ভেষজ গুণে ভরপুর তুলসী পাতা

১১ মে ২০২৫, ০৯:৪২ AM , আপডেট: ৩০ জুন ২০২৫, ০৯:৫৫ AM
তুলসী পাতা

তুলসী পাতা © সংগৃহীত

প্রাকৃতিক প্রতিকারের জগতে তুলসী পাতা এক অমূল্য রত্ন। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে একে ‘জীবনের রক্ষাকবচ’ বলা হয়েছে। আমাদের আশেপাশে সহজলভ্য হলেও তুলসীর স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে অনেকেই সম্পূর্ণভাবে জানেন না। ঠান্ডা-কাশি থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পর্যন্ত, তুলসী পাতা শরীর ও মনের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলুন জেনে নিই এই আশ্চর্য ভেষজ উদ্ভিদের নানা উপকারিতা।

তুলসী পাতার খেলে যেসব উপকার হয়:

১. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়:
একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে অথবা তুলসী পাতার পেস্ট মুখে লাগালে রক্ত এত মাত্রায় পরিশুদ্ধ হয় যে স্কিন ইনফেকশনের আশঙ্কা কমে যায়। সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। আসলে তুলসী পাতায় উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. মুখের দুর্গন্ধ দূর করে:
সকাল সকাল কয়েকটি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে মুখের ভেতর জন্ম নেওয়া নানান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। ফলে মুখ থেকে আর বাজে গন্ধ বের হয় না। প্রসঙ্গত, দাঁতকে নানা জীবাণুর হাত থেকে বাঁচাতেও তুলসী পাতা দারুণ কাজে দেয়।

৩. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:
প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপার্টিজ এবং অ্যান্টি-অ্যাক্সিডেন্ট থাকায় তুলসী পাতা খেলে ক্যান্সার রোগও দূরে পালায়। একাধিক গবেষণা অনুসারে, রোজ যদি তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়া যায়, তাহলে ব্রেস্ট এবং ওরাল ক্যান্সার কমতে শুরু করে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস করে তুলসী পাতার রস খেলে পরিবেশে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর উপাদান আমাদের শরীরকে নষ্ট করতে পারে না। ফলে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৪. কিডনি স্টোন:
তুলসী পতায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে সেখানে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা কমায়। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন যদি মধু দিয়ে তৈরি তুলসী পাতার রস খাওয়া যায়, তাহলে কিডনি স্টোন গলে তো যায়ই, সেই সঙ্গে শরীর থেকে তা বেরিয়েও যায়। প্রসঙ্গত, তুলসী পাতায় যে ডিটক্সিফাইং এজেন্ট রয়েছে তা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে দেয় না। ফেল কিডনিতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।


৫. স্টমাক সম্পর্কিত রোগ কমায়:
গত কয়েক বছরে আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্বে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা, আলসার, ব্লটিং প্রভৃতি রোগের প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আর তুলসী পাতা এইসব রোগ সারাতে দারুণ কাজে আসে। প্রতিদিন এক চামচ তুলসির জুসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে নানা রকমের পেটের রোগ একেবারে দূরে পালায়।

৬.হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:
ইউজেনল নামে বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে তুলসী পাতায়, যা রক্তচাপ এবং কোলেস্টরলের মাত্রাকে স্বাভাবিক রাখে। আর একথা তো সকলেরই জানা যে এই দুটি জিনিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্টের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। আপনি কি কোনও রকমের হার্টের রোগে ভুগছেন? তাহলে রোজ সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসী পাতার চিবিয়ে খান। দেখবেন অল্প দিনেই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

৭. ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুগারের সব থেকে বড় যম। আর এই উপাদানটি বিপুল পরিমাণে রয়েছে তুলসী পাতায়। তাই তো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসী পাতা যদি চেবানো যায়, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। তবে এক সঙ্গে অনেক চুলসি পাতা খেয়ে নিলে কিন্তু হঠাৎ করে শর্করারা মাত্রা কমে গিয়ে অন্য বিপদ হতে পারে। তাই অল্প করে তুলসী পাতার খাওয়া উচিত।


৮. জ্বর ও ঠান্ডা লাগা কমায়:
সেই ছোট বেলা থেকে শুনে আসা কথাটা বাস্তবিকই ঠিক যে জ্বর এবং ঠান্ডা লাগা কমাতে তুলসির কোনও বিকল্প নেই। আসলে তুলসী পাতা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও জোরাল করে দেয়। ফলে রোগভোগ কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয় এতে উপস্থিত অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি নানা ধরনের সংক্রমণ থেকেও আমাদের দূরে রাখে।

৯. মাথা যন্ত্রণা কমায়:
একটা বড় পাত্রে জল নিয়ে তাতে কয়েকটা তুলসী পাতা ফেলে দিন। তারপর সেই জলটা ফুটিয়ে নিন। এবার মাথা টাওয়ালে ঢেকে সেই জলের ভাব নিলে দেখবেন মাথা যন্ত্রণা কমে যাবে। আসলে তুলসী পাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে য নিমেষে মাথা যন্ত্রণা কমিয়ে ফেলতে কার্যকরী ভূমিকা নেয়।

১০. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:
নানা ধরনের ছোট-বড় চোখের রোগ সারাতে তুলসী পাতার কোনও বিকল্প নেই। প্রসঙ্গত, ভিটামিন- এ-র ঘাটতির কারণে যে যে চোখের রোগ হয়, সেগুলির প্রকোপ কমাতে দারুণ কাজে আসে তুলসী পাতা।

১১. ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায়:
বেশ কিছু গবেষণা অনুসারে তুলসী পাতায় উপস্থিত ক্যাম্পেইনে, ইগোয়েনাল এবং সিনেওল নামক উপাদান, ফুসফুস সংক্রান্ত রোগের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি লাং-এর কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগের চিকিৎসাতেও তুলসী পাতা দারুণভাবে সাহায্য করে থাকে।

১২. স্ট্রেস কমায়:
শরীরে অ্যান্টি-স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে তুলসী পাতা দারুণ কাজে দেয়। ফলে স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে। আসলে তুলসী পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি স্ট্রেস এজেন্ট রয়েছে, যা রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর উপাদানের শক্তি কমতে থাকে, সেই সঙ্গে কমতে শুরু করে স্ট্রেসও।

ফাইনালের আগে বড় দুঃসংবাদ দিলেন মার্তিনেজ
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
বরগুনায় ইসমাইল শাহ’র মাজারে ফের অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
যশোরের এইচআইভি সংকেত: নীরবতার নয়, সচেতনতার সময়
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
এইচএসসিতে আজ কেউ বহিষ্কার হয়নি
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
বিয়ের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ২, কনে আইসিইউতে, বর-সহ ১২ …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
যে ৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা, কী বলছে আবহাওয়ার পূর্…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence