ইকুয়েডরের গোল উৎসব © সংগৃহীত
জার্মানি–ইকুয়েডর ম্যাচের ফল নিয়ে আগেই চমকপ্রদ এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল ডর্টমুন্ড চিড়িয়াখানার ওরাংওটাং ‘ওয়াল্টার’। তার পূর্বাভাস ছিল, জার্মানিকে হারাবে ইকুয়েডর। এর আগে করা তার দুটি ভবিষ্যদ্বাণীও সত্যি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এবারও মিলেছে সেই পূর্বাভাস। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জার্মানিকে ২–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল জার্মানির দারুণ। খেলা শুরুর মাত্র ২ মিনিটেই এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বক্সের ভেতর থেকে বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন ফরোয়ার্ড লিরয় সানে।
প্রথমেই পিছিয়ে পড়লেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় ইকুয়েডর। সমতায় ফেরার লক্ষ্যে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ৯ মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় তারা। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া নিখুঁত শটে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন ফরোয়ার্ড নিলসন আনহুলো। চলতি বিশ্বকাপে এটিই ছিল ইকুয়েডরের প্রথম গোল।
সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে ইকুয়েডর। ম্যাচের বাকি সময়ে জার্মানির জালে আরও একটি গোল করে তারা। শেষ পর্যন্ত ২–১ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দেয় দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। আগের দুই ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারা দলটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই নিজেদের সেরাটা উপহার দেয়।
এই জয়ে গ্রুপের তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় অনুকূল অবস্থান নিশ্চিত করে শেষ ৩২-এর টিকিট পায় ইকুয়েডর।
অন্যদিকে হারলেও ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠেছে জার্মানি। তিন ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। সমান ৬ পয়েন্ট পেয়েছে আইভরি কোস্টও। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় আফ্রিকার দলটি গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে খেলবে জার্মানি। আগামী ২৯ জুন শেষ ৩২-এর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ অথবা ‘এফ’ গ্রুপের যেকোনো তৃতীয় সেরা দল।
তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করা ইকুয়েডর তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। ফলে ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে ওঠা নিশ্চিত করল তারা।
ইকুয়েডরের এই জয়ে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউটে ওঠার লড়াইয়ে থাকা স্কটল্যান্ডের সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কুরাসাও তিন ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে থেকে আসর শেষ করেছে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি হওয়ায় একটি ম্যাচ ড্র করতে পারাও তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।