বাবার পর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ছেলেরা

৩০ মে ২০২৬, ০৯:১৩ AM , আপডেট: ৩০ মে ২০২৬, ০৯:১৬ AM
নিকো পাস ও সিমিওনে

নিকো পাস ও সিমিওনে © সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনি শুক্রবার (২৯ মে) এই দল ঘোষণা করেছেন। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে এই দলে বিশ্বকাপ জয়ী ১৭ জন ফুটবলার আছেন। দলে সবচেয়ে বড় চমক দুই তরুণ তারকা নিকো পাজ ও গিলিয়ানো সিমিওনে। তাঁরা এবারই প্রথম আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন। এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ৯৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড তৈরি হলো। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম সাবেক দুই বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারদের ছেলেরা একসঙ্গে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেলেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে। সেবার ফ্রান্সের বোর্দোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে একসঙ্গে খেলেছিলেন পাবলো পাস ও দিয়েগো সিমিওনে। প্রায় তিন দশক পর তাঁদের সন্তানেরা একসঙ্গে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিলেন। আর্জেন্টিনার ফুটবলে বাবার পর ছেলের জাতীয় দলে খেলার উদাহরণ আরও আছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে একই প্রজন্মের দুই সাবেক ফুটবলারের সন্তান একসঙ্গে সুযোগ পাওয়ার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

নিকো পাজের জন্ম স্পেনের সান্তা ক্রুজ দে তেনেরিফেতে। তাঁর বাবা পাবলো পাস ইউরোপে ক্লাব ফুটবল খেলার কারণে সেখানে বাস করতেন। পাবলো পাস আর্জেন্টিনার বাহিয়া ব্লাঙ্কা থেকে উঠে এসেছিলেন। তিনি নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ ও ইন্ডিপেনদিয়েন্তের হয়ে খেলেছিলেন। পরে তিনি ইউরোপে পাড়ি জমান। স্পেনে জন্ম নেওয়া নিকো পাজ রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমিতে বড় হয়েছেন। তিনি বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে খেলছেন। তাঁর বাবা পাবলো পাসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অবশ্য খুব দীর্ঘ ছিল না। তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে মাত্র ১৪টি ম্যাচ খেলেছিলেন।

অন্য তরুণ তারকা গিলিয়ানো সিমিওনের জন্ম ইতালির রাজধানী রোমে। সে সময় তাঁর বাবা দিয়েগো সিমিওনে ইতালির ক্লাবে খেলতেন। দিয়েগো সিমিওনে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম সফল ফুটবলার। তিনি দেশের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। প্রথম আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে তিনি ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে তিনি কোচ হিসেবেও ব্যাপক খ্যাতি পান। তাঁর ছেলে গিলিয়ানো বর্তমানে আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলছেন। গিলিয়ানোর গতি ও লড়াকু মানসিকতার মধ্যে অনেকে তাঁর বাবার ছায়া দেখতে পান।

এই দুই তরুণের বিশ্বকাপ দলে আসার পেছনে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৭ সালে তারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত প্রতিভাবান ফুটবলারদের খুঁজতে একটি বিশেষ স্কাউটিং নেটওয়ার্ক চালু করে। বিদেশে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের দেশের জাতীয় দলে যুক্ত করাই ছিল এর লক্ষ্য। এই বিষয়ে যুব দলের সমন্বয়কারী এনরিকে সেসানা একবার বলেছিলেন, 'বিদেশে জন্ম নেওয়া অনেক তরুণ খেলোয়াড় স্প্যানিশ বা ইতালীয় উচ্চারণে কথা বলতে বলতে জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসে, কিন্তু কিছুদিন পর তারাই হয়ে ওঠে খাঁটি আর্জেন্টাইন।' সেসানা এই প্রসঙ্গে লিওনেল মেসির উদাহরণও দিয়েছিলেন। ছোটবেলায় স্পেনে চলে যাওয়া মেসিকে সময়মতো আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুক্ত করতে না পারলে আজ হয়তো তাঁকে স্পেনের জার্সিতেই দেখা যেত।

এই ঐতিহাসিক দলের পেছনে আরেকটি চমৎকার যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে পাবলো পাসের সতীর্থ ছিলেন রবার্তো আয়ালা। বর্তমানে আয়ালা কোচ স্কালোনির কোচিং স্টাফের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আয়ালা একসময় যাদের সঙ্গে মাঠে খেলেছিলেন, আজ সেই সতীর্থদের সন্তানদের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই পড়েছে। তাই আর্জেন্টিনার এই দলে নিকো পাজ ও গিলিয়ানো সিমিওনের অন্তর্ভুক্তি শুধু দুই তরুণের সাফল্য নয়। এটি আসলে প্রজন্মান্তরে ফুটবলের ঐতিহ্য বহন করার এক অনন্য উদাহরণ।

সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে রানার গ্রুপ, আবেদন ৩০ জুন পর…
  • ২২ জুন ২০২৬
বন বিভাগের আপত্তি উপেক্ষা করে সংরক্ষিত বনে বাউন্ডারি নির্মা…
  • ২২ জুন ২০২৬
অফিসার নিয়োগ দেবে ট্রাস্ট ব্যাংক, আবেদন ৭ জুলাই পর্যন্ত
  • ২২ জুন ২০২৬
এই ছাত্রদল, তোমরা একটু ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করো: শিক্ষামন্ত্রী
  • ২২ জুন ২০২৬
গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ১৫ জুল…
  • ২২ জুন ২০২৬
ম্যাচ শুরু ১১ টায়, দেখে নিন আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ 
  • ২২ জুন ২০২৬