ড্যাফোডিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল উন্মাদনা © টিডিসি সম্পাদিত
বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা, বিশেষ করে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আবেগ, নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ফুটবলপ্রেম এবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ড্যাফোডিলের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ার পর এবার সেই ভালোবাসার সাড়া দিয়েছেন খোদ ব্রাজিল তারকা নেইমার জুনিয়র।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে খেলা উপভোগ করতে জড়ো হন প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও ফুটবলপ্রেমী। ম্যাচে গোল হওয়ার পরপরই হলুদ জার্সি ও ব্রাজিলের পতাকা হাতে শিক্ষার্থীরা পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত করে তোলেন। একপর্যায়ে সমস্বরে ধ্বনিত হতে থাকে ‘নেইমার, নেইমার’ স্লোগান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার ইফতি সেই মুহূর্তের একটি রিল ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং লক্ষাধিক ফুটবলপ্রেমীর নজর কাড়ে। তবে সবচেয়ে বড় চমক আসে তখনই, যখন ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিধারী তারকা নেইমার জুনিয়র তার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটিতে রিঅ্যাক্ট দেন।
এর আগে, ১৭ জুন আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ, ২০ জুন ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচ এবং ১৪ জুন ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ ঘিরে প্রতিটি ম্যাচে ড্যাফোডিলের প্রায় দশ পনেরো হাজার শিক্ষার্থীর উচ্ছ্বাসের ভিডিও জাতীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকেরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও শেয়ার করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ফক্স সকার, ইএসপিএন, মার্কা, টিওয়াইসি স্পোর্টস, দিয়ারিও ওলে এবং জনপ্রিয় ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো।
প্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন ভার্চুয়ালি সাড়া পেয়ে ড্যাফোডিল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি দেশের ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যেও আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ড্যাফোডিলের ফুটবল সংস্কৃতি ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আলোচিত হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে বিশ্বকাপের আমেজও আরও বেড়ে গেছে।
ড্যাফোডিলের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস সবসময় খেলাধুলাবান্ধব। বড় পরিসরের নিজস্ব ক্যাম্পাস থাকায় খেলাধুলা ও খেলা দেখার আয়োজনগুলোও বিশেষ হয়ে ওঠে। ফুটবল নিয়ে আমাদের উন্মাদনা অনেক পুরোনো। গত বিশ্বকাপেও তা দেখা গেছে। এবার আমরা শুরু থেকেই বিশ্বকে জানিয়ে দিচ্ছি, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ও উচ্ছ্বাস কতটা গভীর। আমরা চাই আমাদের প্রিয় খেলোয়াড়রাও জানুক, বাংলাদেশে তাদের প্রতি ভালোবাসা কতটা ব্যাপক।
ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় থাকা নেইমারের এই ছোট্ট একটি ‘লাইক’ যেন প্রমাণ করে দিল, ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, বাংলাদেশি সেলেসাও সমর্থকদের ভালোবাসা ঠিকই পৌঁছে যায় তাদের প্রিয় তারকার কাছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এখন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, একদিন বাংলাদেশ থেকে ড্যাফোডিলের ফুটবলপ্রেমীদের সমর্থনের বার্তা পৌঁছে যাবে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছেও।