আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ © সংগৃহীত
প্রথমার্ধে প্রত্যাশামতোই এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপে অভিষেকেই চমক দেখানো কেপ ভার্দেও দারুণ লড়াই উপহার দিয়েছে এবং ম্যাচটিকে একপেশে হতে দেয়নি।
বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। সেই আধিপত্যের প্রতিফলন হিসেবে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষমেশ মেসির গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
তবে কেপ ভার্দে শুধুই রক্ষণ সামলানোর কৌশল নেয়নি। সুযোগ পেলেই আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে দলটি। যদিও এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কঠিন কোনো পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেনি তারা।
শুরু থেকেই দারুণ সংগঠিত রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক আসরেই নকআউটে ওঠা আফ্রিকার দলটি প্রথম ১৫ মিনিটে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। বরং ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ আসে তাদের দিক থেকেই। সপ্তম মিনিটে রায়ান মেন্ডেসের কাট-ইন থেকে নেওয়া শট নাহুয়েল মোলিনার গায়ে লেগে সহজেই তালুবন্দি করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
১৪তম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পান লিওনেল মেসি। বক্সের ভেতর জায়গা তৈরি করে নেওয়া তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর ফ্রি-কিক থেকেও ভাগ্য পরীক্ষা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, তবে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন।
তবে ২৯তম মিনিটে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি কেপ ভার্দে। নিজেদের অর্ধ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত লম্বা পাস ধরে ডিফেন্ডারদের পেছনে চলে যান মেসি। অসাধারণ প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে এনে বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে কাছের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান তিনি। ভোজিনহার কোনো সুযোগই ছিল না।
এই গোলের মাধ্যমে আরও কয়েকটি ইতিহাস গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল তার ১২তম সরাসরি গোল-অবদান (৬ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট), যা ১৯৬৬ সালের পর সর্বোচ্চ। এই কীর্তিতে তিনি ছাড়িয়ে যান ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
এছাড়া বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ২০তম গোল। একই সঙ্গে টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত, যা তাকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও এগিয়ে দিয়েছে।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় কেপ ভার্দে। ৩২তম মিনিটে সিডনি কাবরালের দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ৪২তম মিনিটে জোভানে কাবরাল দারুণ টার্নে নাহুয়েল মোলিনাকে কাটিয়ে এগোলেও দ্রুত গুছিয়ে নেওয়া আর্জেন্টিনার রক্ষণ সেই আক্রমণ ভেস্তে দেয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪৫তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের প্রথম স্পর্শে নেওয়া জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ভোজিনহা। যোগ করা সময়েও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্কালোনির দল, তবে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়নি।
ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে লিওনেল মেসির একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।