হাইতি-মরক্কো ম্যাচ © সংগৃহীত
শুরুর দিকেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় মরক্কো। ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে আটলাস লায়নরা বিরতির আগেই দুই গোলের জবাব দেয়, আর দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করে আরও দুই গোল। শেষ পর্যন্ত দারুণ এক জয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে তারা।
আটালান্টা স্টেডিয়ামে শেষমেশ হাইতিকে ৪-২ ব্যবধানে হারায় মরক্কো। এই জয়ের ফলে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় তারা। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আশরাফ হাকিমি-ইসমাইল সাইবারিরা।
গ্রুপ ‘সি’-তে তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে মরক্কোর সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। সমান ৭ পয়েন্ট পেয়েছে ব্রাজিলও। তবে গোল ব্যবধানে (+৬) এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, যেখানে মরক্কোর গোল পার্থক্য ছিল (+৩)।
হাইতির বিপক্ষে এই জয়ে মরক্কোর হয়ে গোল করেন আশরাফ হাকিমি, ইসমাইল সাইবারি, সুফিয়ান রহিমি এবং গেসিম ইয়াসিন। অন্যদিকে হাইতির হয়ে একটি গোল করেন উইলসন ইসিডর, আরেকটি গোল ছিল মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনুর আত্মঘাতী।
ম্যাচের শুরু থেকেই আফ্রিকান পরাশক্তিদের স্তব্ধ করে দিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে হাইতি। প্রথমার্ধে দুই দুইবার পিছিয়ে পড়ে চরম খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল মরক্কো। তবে দুইবারই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-২ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।
আসল নাটকের তখনও বাকি ছিল দ্বিতীয়ার্ধে। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত হাইতির রক্ষণদুর্গ ভাঙতে মরক্কোকে বেশ বেগ পেতে হয়। ম্যাচের আট নম্বর কর্নার থেকে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। চতুর এক কর্নার রুটিন থেকে বল ফ্লিক হয়ে পেনাল্টি বক্সে এলে বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমি অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নেন এবং জোরালো শটে টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ান। ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করলেও মরক্কো শিবিরে মেতে ওঠে বাঁধভাঙা উল্লাস। ম্যাচে প্রথমবারের মতো ৩-২ ব্যবধানে লিড নেয় মরক্কো।
এর পর ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আসে সেই বিতর্কিত ও জয় নিশ্চিত করা চতুর্থ গোল। হাইতির ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বাইলাইনের একদম শেষপ্রান্ত থেকে বল কেড়ে নিয়ে কাটব্যাক করেন রাহিমি, আর সেখান থেকে সহজেই ট্যাপ-ইন করে বল জালে পাঠান আরেক বদলি ফুটবলার জেসিম ইয়াসিন। হাইতির খেলোয়াড়রা বলটি বাইলাইনের বাইরে চলে গেছে বলে রেফারির কাছে জোরালো দাবি জানালেও রেফারি ভিএআর যাচাই করে গোলটি বহাল রাখেন। এই ৪-২ গোলের নাটকীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে ব্রাজিলের সঙ্গী হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখল আশরাফ হাকিমিরা।