সিনেমা হল। নায়িকা বুবির প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন নায়ক ছামাদ খান। কীভাবে, কী করা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে তা আলাপ করে নিলেন। পরদিন সক্কাল সক্কাল কলেজে এসে যখন ইয়া বড় বড় ভালোবাসার ডায়লগ ঝাড়তে শুরু করলেন, নায়িকা রুনু তো তখন রীতিমতো অস্থির! কী আর করা. শুরু গেলো গান ‘লালালা... লা.. . লালা...!। হচকচিয়ে ওঠা দর্শক বলে উঠলো— OMG (ওএমজি)!
ফেসবুক আসার পর এই শর্ট ফর্মের এতই জনপ্রিয়তা বাড়ে যে, ‘ওএমজি’ লেখা জিফ ইমেজ ও স্টিকারও চলে আসে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোয়। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে, অবাক হওয়ার মতো কিছু হলেই চোখ গোলগোল, আর মুখে ‘ওএমজি’!
কিন্তু কী ভাবছেন, এই শব্দবন্ধ আধুনিক প্রজন্মের হাত ধরেহালে এসেছে? মোটেই না। বরং এ শব্দের ইতিহাস ও বয়স জানলে চমকে যেতে পারেন। ছোট্ট এই শব্দবন্ধ কোত্থেকে আমদানি হয়েছে, কী-ই বা তার ইতিহাস তা জানার আগে, দেখে নিই এর বয়স। ২০১৮-তে ১০১ বছর পূর্ণ করে ফেলল ‘ওহ মাই গড’-এর শর্ট ফর্ম ‘ওএমজি’। এ শব্দের আমদানি বহু প্রাচীন। এই শব্দের জনক ব্রিটিশ ফার্স্ট সি লড লর্ড ফিশার। ১৯১৭ সালে ৯ সেপ্টেম্বর উইন্সটন চার্চিলকে একটি চিঠি লেখেন তিনি। সেখানেই এই শব্দবন্ধের প্রথম ব্যবহার করেন তিনি। চার্চিলের যাতে বুঝতে অসুবিধা না হয়, তাই ওএমজি-র পুরো কথাও লিখে দেন চিঠিতে।
১৯১৭ সালে লেখা চিঠি
আশির দশকের শুরুর দিকে কানাডার ক্যালগারিতে ওয়ায়নে পিয়ারসন নামের এক ছাত্র তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় এই শব্দ প্রথম ব্যবহার করে। এখনও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় অট্টহাসি বোঝাতে এই শব্দ প্রায়শই ব্যবহার করে তরুণ প্রজন্ম।
বর্তমানে এই শব্দ এতটাই প্রচলিত হয়ে ওঠে যে, ২০১২ সালে এই অ্যাব্রিভেয়েশনকে ব্যবহার করে বলিউডে একটি ছবির নাম রাখা হয়। অক্ষয় কুমার, পরেশ রাওয়াল, মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত ‘ওএমজি’ বেশ জনপ্রিয়তাও পায়।