চীনা ভাস্কর্যে বাংলাদেশি আনিসুলের ‘মানবতার গল্প’

১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:০৮ PM
শিল্পী আনিসুল হকের ভাস্কর্য

শিল্পী আনিসুল হকের ভাস্কর্য

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভাস্কর্য শিল্পী আনিসুল হকের প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে চীনের নানজিং ইউনিভার্সিটি অব দ্যা আর্টসে (এনইউএ)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিপার্টমেন্ট অব সিরামিকের মাস্টাসের্র শিক্ষার্থী। গত ৬ জানুয়ারি চার দিনব্যাপী ‘আনফর্চুনেট অ্যাস্পেক্টস অব হিউমিনিটি’ শীর্ষক তাঁর একক প্রদর্শনী শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ডিজাইনের আর্টস গ্যালারিতে। আনিসুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মৃৎশিল্প বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন এনইউএ’র ডিপুটি ডিরেক্টর ড. ইউ রুই। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব ডিজাইনের ডিন জিয়াং জি, স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ডিন কো বাফেং এবং সিরামিক বিভাগের অধ্যাপক লু বিন। প্রদর্শনীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ চিত্রশিল্পী কুরিন অ্যাবোট।

প্রদর্শনী দেখছেন দর্শকরা

 

‘আনফর্চুনেট অ্যাস্পেক্টস অব হিউমিনিটি ’শীর্ষক মৃৎশিল্পের প্রদর্শনীতে বিশ্বে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ যুদ্ধে ভুক্তভোগী অসহায় মানুষের প্রতিচ্ছবি ফুটে তুলা চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান শিল্পী আনিসুল হক। তিনি জানান, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় নানজিংয়ে কী ভয়াবহ অবস্থা হয়েছিল তা আমি জানি না। তবে নানজিং গণহত্যা যাদুঘরে গিয়ে আমি অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ি।

শিল্পী আনিসুল হকের মৃৎ শিল্প

 

আনিসুল হক বলেন, অনুরূপভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে কী ঘটেছিল তা অনুধাবনের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি বর্তমানে মায়ানমার, সিরিয়া, ইয়ামেনসহ বহু অঞ্চলে ভুলণ্ঠিত মানবাধিকারের বিষয়ে হতবাক হয়ে যাই। জোরপূর্বক নিজ দেশের সীমানা পার হয়ে আসা একজন শরণার্থীর পক্ষে পুনরায় নিরাপদে মাতৃভূমিতে ফেরত যাওয়া অসম্ভব। তারা মুক্তভাবে কথা বলতে চায় কিন্তু তা তাদের দ্বারা হয়ে ওঠে না। নিজেদের সহায়হীন ভাবতে শুরু করে। চেষ্টা করে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দৃশ্যপট ভুলে থাকতে। চাইলে কী তা পারা যায়? এরপরও অপেক্ষায় থাকে মুক্তভাবে বাঁচার। ভাস্কর্যের মধ্যে দিয়ে অসহায় এই মানুষগুলোর কষ্টের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন শিল্পী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথির সাথে আনিসুল হক

 

তাই আনিসুল হক চলমান অন্যায় সম্পর্কে সাধারণ মানুষদের সচেতন করে তুলা তাঁর গুরু দায়িত্ব মনে করেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে জাতি সংঘের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য শিল্পীর অনেক কিছু করার আছে। তাই জাত, বংশ, ধর্ম এবং দেশের সীমানা চিন্তা না করে সবার উচিত শান্তি, সাম্য, মানবাধিকার, ন্যায় বিচার এবং ভালো ভবিষ্যত গড়ার পক্ষে আওয়াজ তুলা। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করাই উদ্দেশ্য বলে জানান শিল্পী আনিসুল।

অতিথিদের সাথে শিল্পী আনিসুল হক

 

প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে শিল্পী আনিসুল হক বিভিন্ন মৃৎশিল্প প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে আসছেন। ইতোমধ্যে ফিনল্যান্ড, কোরিয়া, চীনের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশে জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় আয়োজিত বিভিন্ন প্রদর্শনীতে নিয়মিত তাঁর চিত্রকর্মসমূহ প্রদর্শিত হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ-বিউটিফুল চাইনা সেকেন্ড ইয়াং আর্টিস কম্পিটিশন’এ পুরস্কার বিজয়ী হন তিনি।

মরক্কোর বিপক্ষে শুরুর একাদশ চূড়ান্ত আনচেলত্তির, জায়গা হয়নি …
  • ১২ জুন ২০২৬
১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের কর্মী রাখলেই কর ছাড় পাব…
  • ১২ জুন ২০২৬
প্রস্তাবিত বাজেটের মূলনীতি জানালেন‌ মাহদী আমিন 
  • ১২ জুন ২০২৬
যেভাবে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত এআই রোবটদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে…
  • ১২ জুন ২০২৬
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শতভাগ পে-স্কেল ও উৎসব ভাতার দাবি
  • ১২ জুন ২০২৬
সন্ধ্যার মধ্যে যে ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
  • ১২ জুন ২০২৬
×