘোষণা দেয়, তাহলেই সেটি বিলম্ব হিসেবে গণ্য হবে। অন্য কোনো কারণে দেরি হলে তা এই শর্তের আওতায় পড়বে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকার বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের আশা, শনিবারের বৃষ্টি এবং রোববারের শীতল বায়ুপ্রবাহের কারণে ধোঁয়ার ঘনত্ব অনেকটাই কমে যাবে। ফলে ফাইনালের আগে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের আবহাওয়াবিদ অ্যালেক্স ডা সিলভা বলেন, ‘যেসব এলাকায় ধোঁয়ার ঘনত্ব বেশি, সেখানে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকা উচিত।’
আরও পড়ুনঃ আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে সতর্কতা জারি
তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার ভালো বৃষ্টি হবে। এতে ধোঁয়ার বড় একটি অংশ দূর হয়ে যাবে। রোববার সকালে একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ এই এলাকায় প্রবেশ করবে, যা বাকি ধোঁয়াও সরিয়ে দেবে বলে আমরা আশা করছি।’
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও জানিয়েছেন, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে পুরো অঙ্গরাজ্যেই বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি বাসিন্দাদের যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ধোঁয়া ও গরম আবহাওয়া রোববার পর্যন্ত থাকলে খেলোয়াড়দের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডা. ভিন গুপ্তা বলেন, ‘শুধু বায়ুর মানই খুব খারাপ হবে না, গরমও থাকবে। এতে হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এই দুটি বিষয় একসঙ্গে মানুষের শরীরের জন্য খুবই বিপজ্জনক। তাই শরীরের তাপমাত্রা যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তারা সম্ভব হলে স্টেডিয়ামে না গিয়ে বাসায় বসে ম্যাচ দেখুন। প্রয়োজন হলে টিকিট বিক্রি করে দিন, যদি রোববারও বায়ুমান খারাপ থাকে।’
তবে সব আলোচনা ও শঙ্কার মধ্যেও স্বস্তির খবর হলো, এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি রয়েছে। ম্যাচ স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ফিফা কিংবা আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হলেও আপাতত ফাইনাল আয়োজনের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।