ম্যানুয়েল নয়্যার © টিডিসি ফটো
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন জার্মানির প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। এই দলে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে ফিরেছেন অভিজ্ঞ গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার। ইউরো ২০২৪-এর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। অবসরের সেই সিদ্ধান্ত বদলে এক ফোনকলেই আবারও জার্মান জাতীয় দলে ফিরলেন এই কিংবদন্তি গোলকিপার।
নাগেলসমানের ঘোষিত স্কোয়াডে নয়্যারকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে, কারণ তাঁকে আবারও দলে ফেরানো হয়েছে সরাসরি কোচের আস্থার ভিত্তিতে। দীর্ঘদিনের অবসরের পরও বায়ার্ন মিউনিখে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং অভিজ্ঞতাই তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে জাতীয় দলে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। চোটের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন নিজের মান। এমনকি অবসর নিয়ে গুঞ্জন চললেও সম্প্রতি বায়ার্নের সঙ্গে আরও এক বছরের নতুন চুক্তিও করেছেন নয়্যার।
দল ঘোষণার পর নাগেলসমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিশ্বকাপে জার্মানির প্রথম পছন্দের গোলকিপার হবেন নয়্যারই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গত মার্চেই ওলিকে (ওলিভার বাউমান) জানিয়েছিলাম যে, ম্যানুর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে।’
হফেনহাইমের গোলকিপার ওলিভার বাউমানের জন্য সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল বলেও স্বীকার করেন জার্মান কোচ। তিনি যোগ করেন, ‘তবে ওলি দলের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।’
গোলকিপার নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করে নাগেলসমান বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সেরা তিনজন গোলকিপারকে দলে নেওয়া এবং এই তিনজনই বর্তমানে সেরা। আমরা ম্যানুকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলাম সে আবারও জার্মানির হয়ে খেলতে চায় কি না এবং সে এই টুর্নামেন্টে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এখানে মূলত তাঁর মাঠের পারফরম্যান্স ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা এটিও নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম যে সে খেলা চালিয়ে যাবে নাকি অবসরে যাবে। ম্যানুর যে অভিজ্ঞতা এবং যতগুলো ট্রফি জেতার রেকর্ড আছে, তাতে তাঁর মাঠের উপস্থিতি ও ব্যক্তিত্ব (আভা) কতটা প্রভাব ফেলে, তা সবাই জানে।’
দলের ভেতরের সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে নাগেলসমান আরও খোলামেলা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘পেছনে তাকালে সবসময়ই মনে হতে পারে যে কিছু জিনিস হয়তো আরও ভালোভাবে করা যেত। তবে সেটি করলেই যে সবাই ভালোভাবে গ্রহণ করত—তার কোনো গ্যারান্টি নেই। ফুটবল প্রতিদিনের খবরের বিষয়। আশা করি আপনারা বুঝবেন যে, খেলোয়াড়দের সাথে আমার প্রতিটি কথোপকথনের খুঁটিনাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমি সবসময়ই বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলতে এবং সবাইকে অবগত রাখতে চেষ্টা করি। কখনো কখনো আমি যতটা সফল হতে চাই ততটা পারি না, আবার কখনো কখনো সফল হই।’
স্কোয়াডে আরও বড় চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ লেনার্ট কার্ল। বায়ার্ন মিউনিখে দারুণ পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে অভিষেকেই নজর কাড়েন তিনি। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ফেলিক্স নেমেচা। নিজের অবস্থানে বিশ্বমানের খেলোয়াড় হয়ে ওঠার সব সম্ভাবনাই তার মধ্যে আছে বলে মনে করছেন নাগেলসমান।