রেফারি © টিডিসি ফটো
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির টাইব্রেকার ট্র্যাজেডির নেপথ্যে শুধুই কি খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা, নাকি রেফারির এক চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত? ম্যাচের ১০২ মিনিটে ডিফেন্ডার জোনাথান টাহের করা গোলটি যেভাবে ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় বাতিল করা হলো, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন নিন্দার ঝড়। খোদ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র স্টুডিওতে বসে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার এই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়ানক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধের বেশ কয়েকটি কর্নার থেকেই ব্যাক-পোস্টে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ওপরে উঠছিলেন জোনাথান টাহ। অবশেষে ১০২ মিনিটের মাথায় (অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ) আরও একটি চমৎকার কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান এই জার্মান ডিফেন্ডার। উল্লাসে ফেটে পড়ে জার্মানির পুরো স্কোয়াড। দীর্ঘ ১০২ মিনিটের একচ্ছত্র চেষ্টার পর অবশেষে ২-১ ব্যবধানে লিড পায় নাগেলসম্যানের দল।
কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী ছিল মাত্র কয়েক মিনিট। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক কার্লোস গিলকে জার্মান ডিফেন্ডার ভালদেমার আন্তন ধাক্কা দিয়েছেন—এমন অভিযোগে ভিএআর চেক করতে রেফারিকে অনুরোধ করা হয়। মাঠের রেফারি মনিটরে রিপ্লে দেখে গোলটি বাতিল ঘোষণা করলে স্তব্ধ হয়ে যায় জার্মানির সাইডবেঞ্চ।
রিপ্লেতে দেখা যায়, আন্তন গোলরক্ষকের পেছনে পজিশন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং গোলরক্ষক গিল নিজেই পেছনে ঘুরতে গিয়ে আন্তনের শরীরে ধাক্কা খান। অত্যন্ত সামান্য স্পর্শে প্যারাগুয়ে গোলরক্ষকের এমন নাটকীয়ভাবে মাঠে লুটিয়ে পড়া এবং রেফারির তাতেই সাড়া দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বিশ্লেষকরা।
বিবিসি-র ধারাভাষ্যে অ্যালান শিয়ারার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমি মনে করি এটি একটি অত্যন্ত ভয়ানক সিদ্ধান্ত ছিল। গোলরক্ষক রেফারি এবং ভিএআর—উভয়কেই প্রতারিত করেছে। যেভাবে সে মাঠে পড়ে গেল, তা এককথায় করুণ ও হাস্যকর।"
দ্য অ্যাথলেটিকের সিনিয়র সাংবাদিক ফিল হে-ও এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "চলতি বিশ্বকাপে রেফারিরা যেখানে শারীরিক ফুটবলে এতটা ছাড় দিচ্ছেন, সেখানে এটিকে কোনোভাবেই ফাউল বলা যায় না। ঈশ্বর আমাদের শক্তি দিন!"
যে টুর্নামেন্টে রেফারিরা সাধারণত অনেক বড় কন্টাক্টেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছেন, সেখানে রাউন্ড অব ৩২-এর মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে এমন একটি ‘সফট’ বা নমনীয় স্পর্শের কারণে নিশ্চিত গোল বাতিল হওয়া জার্মানির বিদায়কে আরও বেশি বিতর্কিত ও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।