শুভ জন্মদিন নায়ক রাজ রাজ্জাক

২৩ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৪৬ AM

© ফাইল ফটো

নায়ক রাজ। এই দু’শব্দেই হয়তো বুঝে গেছেন কার কথা বলা হচ্ছে। হ্যাঁ বলছি নায়ক রাজ রাজ্জাকের কথা। ২৩ জানুয়ারি বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি এই অভিনেতার জন্মদিন আজ। শুভ জন্মদিন নায়ক রাজ।

নায়ক রাজের জন্ম ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকতার টালিগঞ্জে। তার প্রকৃত নাম আব্দুর রাজ্জাক। টালিগঞ্জের মোল্লা বাড়ির আকবর হোসেন ও মা মিনারুন্নেসার ছোট সন্তান তিনি। জন্মের পর কলকাতায় বেড়ে ওঠা রাজ্জাকের। কখনই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিলো না তার। ইচ্ছে ছিলো খেলোয়াড় হওয়ার।

কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মঞ্চ নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য তার স্পোর্টস শিক্ষক তাকে বেছে নেন। অনেকটা অনিচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষকের কথায় তিনি অভিনয় করেন। কিন্তু আশ্চর্য্জনকভাবে তার অভিনয় দেখে সবাই মুগ্ধ হন। এই থেকেই তিনি অভিনয়ের আনন্দ পেতে শুরু করেন।

সিনেমার নায়ক হওয়ার অদম্য স্বপ্ন ও ইচ্ছা নিয়ে রাজ্জাক ১৯৫৯ সালে ভারতের মুম্বাইয়ের ফিল্মালয়তে সিনেমার ওপর পড়াশুনা ও ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন। এরপর কলকাতায় ফিরে এসে শিলালিপি ও আরও একটি সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে ১৯৬৪ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কবলে পড়ে রাজ্জাক তার পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় চলে আসতে বাধ্য হন।

ঢাকায় আসার পর তার সংসার খুব কষ্টে কাটতে থাকে। কোন উপার্জনের অভাবে খেয়ে না খেয়েই চলতে থাকে তার সংসার। এ সময় তার পরিচয় হয় ঢাকার প্রথম ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পরিচালক আব্দুল জব্বার খানের সঙ্গে। তার সহযোগিতায় বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ইকবাল ফিল্মস লিমিটেডে পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারী হিসেবে রাজ্জাকের একটি চাকরি হয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে রাজ্জাকের প্রথম ছবি ‘উজালা’।

ইকবাল ফিল্মস-এ কাজ করার পাশাপাশি কিছু চলচ্চিত্রে ও টিভি নাটকে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেন। এসময় তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। এরপর সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের ‘তেরো নাম্বার ফেকু অস্তাগড় লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সবার কাছে তার মেধার পরিচয় দেন।

সেলুলয়েড জগতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য দুঃখ-কষ্ট আর অভাব অনটনের মাঝেও চালিয়ে যান অক্লান্ত সাধনা। একদিন হঠাৎ করেই সুযোগ পান নায়ক হবার। বরেণ্য চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান রাজ্জাককে ‘বেহুলা’ ছবিতে নায়ক হিসেবে কাজ করান। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সুচন্দা। ১৯৬৮ সালে মুক্তি পায় ‘বেহুলা’। এর পরের ইতিহাসটা সবারই জানা। একে একে অভিনয় করেন কাগজের নৌকা, আগুন নিয়ে খেলা, যোগ বিয়োগ, আবির্ভাব, জীবন থেকে নেয়া, রংবাজ, অবুঝ মন, চোর, নাচের পুতুল, নীল আকাশের নীচে, ময়না মতি, মনের মতো মন, লাইলি মজনু এর মত কালজয়ী সব চলচ্চিত্রে যা জয় করে নেয় মানুষের মন।আর সবার মনে ঠাই করে নেন নায়ক রাজ হিসেবে।

পারিবারিক জীবন

১৯৬২ সালের ২ মার্চ কলকাতার টালিগঞ্জে খায়রুন্নেসাকে বিয়ে করেন রাজ্জাক। বিয়ের পরপরই রাজ্জাকের জীবনে একের পর এক সাফল্য আসতে থাকে। নায়করাজ তখন থেকেই ভালোবেসে স্ত্রীকে লক্ষ্মী বলে ডাকতে শুরু করেন এবং এখনো লক্ষ্মী নামেই ডাকেন। নিজের প্রতিটি কাজের সঙ্গেই নিজের স্ত্রীর নাম যুক্ত রেখেছেন তিনি। যেমন তার বাড়ির নাম ‘লক্ষ্মীকুঞ্জ’, প্রযোজনা সংস্থা ‘রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন’। এছাড়া তিনি ১৯৮৪ সালে ঢাকার উত্তরায় গড়ে তোলেন একটি শপিংমল যার নাম দেন ‘রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স’। নায়ক রাজের তিন ছেলে এবং দুই মেয়ে, তার বড় মেয়ে থ্যালাসেমিয়ায় মারা গেছেন। বড় ছেলে বাপ্পারাজ ও ছোট ছেলে সম্রাটও অভিনয় করেন।

পুরস্কার

এ পর্যন্ত মোট সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা (২০১৪) , এছাড়াও বাচাসাস সহ বহু সংগঠনের অসংখ্য পদক জয় করেছেন নায়ক রাজ রাজ্জাক।
অন্যদিকে নায়করাজ সর্বশেষ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘আয়না কাহিনী’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। এই চলচ্চিত্রে জুটি হিসেবে অভিনয় করেছিলেন সম্রাট ও কেয়া। এরপর আর নতুন কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণে তাকে দেখা যায়নি।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে মামল…
  • ১০ জুন ২০২৬
সীমান্তে পুশইন বন্ধ না হলে লংমার্চ করবে ছাত্র অধিকার পরিষদ 
  • ১০ জুন ২০২৬
জুনে পে-স্কেলের গেজেট জারি নিয়ে যা বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়
  • ১০ জুন ২০২৬
সরকারি হচ্ছে আরও একটি কলেজ
  • ১০ জুন ২০২৬
প্রস্তুতি ম্যাচে নজর কাড়লেন আর্জেন্টিনার যে ৫ ফুটবলার
  • ১০ জুন ২০২৬
তিন দফায় কমে সোনার বাজারে বড় পতন, এবার ভরি কত?
  • ১০ জুন ২০২৬